সামুদ্রিক জলদস্যূদের আক্রমণের সংখ্যা বিগত কয়েক মাস ধরে অনেক কমে গিয়েছে. আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী প্রথম ত্রৈমাসিকে ১০২টি জলদস্যূ আক্রমণ নথিভুক্ত করা হয়েছে. গত ২০১১ সালের একই সময়ে ঘটেছিল ১৪২টি আক্রমণের ঘটনা.

    সবচেয়ে উল্লেখ যোগ্য পরিস্থিতি ভাল হতে দেখা গিয়েছে সোমালির সমুদ্র উপকূলে – গত বছরে জানুয়ারী থেকে মার্চ মাসে সেখানে ৯৭টি আক্রমণ হয়েছিল মালবাহী ও যাত্রী বাহী জাহাজের উপরে, আর ২০১২ সালের প্রথম তিন মাসে এই রকমের ঘটনা ঘটেছে মাত্র ৪৩টি. আন্তর্জাতিক শক্তি প্রয়োগের ফল স্পষ্টই দেখতে পাওয়া যাচ্ছে, এই কথা উল্লেখ করে সামুদ্রিক জাহাজের ক্যাপ্টেন দের সুদূর প্রাচ্য সংগঠনের সভাপতি পিওতর অসিচানস্কি বলেছেন:

    “বিগত বছর গুলিতে সোমালির জলদস্যূরা খুবই ভাল রকমের গণ্ডগোল তৈরী করেছিল. আর বিশ্ব সমাজ তাদের বিরুদ্ধে সক্রিয়ভাবে কাজ করতে শুরু করেছিল. প্রহরার ব্যবস্থা করা হয়েছে. ন্যাটো জোটের শক্তি সেখানে পাঠানো হয়েছে. রাশিয়ার জাহাজ গুলি সেখানে কাজ করেছিল ও এখনও করছে. একই সঙ্গে চিনের লোকেরাও খুবই অপছন্দ করে, যখন তাদের নৌবহরকে কেউ বিরক্ত করে, তাই তারাও নিজেদের যুদ্ধ জাহাজ সেখানে রাখতে শুরু করেছে. ভারতীয়রাও, কারণ তাদের অনেক নাগরিক সোমালির জলদস্যূদের হাতে বন্দী হয়েছে. এই সব ব্যবস্থা যা নেওয়া হয়েছে, তার ফলে পরিস্থিতি ভাল হতে শুরু করেছে”.

    তার ওপরে খুব বেশী দিন হয় নি, রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদ এক অভূতপূর্ব সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যার ফলে বিদেশী সামরিক শক্তির পক্ষে শুধু সোমালির জলসীমায় জলদস্যূদের তাড়া করাই সম্ভব হবে না, বরং তাদের সমুদ্র তীরবর্তী ঘাঁটি গুলিতেও বোমা ফেলা যাবে. আর তাই আগে সামুদ্রিক গুণ্ডাদের জন্য যদি যথেষ্ট হত তীর অবধি কোন রকমে পৌঁছনো, তবে এখন তারা তাদের শেষ লুকিয়ে থাকার জায়গাও হারিয়েছে.

    কিন্তু যদি আফ্রিকার শৃঙ্গের কাছে সমুদ্র এখন কিছুটা কম বিপজ্জনক হয়েছে, তো বিশ্বের অন্যান্য জায়গায় নতুন করে ঠগ দেখা দিতে শুরু করেছে, তারা আরও বেশী করে নির্ভীক হয়ে উঠেছে. এই রকম করেই নাইজিরিয়ার সমুদ্র উপকূলে বিগত মাস গুলিতে আক্রমণের সংখ্যা দ্বিগুণ বেড়েছে, পাঁচ থেকে বেড়ে হয়েছে দশটি ঘটনা. এই প্রসঙ্গে মন্তব্য করে সামুদ্রিক আইন কেন্দ্রের বিশেষজ্ঞ ভাসিলি গুত্সুলিয়াক বলেছেন:

    “আমরা আগেও দেখেছি যে, সবচেয়ে বেশী জলদস্যূ আক্রমণের সম্ভাবনাময় তিনটি জায়গা রয়েছে – এটা সোমালি, এটা আফ্রিকার পশ্চিম উপকূল সংলগ্ন এলাকা ও দক্ষিণ পূর্ব এশিয়া. এখন ভারকেন্দ্র খানিকটা পাল্টে আফ্রিকার পশ্চিম উপকূল হয়েছে. এটা ব্যাখ্যা করা কঠিন কিছু নয়, সেখানে খুবই খারাপ সামাজিক – অর্থনৈতিক পরিস্থিতি. প্রায় সময়েই রাষ্ট্রের পক্ষে নিজেদের আঞ্চলিক জলসীমা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভবপর হচ্ছে না”.

    আর বিশ্ব সমাজের নজর থেকে এই সব বাণিজ্যিক পরিবহনের সমস্যা সঙ্কুল পথ গুলি এড়িয়ে গিয়েছিল. তাই সময় হয়েছে এবারে সারা বিশ্বের সমগ্র মহা সমুদ্র অঞ্চলে জলদস্যূতার বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য সামগ্রিক আইন সঙ্গত নির্দেশ তৈরী করার. আর ততদিন অবধি বিশেষজ্ঞরা জাহাজ গুলির ক্যাপ্টেন ও মালিকদের সঙ্গে পরামর্শ তৈরী করছেন, কি করে নিজেদের নিরাপত্তা বৃদ্ধি করা যায়: সশস্ত্র রক্ষী ভাড়া করা, আধুনিক সব নিরাপত্তা রক্ষার ব্যবস্থা জাহাজে যোগ করা. অথবা অন্তত জাহাজের খোল কাঁটাতার দিয়ে ঘেরা, এই আদিম ব্যবস্থা ইতিমধ্যেই একাধিক জাহাজকে রক্ষা করাতে সক্ষম হয়েছে.