আজ ২৩শে এপ্রিল রাশিয়াতে শুরু হতে চলেছে সেন্ট জর্জ ফিতার উত্সব, যা ফ্যাসিজমের বিরুদ্ধে মহান পিতৃভূমি রক্ষার যুদ্ধকে উত্সর্গ করে করা হয়েছিল. ৯ই মে পর্যন্ত রাশিয়ার রাজধানী ও অন্যান্য জায়গায়, রাশিয়ার কাছের ও অনেক দূরের বিদেশে দেওয়া হতে থাকবে বহু লক্ষ এই ধরনের কমলা- কালো রঙের পট্টি. এই উত্সবের প্রাক্কালে রাশিয়ার নাগরিক ও যারা এই দেশের বংশোদ্ভূত, তারা সারা বিশ্বেই এই পট্টি বাঁধবেন নিজেদের জামায় কাপড়ে, ব্যাগে, গাড়ীর অ্যান্টেনায়. এই প্রচারাভিযানের স্লোগান- “মনে রেখেছি আর গর্বিত হই!”.

    সেন্ট জর্জ পট্টি – রাশিয়া সাম্রাজ্যের বহু বিজয়ের ইতিহাসের প্রতীক, তা যেমন সোভিয়েত দেশের, তেমনই আধুনিক রাশিয়ারও. প্রথমে এই পট্টি ব্যবহার করা শুরু হয়েছিল ১৭৬৯ সালে. তারপর থেকেই কমলা- কালো রঙের এই ফিতা রাশিয়াতে মনে করা হয়েছে সামরিক বীরত্বের ও শৌর্যের প্রতীক.

    ২০০৫ সালে মহান বিজয়ের ৬০ বছর পালনের প্রাক্কালে রাশিয়ার “ছাত্র সমাজ” সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন সমাজের এই মহান পিতৃভূমি রক্ষার যুদ্ধের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করতে, স্বেচ্ছাসেবকরা রাস্তা ঘাটে প্রতীক মূলক এই কমলা- কালো রঙের ফিতা দেওয়া শুরু করেছিল. তাতে সেই সাইটের ঠিকানা ছিল, যেখানে যে কেউ ইচ্ছা করলেই মহাফেজ খানায় সংরক্ষিত বিষয়ের সঙ্গে পরিচিত হতে পারত. আয়োজকদের জন্য হঠাত্ করেই দেখা গেল যে এই প্রচারাভিযানের সঙ্গে বহু লক্ষ লোক শুধু রাশিয়াতেই নয় এমনকি বিদেশেও যুক্ত হয়ে গিয়েছেন. যদি রাশিয়াতে এই ধরনের ফিতা বিতরণ করা হয়েছিল সরাসরি রাস্তায়, তবে বিদেশে প্রথমে এই ফিতা পাওয়া ছিল দুষ্কর, এই কথা উল্লেখ করে সামাজিক সংস্থা ছাত্র সমাজের নেতা ভাসিলি অভচিননিকভ বলেছেন:

    “চার বছর আগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে রুশী ভাষায় কথা বলা যুব সমাজ জানতে পেরেছিল এই প্রচারাভিযানের কথা, তারা নিজেরাই সেখানে সেটা তারপরে শুরু করেছিল. স্রেফ সাদা ফিতা কেটে তাতে ফেল্ট পেন দিয়ে কমলা ও কালো রঙ করেছিল. তারপরে সেই ফিতা বেঁধে ঘুরেছিল”.

    এই প্রচারাভিযানের সবচেয়ে সক্রিয় দেশের তালিকায় রয়েছে ইউক্রেন, এস্তোনিয়া, লাতভিয়া, গ্রীস, আইসল্যান্ড, ইতালি, জার্মানী, গ্রেট ব্রিটেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, আর্জেন্টিনা, চিন ও মেক্সিকো.

    আজ সেন্ট জর্জ ফিতা – আন্তর্জাতিক সামাজিক আন্দোলনের প্রতীক হয়েছে. এই বছরে শুধু “ছাত্র সমাজের” শক্তিতেই বিতরণ করা হতে চলেছে প্রায় তিরিশ লক্ষ ফিতা, এই কথা উল্লেখ করে সংস্থার নেতা ভাসিলি অভচিননিকভ বলেছেন:

    “আমাদের এই প্রথমবার ভালো সহকর্মী তালিকায় রয়েছে রাশিয়ার পররাষ্ট্র দপ্তর. তাঁরা এর মধ্যেই এই ফিতা বিশ্বের ৯২টি দেশে পাঠিয়ে দিয়েছেন. আমাদের www.cco.ru সাইটে সেই বিষয়ে তথ্য থাকবে, কোথায় কোন দেশে এই সেন্ট জর্জ ফিতা পাওয়া যেতে পারে”.

    রেডিও চ্যানেল “রেডিও রাশিয়া” অন্যান্য বছরের মতই এবারেও জানাতে থাকবে, কি ভাবে রাশিয়া ও অন্যান্য দেশে এই “সেন্ট জর্জ ফিতা – ২০১২” প্রচারাভিযান হচ্ছে.