শীত কালের শেষ হয়েছে, রাষ্ট্রপতির ঘোড়সওয়ার ও পদাতিক সৈন্য দলের কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানের আরও একটি ঋতু শুরু হল. ঠিক মধ্য দিনে ক্রেমলিনের ক্যাথেড্রাল স্কোয়ারে বেরিয়ে এসেছিল পাহারাদার পদাতিক সৈন্য দল, যাদের পরনে ছিল বিংশ শতাব্দীর শুরুর সময়ে তৈরী প্যারেডের ইউনিফর্ম. সেনা বাহিনীর অর্কেস্ট্রার সঙ্গে তারা পাথরের রাস্তার উপর দিয়ে চলে গিয়েছিল, তার পরে তাদের বদলে এসেছিল ঘোড়সওয়ার বাহিনী. তারা দেখিয়েছিল নানা ধরনের কুচকাওয়াজ গঠন ভঙ্গিমা ও তারপরে বন্দুক নিয়ে নানা কৌশল. এই দিনেই শুরু হল আরও একটি কুচকাওয়াজের ঋতু, যা প্রতি শনিবারে ক্রেমলিনে হবে একেবারে হেমন্তের শেষ অবধি.

    প্রতি বছরের পদাতিক ও ঘোড়সওয়ার বাহিনীর কুচকাওয়াজ ঋতু শুরু হচ্ছে এবারে অষ্টমবার. গত শতকের শুরুর সময়ের পোষাক পরে পাহারাদার সৈন্য দল ক্যাথেড্রাল স্কোয়ারের পাথরের রাস্তায় বেরিয়েছিল ২০০৫ সালে. তারপর থেকেই মস্কোর এক প্রতীক হয়েছে এই কুচকাওয়াজ, যা একই সঙ্গে নাম না জানা সৈন্যদের কবরের সামনে প্রতি ঘন্টায় পাহারার পরিবর্তনের মত বিশ্ব বিখ্যাত.

    পাহারাদার সৈন্য দলের কুচকাওয়াজ একটি সবচেয়ে রঙ বহুল ও দর্শনীয় সামরিক অনুষ্ঠান. তার ইতিহাস বহু শতকের গভীরে ও শুরু হয়েছিল মহান সম্রাট প্রথম পিওতর এর সময় থেকেই. এটা সত্য যে, রাশিয়া সাম্রাজ্যের সময়ে এই কুচকাওয়াজ কোন নির্দিষ্ট জায়গার সঙ্গে জড়িত ছিল না, বা এমন ছিল না যে, সেখানে সেই মুহূর্তে সম্রাট উপস্থিত বলে করা হচ্ছে, বরং এই জায়গা বেশীর ভাগ সময়েই ছিল সম্রাটের বাস ভবন অথবা তাঁর শিবির. মস্কোতে এই বিশেষ সৈন্য দল ডাকা হত শুধু সিংহাসনে আরোহণ অথবা রাজ্যাভিষেকের সময়ে.

    সোভিয়েত দেশের সময়ে এই সাম্রাজ্যবাদী অনুষ্ঠান পরিবর্তিত হয়েছিল. পাহারাদার সেনা দলের পরিবর্তে লেনিন মুসোলিয়ামের সামনে পাহারাদার পরিবর্তন করা শুরু হয়েছিল. বহু সহস্র লোক প্রতিদিন এই প্রহরা বদল অনুষ্ঠান দেখতে আসতেন. ক্রেমলিনের ঘড়ির ঘন্টার সঙ্গে পায়ে পা মিলিয়ে একে অপরের সঙ্গে জায়গা বদল করত সোভিয়েত দেশের সবচেয়ে প্রধান প্রহরার ক্ষেত্রে. বর্তমানে প্রধান প্রহরার ক্ষেত্র আর মুসোলিয়ামের সামনে নেই, বরং ক্রেমলিনের প্রাচীরের গাত্রে নাম না জানা সৈন্যদের কবরের সামনে রাখা হয়েছে. এখন সেখানে পাহারা দেয় সেই সব প্রহরীরাই, যারা রাষ্ট্রপতি বাহিনীর কুচকাওয়াজে অংশ নিয়ে থাকে.

    আনুষ্ঠানিক কুচকাওয়াজ এটা প্রতি সপ্তাহের ঘটনা, যা মস্কো ক্রেমলিনের সমস্ত দর্শকের পক্ষেই দেখা সম্ভব. এপ্রিল থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত ছয় মাস ধরে চলবে আর তা সকলের জন্যই উন্মুক্ত. শুধু রাশিয়ার প্রধান দর্শনীয় স্থানে প্রবেশের টিকিট কিনলেই চলবে.

    রাশিয়ার ও বিদেশী পর্যটকরা এই দারুণ অনুষ্ঠান দেখতে পেয়ে খুব খুশী হয়েছেন. উজ্জ্বল নীল রঙের পোষাকের উপরে সোনালী বোতাম, চোখ ঝলসানো বেয়নেট লাগানো বন্দুক, খুবই পরিচর্যা করা ঘোড়া এই সব দেখে. আর এই সবই করা হয়েছে ক্রেমলিনের সোনালী চূড়া সমেত প্রাসাদ সম গির্জা গুলির সামনে. এই সুন্দর দৃষ্টি নন্দন অনুষ্ঠান সত্যিই ভোলা যায় না.