রাশিয়ার বিজ্ঞানীরা এক গুচ্ছ বিরল প্রোগ্রাম বানাতে সক্ষম হয়েছেন, যা প্রায় শতকরা একশ ভাগ নির্দিষ্ট করে বলে দিতে পারে কোথায় মাটি ধ্বসে যাওয়া শুরু হতে পারে আর বিপজ্জনক জায়গা গুলির জন্য ফলপ্রসূ সুরক্ষার ব্যবস্থা কিভাবে নেওয়া উচিত্. নিজের সম্ভাবনা অনুযায়ী এই আবিষ্কার বিশ্বের সমস্ত একই ধরনের প্রোগ্রামের চেয়ে ভাল, এই কথা উল্লেখ করেছেন এই প্রোগ্রামের স্রষ্টারা. রাশিয়া ও বিদেশের বাস্তু ও অন্যান্য নির্মাণ কোম্পানী গুলি ইতিমধ্যেই এই প্রোগ্রাম সম্বন্ধে আগ্রহী হয়েছেন.

    ধ্বস নামলে যে সমস্ত জায়গা বা জিনিসের খুবই ক্ষতি হয় তার খুবই স্বল্প সংখ্যক হল – বাড়ী ঘর, রাস্তা, সেতু, পাইপ লাইন, বিদ্যুত পরিবহন ব্যবস্থা ইত্যাদি. এই বিপজ্জনক প্রাকৃতিক ঘটনা সারা বিশ্বের বিশেষজ্ঞদেরই উদ্বিগ্ন করেছে. শুধু গত বছরেই খুবই গুরুতর ধ্বস নেমেছিল ইতালিতে, ব্রাজিলে, পেরুতে, মেক্সিকোতে, কলম্বিয়াতে, আর্মেনিয়া এবং ইউক্রেনে. বিশেষ করে এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে আক্রান্ত হয়েছিল চিন. জুলাই মাসে সী চুয়ান প্রদেশের এক হাই ওয়ে ধ্বসের কবলে ভেসে গিয়েছিল, আর হেমন্ত কালে চিনের পশ্চিম দিকে সিয়ান শহরের এক জনপদ ও দুটি কারখানা চাপা পড়ে গিয়েছিল ধ্বসের মাটি ও পাথরের স্তরের তলায়, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিলেন বহু শত লোক. ২০১২ সালের মার্চ মাসে ধ্বস থেকে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন জর্জ্জিয়া দেশের তিনশরও বেশী পরিবার. আর “উত্তর – দক্ষিণ” গ্যাস পাইপ লাইন নষ্ট হয়ে যাওয়ার ফলে রাশিয়া থেকে আর্মেনিয়াতে গ্যাস সরবরাহ কিছু সময়ের জন্য বন্ধ ছিল. সোচী অঞ্চলেও বিপজ্জনক পরিস্থিতি হয়েছে: কিছুদিন আগে অলিম্পিকের জন্য নতুন তৈরী করা রাস্তার উপরে শুধু এই বছরেই বেশ কয়েকবার ধ্বস নেমেছিল.

    রাশিয়ার বিজ্ঞানীরা প্রস্তাব করেছেন এই পূর্বাভাস বিহীণ প্রাকৃতিক প্রক্রিয়ার সঙ্গে লড়াই করার ফলপ্রসূ পথ. RUST সিরিজের প্রোগ্রাম (স্থিতিশীলতা সংক্রান্ত হিসাব) – বহু বছর ধরে মস্কোর সমুদ্র ও নদী পথে পরিবহনের জন্য বন্দর নির্মাতা কোম্পানীর বৈজ্ঞানিকদের পরিশ্রমের ফসল. এর মূলে রয়েছে প্রায় ১০০০ টিরও বেশী বিপজ্জনক ঢালের উপরে গবেষণার ফল. এই প্রোগ্রাম নিজে থেকেই খোঁজে ও নির্দিষ্ট করে দেয়, সবচেয়ে বেশী বিপজ্জনক জায়গা গুলি, যেখান থেকে মাটি ধ্বসে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে, এই কথা উল্লেখ করে এই কোম্পানীর ইনস্টিটিউট “গিপ্রোরেচট্রান্সের” ডিরেক্টর ভ্লাদিমির রুদোমেতকিন বলেছেন:

    “এই প্রোগ্রামের ব্যতিক্রম হওয়ার কারণ হল যে, সাধারণত যে সব জায়গায় ধ্বস নিয়ে গবেষণা করতে হয়, তাদের দৈর্ঘ্য প্রায়ই অনেক. অর্থাত্, আমরা মাত্র একবার হিসাব করেই কোন ঢালের সম্বন্ধে বলতে পারি যে, কি হবে কোন রকমের ধ্বস নামলে, আর তারই সঙ্গে হিসাব করে বলে দিতে পারি এই ঢালের উপরে কোন কিছু নির্মিত অবস্থায় থাকলে, তার ধ্বসের ফলে কি হতে পারে, এটা এই ধরনের কোন প্রোগ্রাম দিয়েই হিসাব করা সম্ভব নয়.”

    রাস্ট নামক প্রোগ্রামের দ্বিতীয় সুবিধা হল – কোন এলাকার ভূমিকম্প স্থিতিশীলতা নিয়ে হিসাব করার সুযোগ. যেমন, কৃষ্ণ সাগরের উপকূলে যে সমস্ত জায়গা নির্মাণ করা হচ্ছে, সেই গুলি এই এলাকার ভূগর্ভের সূচক গুলি হিসাব করেই করা হচ্ছে, একই ভাবে সুদূর প্রাচ্যে নির্মাণের ক্ষেত্রেও সেই এলাকার তথ্য হিসাবের মধ্যে আনা হয়েছে. আরও একটি গুণ হল- এই প্রোগ্রাম শুধু ধ্বসের সম্ভাবনার পূর্বাভাসই দেয় না, বরং তার সঙ্গে মোকাবিলা করতেও সাহায্য করে.

    এই ইনস্টিটিউটের ডিরেক্টরের কথামতো, এই ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞরা খুবই উচ্চ মূল্যায়ন করেছেন এই প্রোগ্রামের. কয়েকদিন আগেই এটি রাশিয়ার নেতৃস্থানীয় নির্মাণ ও প্রকল্প স্রষ্টা কোম্পানীদের বিশেষজ্ঞদের কাছে দেখানো হয়েছিল. খুবই আসন্ন ভবিষ্যতে বিদেশী কোম্পানীদের জন্য এটি প্রকাশ করা হবে. সবচেয়ে বেশী আগ্রহ এটি আফ্রিকা, চিন ও লাতিন আমেরিকার দেশ গুলির জন্য দেখানো হয়েছে, কারণ সেখানে ধ্বস নামার সমস্যা খুবই বেশী. রাশিয়ার বেশ কয়েকটি অঞ্চলে এই পদ্ধতিতে কাজ করে দেখা হয়েছে, তার উপরে ভিত্তি করে রাশিয়ার কয়েকটি অঞ্চলে রাস্তা, সেতু ইত্যাদি বানানো হয়েছে, আর তারই সঙ্গে ক্রাসনাদার এলাকায়, তাতারস্থানে ও পশ্চিম সাইবেরিয়াতে পাইপ লাইন বসানোর কাজ করা হচ্ছে.