ব্রাসেলসে রাশিয়া ও ন্যাটোর পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে. দুই পক্ষের জয়ন্তী বৈঠক উপলক্ষ্যে উভয়ই নানা বিষয় ঐক্যমতে পৌঁছার একটি সুযোগ পেয়েছে. বিশেষত রকেট প্রতিরোধ ব্যবস্থা সংক্রান্ত প্রশ্নের সমাধান করা. শিকাগোতে আসন্ন ন্যাটোর সম্মেলনে এ বিষয়টি সত্যিই অনেক বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে . যদিও এবারও রাশিয়ার বিরুদ্ধে রকেট প্রতিরোধ ব্যবস্থা বন্ধ করতে ন্যাটো কর্তৃপক্ষের কাছে মস্কো যে লিখিত আকারে চিঠি চেয়েছে তার কোন উত্তর মেলে নি.

        রাশিয়া ও ন্যাটো পরিষদের বৈঠক যা এ বছর ১০ বছরে পা দিয়েছে. তাই স্বভাবতই এর অংশগ্রহনকারীদের মাঝে একটা উত্সবমুখর মনোভাব ছিল. তবে প্রধান প্রশ্ন হচ্ছে রকেটবিরোধী প্রতিরোধ ব্যবস্থা.  ন্যাটোর মহাসচিব রাসমুসেন বলেছেন, এই পদ্ধতি রাশিয়ার বিরুদ্ধে হচ্ছে না বরং তা হচ্ছে ন্যাটোর মিত্র জোটোর কাজের একটি অংশ.

          ২ ঘন্টাব্যাপী ওই আলোচনা বৈঠকের অন্যতম প্রশ্নাবলি ছিল- আমরা অবশ্যই একে অপরের মিত্র, তবে.... এরপর সুনির্দিষ্ট শর্তাবলী উল্লেখ করা হয়. রাসমুসেনের মতে, এটা হচ্ছে জর্জিয়া এবং রাশিয়াকে ত্যাগ করে হয়ত বা ইউরোপীয় রকেটবিরোধী প্রতিরোধ ব্যবস্থা নিয়ে দুই পক্ষের মুখমুখি হওয়া. রাসমুসেন বলছেন,

        ‘শিকাগো সম্মেলনে আমরা আফগানিস্তান প্রশ্ন নিয়ে আলোচনা করা ছাড়াও মন্ত্রী ল্যাভরোভের সাথে সেই সব বিষয় নিয়ে কথা বলেছি যেখানে উভয় পক্ষেরই ভিন্ন ভিন্ন মত রয়েছে. সবার শুরুতেই হচ্ছে জর্জিয়া. আমরা এ দেশের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অবস্থানকে সমর্থন জানাই যা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় কর্তৃক স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে. রকেটবিরোধী প্রতিরোধ ব্যবস্থা প্রশ্নের অগ্রসর নিয়ে আরও একটি ধারা রয়েছে, যেখানে এখনও ঐক্যমতে পৌঁছানো যায় নি. সবচেয়ে ভাল হয় যদি সব ধরনের বিপদজনক গ্যারান্টি উঠিয়ে নেওয়া হয়. আমরা তথ্য বিনিময়ের জন্য ১ বা ২ টি সেন্টার প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দিয়েছি. এ পদ্ধতিতে একে অপরের সাথে পরিসংখ্যান বিনিময় ও হুমকির কার্যকারিতা বিবেচনা করার সুযোগ পাওয়া যেত এবং রাশিয়া জানতে পারত যে, আমাদের পদ্ধতি তাদের বিপক্ষে করা হচ্ছে না’.

      অন্যদিকে আইনগত দিক দিয়ে পরিষ্কার করে নিশ্চয়তা না দিলে মস্কো তাতে সমর্থন দিবে না. এমনটি বলছেন রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সেরগেই ল্যাভরোভ. তিনি বলেন,

        ‘এই আশ্বাস অনেক গুরুত্বপূর্ণ এবং আমরা তা শুনতে পাচ্ছি. যদিও একদিকে বলা হচ্ছে বিশ্বাস করতে আবার পরীক্ষাও করতে. সামরিক ক্ষেত্রে মুখের কথায় বিশ্বাস করতে নেই. আমাদের প্রয়োজন রাজনৈতিক আশ্বাসের পূর্ণ নিশ্চয়তা’.

