রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি দিমিত্রি মেদভেদেভ, যাঁর রাষ্ট্রপতি হিসাবে দায়িত্বভার শেষ হতে আর দুই সপ্তাহ বাকী রয়েছে, তিনি ক্রেমলিনে আয়োজিত এক প্রসারিত জাতীয় সভায় ভাষণ দিয়েছেন. এক ঘন্টার এই ভাষণে তিনি নিজের রাষ্ট্রপতিত্বের চার বছর সময়ের একটি মূল্যায়ন করেছেন ও একই সঙ্গে ভবিষ্যতের কাজ সম্বন্ধে দিক নির্দেশ করেছেন. বিশেষজ্ঞরা যে রকমের মূল্যায়ন করেছেন, তাতে মেদভেদেভ এই ভাষণে অনেকটাই তাঁর ভবিষ্যত পরিকল্পনা নিয়ে বলেছেন, আর এটা স্পষ্টই ছিল ভবিষ্যত প্রধানমন্ত্রীর বক্তৃতা.

    ক্রেমলিনের সেন্ট জর্জ আনুষ্ঠানিক হলে আজ জড়ো হয়েছিলেন রাশিয়ার সমস্ত অঞ্চলের প্রধানরা, মন্ত্রীসভার সদস্যরা, দলের নেতারা, পার্লামেন্টের সদস্যরা, উচ্চ আদালতের প্রতিনিধিরা, সামাজিক নেতৃস্থানীয় কর্মীরা ও ব্যবসায়ীরা. এই রকমের জন সমাগমে শেষবার জাতীয় সভা হয়েছিল চার বছরেরও আগে, যখন ২০০৮ সালের ফেব্রুয়ারী মাসে রাষ্ট্রপতি হিসাবে নিজের পদ ত্যাগ করার আগে ভ্লাদিমির পুতিন তাঁর মূল্যায়ন সভার ভাষণে ভবিষ্যত মন্ত্রীসভার পরিকল্পনা আলোচনা করেছিলেন, যা তার পরে তিনি নিজেই নেতৃত্ব দিয়েছিলেন.

    দিমিত্রি মেদভেদেভ, দেশের কার্যকরী রাষ্ট্রপতি হিসাবে ঘোষণা করেছেন যে, রাশিয়ার অর্থনৈতিক ও নাগরিক স্বাধীনতা বিকাশ তাঁর জন্য যেমন আগে, তেমনই এখনও প্রধান প্রাথমিক কর্তব্য হয়েই রয়েছে. নিজের ভাষণে দিমিত্রি মেদভেদেভ বিগত বছর গুলির সাফল্যকে উল্লেখ করতে চেষ্টা করেছেন: দেশের জনসাধারনের জীবন যাত্রার মানের উন্নতি, সবচেয়ে কম মূল্য বৃদ্ধি ও বেকারত্ব, জন্মের হার বৃদ্ধি. “আমাদের সমাজ অন্য রকমের হয়েছে: আরও বেশী খোলামেলা ও সফল. দেশ এখন জীবনের জন্য আরাম দায়ক ও আগ্রহোদ্দীপক হতে পেরেছে”, - এই মূল্যায়নই করেছেন দেশের নেতা.

    রাজনৈতিক তথ্য কেন্দ্রের জেনারেল ডিরেক্টর আলেক্সেই মুখিনের মতে, মেদভেদেভ জাতীয় সভায় ভাষণ দিয়েছেন আগামী প্রধানমন্ত্রী হিসাবেই. তিনি এই প্রসঙ্গে বলেছেন:

    “তিনি প্রসারিত ভাবে সমস্ত সরকারি কর্মীদের সঙ্গে নতুন ভূমিকায় পরিচয় করেছেন. আর এখানে বলেছেন সেই বিষয়ে – যে তিনি নিজে তাঁর ধারণার প্রতি বিশ্বস্ত আছেন – স্বাধীনতা, পরাধীনতার চেয়ে অনেক ভাল. তিনি কর্মচারীদের বোধের মধ্যে এই ধারণাকেই আরও মজবুত করে বসিয়েছেন যে, তিনি একজন লিবারেল সরকারি নেতা. আর সব মিলিয়ে মনে হয়েছে যে, প্রধানমন্ত্রীর পদে তিনি এই মূল্যবোধকেই নিজের পক্ষ থেকে জোর দেবেন”.

    দিমিত্রি মেদভেদেভ একই সঙ্গে প্রস্তাব করেছেন এক গুচ্ছ বোধগম্য সূচকের প্রস্তাব করেছেন সরকারের কাজকর্মের ফলপ্রসূ হওয়া নিয়ে. তার মধ্যে রয়েছে – গড় জীবনের দৈর্ঘ্য নিয়ে, যা ২০১৮ সালে আরও চার বছর বেশী হওয়ার কথা, অথবা রাশিয়াতে ব্যবসা করা নিয়ে সুবিধার বিষয়ে বিশ্বের ১২০ নম্বর দেশ থেকে ৪০ নম্বরে উঠে আসা.

    দেশের নেতা বিশেষ করে উল্লেখ করেছেন যে, সরকারের কাজের নির্দিষ্ট পরিকল্পনা তৈরী করা নিয়ে নতুন কাঠামো চিন্তা করবে. এই পরিকল্পনা গুলি রাশিয়ার লোকসভাতে আগামী ৮ই মে প্রধানমন্ত্রী নিয়োগের প্রক্রিয়ার সময়েই প্রস্তাব করা হবে. ভ্লাদিমির পুতিন, যিনি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিজয়ী হয়েছেন, তিনি একাধিকবার আগেই ঘোষণা করেছেন যে, প্রধানমন্ত্রীর পদে দিমিত্রি মেদভেদেভের প্রার্থী হওয়ার কথা প্রস্তাব করবেন.