ইউরোপের রাজনৈতিক উচ্চ মহলের লোকরা স্বীকার করেছেন: এই মহাদেশে নানা ধর্ম ও সংস্কৃতির লোকদের মিলে মিশে থাকার ধারণা এবারে ব্যর্থ হয়েছে. কিন্তু নতুন এক সাথে থাকা নিয়ে কোনও ধারণার উত্পত্তি এখনও হয় নি. আর এই ধরনের পরিস্থিতি বিপজ্জনক. বহু সংস্কৃতি সমন্বয়ের ধারণার সঙ্গে লড়াইয়ের জন্য ও তথাকথিত ইউরোপীয় সংস্কৃতিকে বিপদের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য ভবিষ্যতে প্রতিরক্ষার স্লোগান ঘাড়ে করে দাঁড়াতে পারে নানা সন্ত্রাসবাদী একক লোক, যেমন আনদের্স ব্রেইভিক. আর শুধু একক ব্যক্তিরা নয়.

    “নরওয়ে দেশের বন্দুকবাজ”, তার নিজের কথামতোই, এই কাজ করেছে খুবই ভাল উদ্দেশ্য নিয়ে. সে নরওয়ে ও ইউরোপকে সব মিলিয়ে নিজেদের সংস্কৃতির ও জাতীয় অস্তিত্বের স্খলনের জন্য দায়ী করেছে. বিচারকদের ব্রেইভিক বলেছে যে বহু সংস্কৃতির সমন্বয়ের বিরুদ্ধে ক্রুসেড শুরু করেছে ও “ইউরোপে মুসলমানদের আগ্রাসনের” বিরুদ্ধেও. একক ব্রেইভিক – এটা ইউরোপে জাতীয়তাবাদী মানসিকতার দ্রুত বৃদ্ধির প্রকাশ ও ইউরোপের ঐক্যবদ্ধ গৃহ রাজনীতির ধ্বংস হওয়ার প্রমাণ, এই কথা উল্লেখ করে রাজনীতিবিদ ভালেরি অস্ত্রভস্কি বলেছেন:

    “জাতীয়তাবাদী মানসিকতার বৃদ্ধি – ইউরোপীয় সংস্কৃতি সমন্বয় নীতি অবক্ষয়ের সূচক, যা বিগত তিন দশক ধরে তৈরীর চেষ্টা হয়েছে, আর যার পতনের কথা স্বীকার করেছেন সারকোজি, মেরকেল ও ক্যামেরন. এই ধ্বংসের প্রতিক্রিয়া নানা রকমের: ব্রেইভিকের মতো নিষ্ঠুর প্রকট হওয়া থেকে আইন সম্মত ও সংবিধান সম্মত প্রকাশ অবধি – যেমন, হল্যান্ডের স্বাধীনতা দল অথবা ফরাসী দেশের মারিন লি পেনের নেতৃত্বে জাতীয় ফ্রন্ট”.

    সমস্ত রকমের পূর্ব প্রস্তুতি রয়েছে যাতে, এই সব চরম দক্ষিণ লোকেরা এর পরেও জন সম্মতির জোয়ারে থাকতে পারে. বহু সংস্কৃতি সমন্বয় নীতির সঙ্কট চলছে অর্থনৈতিক সঙ্কটের মধ্যেই. আর যখন সামাজিক সমস্যা গুলিকে এড়ানো যাচ্ছে না, তখন সেখানের পুরনো অধিবাসীরা দাবী করছে নিজেদের জন্য সব সুবিধা বজায় রাখতে ও অন্যদের তা না দিতে, আর তারাই এই দক্ষিণপন্থী দের সমর্থন করছে.

    তা এই দক্ষিণপন্থীরা কি চায় – এই সম্বন্ধে বিচার করা সম্ভব ইতালির চরম দক্ষিণপন্থী দল লা ডেস্ট্রার নেতা ফ্রানচেস্কো স্তোরাচে কি বলছে তা শোনা হলে:

    “বেআইনি অভিবাসন বন্ধ করতে হবে. আমাদের অভিবাসিত লোকদের বাধ্য করতে হবে, যাতে তারা এখানের লোকদের ঐতিহ্য, আইন ও নিয়ম মেনে চলে. আর এটা করতে দেওয়া যাবে না যে, আমাদের কাছে সবাই এসে জুটবে, যেন এক রূপকথার প্রাচূর্য্যের দেশে আসা হয়েছে. ইতালি সেই ধরনের দেশ নয়, যে দেশ নিজেদের দেশে সবাইকে জায়গা করে দিতে পারে, ইউরোপও পারে না. এখানে খুব বেশী জন প্লাবন হয়ে গিয়েছে”.

    নিজের ম্যানিফেস্টে ব্রেইভিক লিখেছে, যে প্রশাসন এমনকি চেষ্টাও করছে না সমস্যা সমাধানের, যখন ইউরোপের জাতীয় স্বত্ত্বাই মুসলিম অধিগ্রহণের কারণে বিপন্ন হয়ে গিয়েছে. নিজের প্রতিবাদ ব্রেইভিক এক ভয়ঙ্কর উপায়ে দেখিয়েছে. কিন্তু ইউরোপের লোকদের সরকারের প্রতি অবিশ্বাস ও “খোলা দরজা” নামের অভিবাসনের রাজনীতির প্রতিবাদ – এটা একক ঘটনা নয়. এই ধরনের মানসিকতা ইউরোপের কম করেও শতকরা কুড়ি ভাগ লোকের রয়েছে. উদাহরণ হিসাবে, গত রবিবারে, ফ্রান্সের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রথম পর্যায়ে, অতি দক্ষিণপন্থী জাতীয় ফ্রন্টের প্রার্থী মারিন লি পেন যে, শতকরা আঠারো ভাগের বেশী ভোট পেয়েছেন, সেই কথা বলা যেতে পারে.