পাকিস্তানে যে বিমান দুর্ঘটনার বলি হয়েছেন আজ ১২৭ জন লোক, তার কারণ ছিল খারাপ আবহাওয়া পরিস্থিতি. এই বিষয়ে খবর দিয়েছে আজ এই দেশের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি.

    পাকিস্তানের “বোঝা” এয়ার লাইন্স এক ব্যক্তিগত মালিকানা কোম্পানী, তাদের একটি বিমান করাচি থেকে ইসলামাবাদ যাচ্ছিল ও ইসলামাবাদের কাছে আজ ভেঙে পড়েছে সেই বিমানে ছিলেন ১১৮ জন যাত্রী ও ৯ জন বিমান কর্মী. বিমানটি খুবই শক্তিশালী ঝড়ের সামনে পড়ে, আর সেটাই কারণ হয়েছে দুর্ঘটনার. এখন পাকিস্তানের দক্ষিণের বিরাট এলাকা জুড়ে ও উত্তর পশ্চিমে – প্রবল ঝড় ঝঞ্ঝা হচ্ছে. একই সময়ে অসামরিক বিমান পরিচালনা নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ ঘোষণা করেছেন যে এই বিমানের পাইলটরা অবতরণের জন্য স্বীকৃতী বিমান বন্দর নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের থেকে পেয়েছিলেন ও তারপরে তাদের যোগাযোগ নষ্ট হয়ে গিয়েছিল. সামরিক বিমান ঘাঁটিতে জরুরী অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে.

    যে বোয়িং ৭৩৭-২০০ এরোপ্লেনটি আজ স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ছটা বেজে চল্লিশ মিনিট সময়ে ইসলামাবাদের উপকণ্ঠে এক গ্রামের উপরে ভেঙে পড়েছে, তাতে বিমানের যাত্রী ও কর্মী সহ ১২৭ জন ছাড়াও অন্য লোকজনও মারা যেতে পারতেন, কারণ এটি প্রায় এক কিলোমিটারেরও বেশী জায়গা জুড়ে পড়ে ভেঙেছে.

    করাচি থেকে ইসলামাবাদে আসা এই বিমানটি প্রবল বৃষ্টিপাত সহ ঝড়ের সম্মুখীণ হয়েছিল ও বিমান বন্দরে অবতরণের ঠিক আগেই এটির সহিগে যোগাযোগ ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল.

রুশ দূতাবাসের খবর অনুযায়ী বিমান দুর্ঘটনার ফলে কোনও রাশিয়ার নাগরিক মারা যান নি বলে আপাততঃ খবর পাওয়া গিয়েছে.

    এই বিষয়ে ইতার – তাস সংবাদ সংস্থাকে পাকিস্তানের রুশ দূতাবাস থেকে খবর দেওয়া হয়েছে. প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী ভেঙে পড়ার আগে বিমানটির একটি এঞ্জিনে আগুন ধরে গিয়েছিল.

পাঞ্জাব প্রদেশের রাজ্যপালের প্রবীণ পরামর্শদাতা টেলিফোনে পাকিস্তানের এই দুর্ঘটনা সম্বন্ধে বলেছেন.  Muhammad Faruk, Maximenko

আমরা মোহাম্মদ ফারুক আরশাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি জানিয়েছেন যে, এই নাতি বৃহত্ ব্যক্তিগত মালিকানা কোম্পানীর বিমানটি অনেক দিন পরে প্রথম উড়ান করেছিল. এই কোম্পানীর মাত্র দুটি – তিনটি বিমান রয়েছে. রাজধানী ইসলামাবাদের কাছে রাওয়ালপিন্ডি এলাকার বিমানবন্দরে আজ সন্ধ্যায় আকাশ খুবই ঘন মেঘে ঢাকা ছিল ও প্রায় কিছুই দেখতে পাওয়া যাচ্ছিল না. সম্ভবতঃ পাইলট বিমানটিকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেন নি. দেখাই যাচ্ছে যে, সমস্ত লোকই নিহত. বিমানের নানা টুকরো বিরাট এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে. ত্রাণ কর্মীরা কাজ করছেন. আরও খারাপ হয়েছে এই কারণে যে, বিমান ভেঙে পড়েছে একটি জনপদে, যেখানে অনেক লোক থাকেন, বিমানে আগুন ধরে গিয়েছিল. হতে পারে স্থানীয় লোকেদের মধ্যেও অনেকে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন. পাকিস্তানের রেডিও টেলিভিশনে এই সংবাদ প্রথমেই দেওয়া হচ্ছে. নানা জায়গা থেকে আসা সমবেদনা প্রকাশের জন্য ধন্যবাদ জানানো হচ্ছে.