রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ভ্লাদিমির পুতিন রুশ বিজ্ঞানীদের সঙ্গে দেখা করেছেন, যাঁরা প্রায় চার কিলোমিটার পুরু বরফের নীচে দক্ষিণ মেরুর পূর্ব নামের হ্রদের জল অবধি পৌঁছতে সক্ষম হয়েছেন. গবেষকরা তাঁদের কাজ সম্বন্ধে ব্যাখ্যা করেছেন, আর নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি আশ্বাস দিয়েছেন যে, পরবর্তী কালেও দক্ষিণ মেরুতে অনুসন্ধানের কাজে সমর্থন করা হবে.

    ভ্লাদিমির পুতিন, রুশ ভৌগলিক সংগঠনের অভিভাবক সভার প্রধান হিসাবে অবশেষে ব্যক্তিগত ভাবে দক্ষিণ মেরু অভিযানে যাওয়া বিজ্ঞানীদের সঙ্গে দেখা করতে পেরেছেন, যাঁরা এই হারিয়ে যাওয়া হ্রদের জল অবধি বরফ ফুঁড়ে পৌঁছতে পেরেছেন. তিনি এই প্রসঙ্গে বলেছেন:

    “আমি ব্যক্তিগত ভাবে আপনাদের স্বাগত জানাতে ও সাফল্যের জন্য অভিনন্দন জানাতে চাই – আপনারা এই হারিয়ে যাওয়া হ্রদ অবধি পৌঁছতে পেরেছেন. বহু দিন ধরে কাজ করেছেন প্রায় কুড়ি বছরের বেশী সময় ধরে, এটা যেমন অনেক বড় কাজ, তেমনই বিশাল সাফল্য”.

    ফেব্রুয়ারী মাসে রাশিয়ার আন্টার্কটিকা স্টেশন ভস্তক বা পূর্বের নামাঙ্কিত এই হ্রদের উপরের চার কিলোমিটার বরফ খুঁড়ে জল অবধি পৌঁছনো সম্ভব হয়েছে. এটা এক বিরল পরিবেশ ব্যবস্থা, যা পৃথিবী পৃষ্ঠের আবহাওয়া থেকে ও তার উপরে তাকা জীব জগতের সঙ্গে সম্পর্কহীণ অবস্থায় ছিল বহু লক্ষ বছর ধরে. বিজ্ঞানীদের মূল্যায়ন অনুযায়ী এই হারিয়ে যাওয়া হ্রদের বয়স দেড় কোটি থেকে দুই কোটি বছর. এখানে খোঁড়ার সময়ে পাওয়া বরফের স্তম্ভ থেকে এই বিশ্বের আবহাওয়ার পরিবর্তন বোঝা সম্ভব হয়েছে বহু শতাব্দী জুড়েই. এখনই বিজ্ঞানীরা সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন যে, বর্তমানের বিশ্বের উষ্ণায়ন – এটা গ্রীন হাউস এফেক্টের স্বাভাবিক ফল নয়, এই প্রসঙ্গে আর্কটিক ও আন্টার্কটিকা বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান ইনস্টিটিউটের আবহাওয়া পরিবর্তন সংক্রান্ত ও পরিবেশ সংক্রান্ত গবেষণা ল্যাবরেটরীর প্রধান ভ্লাদিমির লিপেনকভ বলেছেন:

    “এখন আমাদের এমন পরিস্থিতি যে, আমরা খালি এই ধরনের গ্যাস পরিবেশে ছড়াচ্ছি. যদি অতীতের দিকে তাকানো যায়, তবে দেখা যাবে যে, প্রথমে তাপমাত্রার পরিবর্তন হয়েছে, তারপরে কার্বন ডাই অক্সাইড ধরনের গ্যাসের ঘনত্ব বেড়েছে, যা এই তাপমাত্রা বাড়া বিষয়কে আরও শক্তিশালী করেছে. অর্থাত্ ঘটনার পরম্পরা উদ্ধার এটাও ওই ভস্তক হ্রদের জলের বরফ জমা নমুনা দেখে বোঝা গিয়েছে – এটাও সাফল্য”.

    এই হ্রদ ও তার উপরে আস্তরণ হয়ে থাকা বরফ পরীক্ষা করে বুঝতে পারা যাবে, কি ভাবে মানব সমাজকে আবহাওয়ার বিরল পরিবর্তন গুলির সম্বন্ধে প্রতিক্রিয়া করতে হবে ও নিজেদের প্রকৃতি ও পরিবেশ সংরক্ষণের কাজ কোন নীতি নিয়ে করতে হবে. এই প্রসঙ্গে ভ্লাদিমির পুতিন ঘোষণা করেছেন:

    “আমরা শুধু স্বাক্ষরই করি নি, বরং কিয়োটো প্রোটোকল গ্রহণও করেছি. কিন্তু বহু শিল্পোন্নত দেশের কাজকর্মের ফলে পরিবেশের উপরে খুবই বেশী করে প্রভাব পড়েছে. সবচেয়ে উল্লেখ যোগ্য প্রভাব ফেলেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, চিন ও ভারত. আর সমস্ত দেশেরই এই প্রসঙ্গে অভিমত রয়েছে. তাই রুশ প্রজাতন্ত্রের পক্ষ থেকে নিজেদের উপরে পরবর্তী কালের বাড়তি ভার ও নিজেদের শিল্প ও অর্থনীতির বিষয়ে কোন দায়িত্ব নেওয়ার আগে আমাদের সামগ্রিক বোধে উপনীত হতে হবে ও সামগ্রিক পদ্ধতি নির্ণয় করতে হবে, যা মানব সমাজ পরবর্তী কালে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য নির্নায়ক বলে মানতে পারে. কারণ যদি আলাদা কিছু দেশ সিদ্ধান্ত নেয়, আর প্রধান পরিবেশ দূষণ যারা করছে, তারা যদি এই প্রক্রিয়ার বাইরে থেকে যায়, তবে কোন ফলই পাওয়া যাবে না. আর আপনাদের কাজ সিদ্ধান্ত নেওয়ার  জন্য আন্তর্জাতিক স্তরে খুবই গুরুত্বপূর্ণ”.

0    মে মাসে বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান কারী জাহাজ “অ্যাকাডেমিক ফিওদরভ” আন্টার্কটিকা থেকে প্রথম ভস্তক হ্রদের জলের নমুনা গুলি নিয়ে ফিরে আসছে. সেই গুলি পরীক্ষা করতে কম করে হলেও এক বছর সময় লাগবে. আন্টার্কটিকার এই স্টেশনের কাজ এবারে শুধু বাড়তেই থাকবে. ভ্লাদিমির পুতিন প্রস্তাব করেছেন সেখানে নতুন শীত কাটানোর উপযুক্ত কমপ্লেক্স তৈরী করার, একটি বিমান নামা ওঠা করার মতো রান ওয়ে ও সেখানকার গাড়ী ইত্যাদির আধুনিকীকরণ করার.