ব্রাসেলস শহরে বিগত রাশিয়া- ন্যাটো জোটের সম্মেলনে আবারও আফগানিস্তানের পরিস্থিতি নিয়ে নিয়মিত ভাবে রাশিয়া ও জোটের বিশেষজ্ঞ পর্যায়ের সাক্ষাত্কার নিয়ে কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় নি.

    রাশিয়ার পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রধান সের্গেই লাভরভ এই ধরনের পরিস্থিতিকে রাশিয়ার প্রতি “অন্যায় ও অসত্” বলে উল্লেখ করেছেন. তাহলে কি রাশিয়া ও ন্যাটো জোটের আফগানিস্তান সংক্রান্ত সহকর্মী মূলক সম্পর্কে ফাটল ধরেছে? “রেডিও রাশিয়ার” সমীক্ষক পিওতর গনচারভ এই বিষয়ে মন্তব্য লিখেছেন.

    এই আবারও একটি পুরনো রোগের নতুন করে “বসন্তের প্রাদুর্ভাবের” মূল কারণ হল ব্রাসেলস পক্ষ থেকে রাশিয়াকে সেই রাজনৈতিক রসুই ঘরে ঢুকতে না দেওয়ার ইচ্ছা, যেখানে তৈরী করা হচ্ছে এই জোটের পক্ষ থেকে সেই দেশে মিশন শেষ করার ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ফর্দ. তারই মধ্যে, এখন এই অঞ্চলে কেউই কোন সন্দেহ করছে না যে, ন্যাটো জোট আফগানিস্তান থেকে ২০১৪ সালে চলে যাওয়ার পরে এই দেশে অবশ্যম্ভাবী ভাবেই নতুন সামরিক- রাজনৈতিক পরিস্থিতি শুরু হবে. আর তা সবচেয়ে সরাসরি ভাবে প্রতিবেশী দেশ গুলির উপরে প্রভাব ফেলবে.

    তাজিকিস্তানের রাজনীতিবিদ ও সেই দেশের রাষ্ট্রপতির প্রাক্তন রাজনৈতিক পরামর্শদাতা ইব্রাহিম উসমনভ মনে করেন যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটো জোট এক সময়ে আফগানিস্তানে ঢুকেছিল খুবই কম ধারণা নিয়ে যে, তারা কোথায় কোন দেশের সাথে কাজ করছে. আর আবার চলে যেতেও বসেছে একেবারেই না ধারণা করে যে, যাওয়ার পরে এর কি পরিনাম হতে চলেছে. এই প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন:

    “যদি সন্ত্রাস বিরোধী জোট, যা আজ আফগানিস্তানে রয়েছে, তা স্রেফ ভগবান না করুন, এমন ভাবে শুধু সেই দেশ থেকে চলে যায়, তাহলে সেখানে একেবারেই পূর্বানুমান অযোগ্য পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে ও তা তাজিকিস্তানের দক্ষিণের সমগ্র এলাকা জুড়েই হবে”.

    এই সামরিক বাহিনী ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া, যা এখন জানা রয়েছে যে, ২০১৪ সালের শেষের মধ্যেই হবে, আর প্রধান আফগানিস্তানের সমস্যা গুলি এখনও কোনও সমাধান করা হয় নি, আর সেই গুলি সবার আগে জানা নেই যে, ভবিষ্যতেও কোনও সমাধান হবে কি না. আগের মতই আফগানিস্তানের পক্ষ থেকে অনেক প্রশ্নের উদ্রেক করে তারা নিজেরা নিজেদের দেশের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে তৈরী কি না. আফগানিস্তানের সামরিক বাহিনী ও পুলিশের হাতা সেই ধরনের সামরিক অস্ত্র ও যন্ত্র প্রযুক্তি নেই, যা আজ রয়েছে ন্যাটো জোটের বিশেষ বাহিনীর কাছে – এখানে মনে করা হচ্ছে সাঁজোয়া গাড়ী ও হেলিকপ্টারের কথা. একই সঙ্গে সেই আফগানিস্তানের সামরিক বাহিনী ও পুলিশ বাহিনীকে সেই তালিবদের বিরুদ্ধেই লড়তে হবে, যারা আজ ন্যাটোর বিরুদ্ধে লড়াই করছে.

    শেষ পর্যন্ত কাবুলের সঙ্গে তালিবদের আলোচনার বিষয়েও কিছু ঠিক নেই, যদিও দোহা শহরে ওয়াশিংটনের ব্যাখ্যা অনুযায়ী এই কারণেই কাবুলের সঙ্গে সরাসরি যাতে কথা বলা সম্ভব হয়, তাই তালিবদের দপ্তর খুলে দেওয়া হয়েছিল. এক কথায় সমাধান করা হয়নি এমন সমস্যা প্রচুর. আর খুবই সম্ভাব্য মনে হচ্ছে যে, আফগানিস্তানের কাছের ও দূরের প্রতিবেশীরা, তাদের মধ্যে রাশিয়াও রয়েছে, সকলেই খুবই এই ব্যাপারে উদ্বিগ্ন.

    সেই ইব্রাহিম উসমনভ নিজেই মনে করেন যে, ন্যাটো আফগানিস্তানে স্থিতিশীলতা প্রসঙ্গ সমাধানের ক্ষেত্রে আঞ্চলিক রাষ্ট্র গুলির সঙ্গে সহযোগিতার ভিত্তি স্থাপন করতে বাধ্য. তিনি বলেছেন:

    “আমি মনে করি এখন তৈরী হওয়া পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক জোটের পক্ষে সবচেয়ে ভাল বের হয়ে আসার পথ হতে পারত বেশী করে সেই সমস্ত দেশের সঙ্গে সহযোগিতা করায়, যাদের অভিজ্ঞতা রয়েছে আফগানিস্তানের সামরিক শক্তিকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার ও প্রস্তুত করার জন্য. এই সমস্ত দেশের সহযোগিতায় প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা বজায় রাখা ও শুধু তার পরেই নিজেদের শক্তি প্রত্যাহার করা. কিন্তু এই বিষয় নিয়ে অবশ্যই কাজ করার দরকার রয়েছে. অর্থাত্ আগে প্রয়োজন আফগানিস্তানের সামরিক শক্তিকে তৈরী করা, যাতে তারা দেশে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা বজায় রাখতে পারে”.

    আফগানিস্তানের ভবিষ্যত – এটা খুবই গুরুতর প্রশ্ন, যা মোটেও ন্যাটো জোটের সদস্য রাষ্ট্রগুলির বদ্ধ গোষ্ঠীর মধ্যে আলোচনা করা যেতে পারে না. আর আফগান রাষ্ট্র ও তাদের প্রতিবেশী দেশ গুলিরও অধিকার রয়েছে অন্তত পক্ষে জানার যে, ন্যাটো জোটের সদস্যরা এই নিয়ে কি ভাবছে.