       এভাবেই, সর্বশেষ দুই পক্ষের বৈঠকে গুরুত্বপূর্ণ কোন প্রশ্নে ঐক্যমতে পৌঁছানো যায় নি. বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আপাতত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আগে এ প্রশ্নের সমাধান নিয়ে আশা করা যাচ্ছে না. সামরিক বিশেষজ্ঞদের যে বিশেষ বৈঠক আগামী ৩ ও ৪ মে মস্কোতে অনুষ্ঠিত হবে, সেখানে মূলত কৌশলগত দিক নিয়ে আলোচনা করা হবে.

        সিরিয়ার প্রসঙ্গ নিয়েও বৈঠকে আলোচনা করা হয়. ল্যাভরোভ এ প্রশ্ন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও তুরস্কের সাথে আলাদা আলাদা বৈঠক করেন. প্রেস কনফারেন্সের সময়  ল্যাভরোভ বলেন,  ‘সিরিয়ার প্রশ্ন সমাধান করা খুব সহজ কাজ নয়. তিনি বলেন, দর্শক, পাঠক ও শ্রোতাদেরকে নিরুত্সাহিত করার প্রয়োজন নেই. আপনারা কেউই সিরিয়ার পরিস্থিতি চিন্তা করছেন না, যেখানে প্রতিদিন সকালে কামান ও ট্যাংকের বহর যাচ্ছে এবং নিরীহ জনগনকে হত্যা করা হচ্ছে. তবে পরিস্থিতি আরও অনেক জটিল. এমনকি এ তথ্যও রয়েছে যে, অস্ত্রধারী দলগুলোকে বিদেশ থেকে অস্ত্র সরবরাহ করা হচ্ছে এবং তাদের পরিচালিত বোমা হামলার ঘটনা নিয়ে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে আলোচনা করা হয়েছে’.

      রাশিয়া ও ন্যাটোর মধ্যে সম্পর্কের ক্ষেত্রে অন্যতম সাফল্যের দিক হচ্ছে আফগানিস্তান সংক্রান্ত দ্বিপাক্ষিক কার্যক্রম. এর প্রথম হচ্ছে- রাশিয়ার ভূখণ্ড ব্যবহার করে ন্যাটোর সামরিক পণ্য পরিবহন করা এবং এই চুক্তির অংশ হিসেবে ইতিমধ্যে ৪০ হাজারেরও অধিক কন্টেনার পরিবহন করা হয়েছে. রাশিয়ার উলিয়ানোভস্কের সামরিক ঘাঁটি ব্যবহার করা নিয়ে ন্যাটোর প্রস্তাবে অনুষ্ঠিত আলোচনায় আশানুরুপ অগ্রগতি হয়েছে.

      সেরগেই ল্যাভরোভ বলেছেন, মস্কো ট্রানজিট পরিবহনের ক্ষেত্রে সহায়তা দিয়ে সমাধানের ভূমিকা পালন করছে. তাই আন্তর্জাতিক শক্তিতে রাশিয়ার অবদান একেবারে কম নয়. সেরগেই ল্যাভরোভ আরও উল্লেখ করেছেন, আফগানিস্তানে ন্যাটোর মিশনে অংশগ্রহনকারী দেশগুলোর সাথে একটি নির্দিষ্ট সময় সাক্ষাতে মিলিত হচ্ছে না রাশিয়া. শিকাগো সম্মেলনে এ ধরনের সাক্ষাতে মিলিত হওয়ার জন্য ব্রাসেলসের সম্মেলনে রাশিয়াকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে. তবে, রাশিয়ার জন্য এ সাক্ষাতের মান ও ধরণ সবার আগে আমাদের বিবেচনা করতে হবে বলে উল্লেখ করেছেন রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী.