গতকালের নিবন্ধে লেখা হয়েছিল ভারতের বাণিজ্য রাজধানী মুম্বাই শহরে প্রথম রাশিয়া-ভারত বাণিজ্য ভবনের দ্বারোদ্ঘাটনের কথা. এই প্রসঙ্গে নিজের পক্ষ থেকে “রেডিও রাশিয়ার” কাছে মন্তব্য করে ভারতস্থিত রুশ রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার কাদাকিন বলেছেন:

    “এটি দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য – অর্থনৈতিক সম্পর্কের এক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা. রাশিয়া- ভারত বাণিজ্য ভবনের উদ্বোধন ছিল আমাদের দুই দেশের ব্যবসায়িক সম্প্রদায়ের বহু দিনের আকাঙ্ক্ষিত স্বপ্ন ও লক্ষ্য. এটা কোন আনুষ্ঠানিক ঘটনা নয়. এই ভবন অবশ্যই এক কার্যকরী ব্যবসায়িক কাঠামোয় পরিণত হবে. দুই দেশেরই দূতাবাস ও বাণিজ্য প্রতিনিধি দপ্তর নিজেদের সম্ভাবনা ও দায়িত্ব ভার অনুযায়ী সব সময়ে রাশিয়া ও ভারত বর্ষে ব্যবসায়ের উপযুক্ত সহকর্মী খুঁজে বার করতে সক্ষম হয় না. এই কাজটিই করবে মুম্বাইয়ের রাশিয়া- ভারত বাণিজ্য ভবন. একই ধরনের ভবন রাশিয়াতেও খোলা হবে. আমাদের দেশ গুলিতে সরকার পক্ষ থেকে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যের পরিমান দ্বিগুণ বাড়িয়ে বছরে দুই হাজার কোটি ডলার অর্থমূল্যের সমান করার কথা হয়েছে. এটা বাস্তবে করা সম্ভব ও এই প্রশ্ন সমাধানের ক্ষেত্রে অবশ্যই মুম্বাই শহরের রাশিয়া- ভারত বাণিজ্য ভবন নিজের অবদান রাখবে. মুম্বাই সব সময়েই আমাদের দুই দেশের বাণিজ্য ও ব্যবসায়িক সমস্ত রকমের শুরুর প্রথম নবজাতকের মত হয়েছে. ১৯০০ সালে এখানেই প্রথম রুশ প্রতিনিধি দপ্তর – রাশিয়ার জেনারেল কনস্যুলেটের উদ্বোধন করা হয়েছিল. আর এখন এখানেই প্রথম রুশ- ভারত বাণিজ্য ভবনের কাজ শুরু হল”.

    মুম্বাই শহরে রাশিয়া- ভারত বাণিজ্য ভবন খোলা নিয়ে নিজের ব্যাখ্যা দিয়েছেন এই শহরে রাশিয়ার জেনারেল কনস্যুল আলেক্সেই নোভিকভ, তিনি বলেছেন:

    “প্রথম রাশিয়া- ভারত বাণিজ্য ভবনের বিশেষত্ব হল এই যে, তা তৈরী করা হয়েছে মাঝারি ও ক্ষুদ্র শিল্পের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধির জন্যই. এই ব্যবসায়ীরা প্রায়ই বড় রাজনীতির পট চিত্রের বাইরে থেকে যান. যে সমস্ত দলিল স্বাক্ষরিত হয়েছে ও এই ভবনের যে উদ্বোধন করা সম্ভব হয়েছে, তা থেকে বলা যেতে পারে যে, দ্বিপাক্ষিক ক্ষেত্রে এই ধরনের সহযোগিতার বিষয়ে এটা প্রথম বর্ষার সঙ্কেত. একই ধরনের ভবন পরে চেন্নাই ও কলকাতা শহরে খোলা হবে. হঠাত্ করেই এই ভবনের উদ্বোধনের দিনটি ভারতীয়দের জন্য সবচেয়ে খুশীর দিন ও এক উত্সবের দিনে করা হয় নি – যে দিনে ভারতীয়রা বিভিন্ন রকমের বড় মাপের বেচা কেনা করার চেষ্টা করেন, বাড়ী ঘর কেনেন, নিজেদের প্রিয় ও পছন্দের মহিলাদের জন্য গহনা, হীরা ইত্যাদি ক্রয় করেন, বিয়ের জন্য কনে দেখা, বিবাহ অনুষ্ঠান ইত্যাদি করতে পছন্দ করেন. এই উল্লেখ যোগ্য ও খুশীর দিন ভারতীয়দের জন্য অত্যন্ত প্রিয়. এই দিনে সব সময়েই কোন শুরু করা হলে তার সাফল্য হবেই. রাশিয়া ও ভারতের ব্যবসায়ীরা এই রকমই আশা করেছেন ও তাঁরা বিশ্বাস করেন যে, আমাদের দুই দেশের ব্যবসায়ীদের জন্য ভাল শুরুই করা হয়েছে”.