শুধু রাষ্ট্রসঙ্ঘের পর্যবেক্ষকরাই সিরিয়ার পরিস্থিতি লক্ষ্য করছেন না, বরং তা দেখা হচ্ছে মহাকাশের কক্ষপথে থাকা কৃত্রিম উপগ্রহ থেকেও. কিন্তু এটা সরকারি ফৌজের সঙ্গে সশস্ত্র অশান্ত বিরোধীদের আরও একটি সংঘর্ষের জন্য অন্তরায় হতে পারে নি. ১২ই এপ্রিল সকাল থেকে সব পক্ষের স্বীকৃত অগ্নি সম্বরণ নিয়মিত ভাবেই ভঙ্গ করা হচ্ছে.

    হাম, জাবাদানি ও দুমা শহরে সরকারি ফৌজ আবার শহরের নানা এলাকায় গোলা বর্ষণ করেছে. সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া ঘোষণা অনুযায়ী সেখানে সশস্ত্র সন্ত্রাসবাদীদের দল লুকিয়ে রয়েছে. বিরোধী পক্ষ বলে যাচ্ছে যে, গুলি চালানো হয়েছে বসত বাড়ী এলাকা লক্ষ্য করে.

    দামাস্কাসেও নতুন করে হিংসার বুত্পত্তি হয়েছে. সেখানে শহরের মাঝখানে মঙ্গলবারে একটি মাইন ভর্তি গাড়ী বিস্ফোরণ হয়েছে. তিন জন নিহত, আহত লোকও রয়েছে. সরকার বিশ্বাস করে – এই বিস্ফোরণ আয়োজন করেছে সন্ত্রাসবাদী দল. জঙ্গীদের হাতে দামাস্কাসের উপকণ্ঠে দুই জন সিরিয়ার সামরিক বাহিনীর অফিসার খুন হয়েছেন.

    রাষ্ট্রসঙ্ঘের সঙ্গে চুক্তি থাকাতেও দামাস্কাস জনপদ থেকে সেনা বাহিনী সরিয়ে নিয়ে যায় নি ও শহরে সাঁজোয়া গাড়ী রেখে দিয়েছে. এই ভর্ত্সনা সিরিয়ার প্রশাসনকে করেছেন আহমাদ ফাভজি – রাষ্ট্রসঙ্ঘ ও আরব লীগের বিশেষ প্রতিনিধি কোফি আন্নানের মুখপাত্র. তিনি মহাকাশ থেকে তোলা ছবি দিয়ে এর সপক্ষে প্রমাণ দিয়েছেন. আর কোফি আন্নান রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদের মঞ্চ থেকে যুদ্ধবিরতি ভঙ্গের জন্য উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন.

    কোফি আন্নান মঙ্গলবারে সিরিয়াতে রাষ্ট্রসঙ্ঘের তরফ থেকে নিরস্ত্র পর্যবেক্ষকদের পাঠানোর গতি দ্রুত করতে আহ্বান করেছেন. এখন সেখানে দশ জনের প্রথম দল রয়েছে. সব মিলিয়ে মিশনের লোক হওয়ার কথা তিনশ. এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছে শনিবারে নিরাপত্তা পরিষদ. একই সময়ে কিছু রাষ্ট্রসঙ্ঘের বিশেষজ্ঞের মতে শুধু প্রথম একশ জনকে সেখানে পাঠাতেই সময় লাগবে এক মাসের বেশী.

    একই সময়ে রাশিয়ার বিজ্ঞান একাডেমীর প্রাচ্য অনুসন্ধান ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ ইরিনা জ্ভিয়াগেলস্কায়া হতাশার সঙ্গে উল্লেখ করেছেন যে, সঙ্কটের সর্বরোগহর ওষুধ রাষ্ট্রসঙ্ঘের পর্যবেক্ষক বেড়ে যাওয়াতে নেই, তিনি বলেছেন:

    “এমনকি যদি পর্যবেক্ষকদের সংখ্যা বাড়ানোও হয়, পরিস্থিতি নীতিগত ভাবে সমাধান বিহীণ. এখানে রক্তক্ষয় অনেক দিন পর্যন্ত চলবে. এখন আমার মতে কিছু হঠাত্ করে করা সম্ভব নয়. এখন সবচেয়ে বড় বিপদ হল- খুবই কঠোর সংঘর্ষ, যা চালু রয়েছে. আসাদকে এই বিষয়ে দোষ দেওয়া যায় যে, তিনি কোন শর্ত পালন করেন নি, শহর গুলি থেকে ভারী সামরিক গাড়ী ফিরিয়ে নিয়ে যান নি. নিজের পক্ষ থেকে আসাদ এই রকমের অভিযোগ করতেই পারেন যে, তিনি খুশীর সঙ্গেই এটা করতে তৈরী আছেন, কিন্তু পেরে উঠছেন না, কারণ এখন সন্ত্রাসবাদী ও জঙ্গীরা কাজ করেই চলেছে. আর তিনি এই সব শহর গুলিকে নিরাপত্তা বিহীণ ভাবে রেখে দিতে পারেন না. ফলে আমরা এখন দেখতে পাচ্ছি রক্তক্ষয় চলছে”.

    বুধবারে মস্কো শহরে সিরিয়ার আভ্যন্তরীণ বিরোধী পক্ষের প্রতিনিধি দল এসেছেন. এঁরা সিরিয়ার জাতীয় পরিবর্তন ও স্বাধীনতা ফ্রন্টের প্রতিনিধি. তাঁদের সঙ্গে আলোচনার জন্য সেই একই প্রশ্ন রয়েছে – কি করে দেশে এক বছরেরও বেশী সময় ধরে চলা হিংসা বন্ধ করা যায়. বৃহস্পতিবারে বিরোধী পক্ষের সঙ্গে দেখা করবেন রাশিয়ার পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রধান সের্গেই লাভরভ.