রাশিয়ার উচ্চ শিক্ষালয়গুলিতে নতুন বিভাগ চালু হতে চলেছে, যার সাথে বিশ্বে চিকিত্সাবিজ্ঞানের বিবর্তনের নতুন পর্যায় জড়িত – চিকিত্সাবিজ্ঞানের পদার্থবিদ্যা. রোগনির্ণয় ও জটিল যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে চিকিত্সা করার জন্য পদার্থবিদ্যার বিশেষ জ্ঞান থাকা দরকার.

     আলট্রাসনিক রে, এক্স-রে ও টমোগ্রামির সাথে আজকের দিনে সকলেই পরিচিত. ঐ সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সহজ, সেইজন্যে চিকিত্সকদের চিকিত্সাবিদ্যার জ্ঞান থাকলেই চলে. কিন্তু এমন কিছু পদ্ধতি আছে, যেখানে চিকি্সাবিজ্ঞানের জ্ঞানই যথেষ্ট নয়. যেমন, জটিল পদ্ধতিতে রশ্মি প্রয়োগ করে রোগনির্ণয়, লেজার ব্যবহার করে অপারেশন. এই সব ক্ষেত্রে প্রযুক্তি অনেক দূর এগিয়ে গেছে, এবং ডাক্তারখানায় শুধু ডাক্তার থাকলেই আর চলছে না, ইঞ্জিনীয়ারেরও থাকা দরকার, বলে বলছেন বাউম্যানের নামাঙ্কিত মস্কোর রাষ্ট্রীয় প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাধ্যক্ষ বরিস পাদালকিন.

    এসব হচ্ছে আধুনিক জটিল সব প্রযুক্তিগত পদ্ধতি, যা গ্রহণ করা হয়েছে তত্ত্বগত বিজ্ঞান থেকে. এসব ক্ষেত্রে কাজ করতে হলে সেইমাত্রার পেশাদারী যোগ্যতা থাকা দরকার. চিকিত্সাবিজ্ঞানের ক্ষেত্রে আধুনিক স্তরে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির বিকাশ আমাদের বাধ্য করছে এমন সব পেশাদারদের তৈরি করতে, যাদের বুনিয়াদী বিদ্যা ও আধুনিক জটিল সব যন্ত্রপাতি ব্যবহার করার মুন্সীয়ানা থাকবে.

     চিকিত্সাবিজ্ঞানের পদার্থবিদদের শিক্ষা দেওয়া হবে রাশিয়ার প্রথমসারির উচ্চ শিক্ষালয়গুলিতে. অভিজ্ঞতা আছে – বাউম্যানের নামাঙ্কিত বিশ্ববিদ্যালয়ে কয়েক বছর ধরে বায়োমেডিসিন টেকনিকের কোর্স পড়ানো হচ্ছে. ঐ কোর্সটি চালু করা হয়, আলট্রাসনিক রে দিয়ে হাড় গলানোর পদ্ধতি উদ্ভাবন করার পরে. অধ্যাপক পাদালকিন বলছেন, যে ধাতুর মতোই ভাঙা হাড় ওয়েল্ডিং করে জোড়া দেওয়া যায়.

         এই পদ্ধতিকে ঘিরে বিজ্ঞানের স্কুল গড়ে উঠেছে ও চিকিত্সাবিজ্ঞানের ছত্রছায়ায় প্রযুক্তিবিজ্ঞানের পেশাদারদের শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে. আমরা প্রত্যেক বছর যে সব শিক্ষার্থীদের ভর্তি করি, তারা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা শেষ করে অনায়াসেই হাইটেক সম্পন্ন কোম্পানীগুলিতে চাকরি পায়.

  অনেক রোগের, যেমন ক্যান্সারের চিকিত্সা করার জন্য আজকাল নতুন নতুন পদ্ধতি ব্যবহার করা হচ্ছে. যেমন গাম্মা ছুরি ব্যবহার করে টিউমারে আয়নের রে পাঠানো সম্ভব. ক্যান্সার আক্রান্ত কোষগুলির ডি.এন.কে. তার ফলে ধ্বংস হয়ে যায়. তাদের আর বিভাজিত হওয়ার ক্ষমতা থাকে না ও মারা যায়. এরকম চিকিত্সাপদ্ধতি প্রয়োগ করার জন্য প্রয়োজন নিখুঁত নিপুনতা এবং পদার্থবিদ্যার জ্ঞান ছাড়া এখানে কোনোমতেই চলে না – বলছেন মস্কোর ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউটের  ভাইস-প্রেসিডেন্ট আলেক্সেই বুতেনকো.

          চিকিত্সাবিজ্ঞানের পদার্থবিদরা – এমন পেশাদার, যারা চিকিত্সাকেন্দ্রে রে থেরাপির প্রক্রিয়াকে নিরাপদ করে. ডোজের মাত্রা, পরিকল্পনা, সময়ের নিখুঁত হিসাব – এসবের জন্য বুনিয়াদী প্রযুক্তি শিক্ষা অপরিহার্য.

      হাইটেকের দৌলতে চিকিত্সাবিদ্যা দ্রুতগতিতে বদলাচ্ছে. ওষুদপত্র ও শল্য চিকিত্সার স্থান অধিকার করছে জটিল প্রযুক্তিসম্পন্ন যন্ত্রপাতি. চিকিত্সকদের মতে, কেবলমাত্র পদার্থবিদদের সাথে যৌথভাবেই তারা রুগীদের যথোপযুক্ত সাহায্য করতে পারে.