২৪শে এপ্রিল থেকে ‘সামুদ্রিক পারস্পরিক সহযোগিতা-২০১২’ নামক রুশী-চীনা সামরিক প্রশিক্ষণের সক্রিয় পর্যায় শুরু হল. তিনদিন ধরে দুইদেশের সামরিক নাবিকরা পীতসাগরে রকেটবিরোধী, নৌবিরোধী প্রতিরক্ষা, সামুদ্রিক সরবরাহ ও সামুদ্রিক পরিবহন যান প্রহরা দিয়ে নিয়ে যাওয়ার মহড়া দেবে সম্মিলিতভাবে. লক্ষ্য – সন্ত্রাসবাদী ও বিপজ্জনক সামুদ্রিক এলাকায় জলদস্যুদের সাথে সংগ্রাম. প্রশিক্ষনে যোগ দিয়েছে ২০টিরও বেশি যুদ্ধজাহাজ, ১০টিরও বেশি বিমান ও হেলিকপ্টার, প্যারাট্রুপারদের দল ও ২টি সাবমেরিন. গত ৭ বছরের মধ্যে এটা পঞ্চমতম রুশী-চীনা সামরিক সামুদ্রিক প্রশিক্ষণ. উভয়পক্ষ আবারও জানিয়েছে, যে চলতি মহড়া তৃতীয় কোনো দেশের দুশ্চিন্তার কারণ হবে না এবং বিতর্কিত কোনো অঞ্চলের সাথে এর কোনো সংযোগ নেই. দূর প্রাচ্য ইনস্টিটিউটের বিশ্লেষক আন্দ্রেই দাভিদভ এই প্রশিক্ষণকে সরাসরি প্রশান্ত মহাসাগরে মার্কিনী সামরিক নৌবাহিনীর সক্রিয় হয়ে ওঠার সাথে যুক্ত করছেন.

কেন রাশিয়া ও চীন যৌথভাবে অকস্মাত সামরিক নৌবাহিনীর প্রশিক্ষণ দিতে গেল, - সে ব্যাপারে কোনো ভুল বোঝাবুঝি থাকা উচিত নয়. কিন্তু ঠিক এখনই কেন? সমস্যাটা হচ্ছে এই, যে দক্ষিণ চীনাসাগরে পরিস্থিতি উত্তেজনাকর হয়ে উঠেছে. তাছাড়া ঐ অঞ্চলে আমেরিকা ও ফিলিপাইন্স যৌথ প্রশিক্ষণ চালাচ্ছে – খানিকটা তার প্রতিক্রিয়াস্বরূপই রুশী-চীনা প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছে.

    চীনের সাথে ফিলিপাইন্সের ও ভিয়েতনামের বিতর্কিত দ্বীপাঞ্চল নিয়ে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে আমেরিকা ঐ এলাকায় কয়েকটি যুদ্ধজাহাজ ও নৌ পদাতিকবাহিনী পাঠিয়েছে. তারা তাদের দীর্ঘকালের শরিক ফিলিপাইন্সকে এই বিতর্কে মদত দিতে চায়. আর সেইসাথেই ‘কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে’ নাম দিয়ে বার্ষিক সামরিক মহড়ায় জাপান, অষ্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়াকেও সাথে নিয়েছে. জার্মানীর ‘জুডডয়েচে সাইটাং’ সংবাদপত্র লিখছে, যে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের আবহাওয়া রীতিমতো উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে. স্ট্র্যাটেজিক প্রতিদ্বন্দীরা পরস্পরকে পেশী প্রদর্শন করছে. এর প্রেক্ষাপটে রাশিয়া ও চীন সামরিক সহযোগিতা জোরদার করতে বাধ্য হচ্ছে, বলে মন্তব্য করছেন কর্ণেল গেন্নাদি এস্তাফিয়েভ.

              শুরু করেছে এই সবকিছুই অবশ্য মার্কিনীরা. তারা তাদের সমর-রাজনৈতিক ধারভার প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকায় স্থানান্তরিত করছে. তারা তৈরি হচ্ছে চীনের মোকাবিলা করার জন্য. অন্যদিকে চীনের ক্ষমতা, নিজের এলাকায় নিজেকে সুপ্রতিষ্ঠিত করার প্রয়াস সর্বজনবিদিত. এশীয়-প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকার জলে এখন যে সব ঘটনা ঘটছে, তা বহুমাত্রায় এই প্রতিদ্বন্দীতার দরুন. যেমন, আমেরিকার যুদ্ধজাহাজের সারির ভিয়েতনামে নোঙর করা. ভিয়েতনাম ঠিক করেছে, যে মার্কিনী যুদ্ধজাহাজের দৌলতে তারা চীনের বিরূদ্ধে নিজেদের শক্তি প্রদর্শন করতে সমর্থ হবে.

   সামরিক নৌবাহিনীর মহড়া শুরু হওয়ার প্রাক্কালে চীনের একসারি সামরিক বিশেষজ্ঞ রাশিয়ার সাথে সামরিক সহযোগিতার অপরিহার্যতার কথা বলেছে. এটা অবশ্যই তাদের ব্যক্তিগত মতামত, কিন্তু তা সামরিক বাহিনী সহ চীনের গোটা জনসমাজের মনমেজাজ প্রতিফলিত করে. চীন ও রাশিয়া উভয় দেশকেই আমেরিকা ও তার প্রাচ্যের ও পশ্চিমের শরিক দেশগুলির ক্রমবর্ধমান চাপ সহ্য করতে হচ্ছে. অংশতঃ মার্কিনীরা বিশ্বব্যাপী রকেটবিরোধী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বসাচ্ছে. এশীয় অঞ্চলে জাপান ও অষ্ট্রেলিয়ার সাথে আঁতাত গড়ছে. এটা মস্কো ও বেইজিংকে বাধ্য করছে নিজেদের নিরাপত্তার স্বার্থে প্রতিরক্ষার ক্ষেত্রে সহযোগিতা জোরদার করতে. ‘সামুদ্রিক সহযোগিতা-২০১২’ নামক মহড়া সেই অভিমুখে একটি পদক্ষেপ.