দুই সুদানের যুদ্ধে চিন ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের দ্বন্দ্ব শুরু হয়েছে. বেজিং ঐতিহ্য অনুসারেই খার্তুম এর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সংযোগ রেখে চলে, একই সময়ে জুবা মনে করা হয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগী.

    চিনের জন্য সুদানের খনিজ তেল – আফ্রিকা মহাদেশের অ্যাঙ্গোলা ও নাইজিরিয়ার থেকে আমদানীর পরেই তৃতীয় আমদানীর বিষয়. চিনের কোম্পানী – সুদানের খনিজ তেল উত্পাদন ও পরিবহনের বিষয়ে সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ করেছে. এরই মধ্যে খনিজ তেলের সবচেয়ে বৃহত্তম উত্পাদনের জায়গা সুদান ও দক্ষিণ সুদান রাষ্ট্রের মধ্যে বর্তমানে ভাগাভাগির জন্য প্রধান বিষয় হয়েছে. তারা যুদ্ধ করতে চলেছে সম্পূর্ণ আকারের. সামরিক কাজকর্মের জন্য চিন, ভারত ও মালয়েশিয়ার খনিজ তেল কোম্পানী গুলি বিশাল পরিমানে আর্থিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে. শুধু চিনই সুদানের জ্বালানী শিল্প ক্ষেত্রে দুই হাজার কোটি ডলার বিনিয়োগ করেছে. প্রায় এত পরিমান অর্থই তারা লিবিয়াতে গৃহযুদ্ধের কারণে হারিয়েছে. পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি হতে পারে, এই কথা মনে করে রুশ বিজ্ঞান একাডেমীর আন্তর্জাতিক অর্থনীতি ও সম্পর্ক ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ আলেকজান্ডার সালিতস্কি বলেছেন:

    “এটা এর মধ্যেই আফ্রিকাতে যুদ্ধের কারণে চিনের নিজস্ব বিনিয়োগ হারানোর দ্বিতীয় ঘটনা. এটা সেই বহুবার আগে অনেকের বলা ধারণা যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সত্যিই চিনের আফ্রিকার খনিজ তেলের উত্স থেকে তেল পাওয়া বন্ধ করে দিতে চাইছে. এই ধরনের ঘটনা পরম্পরা খুবই গুরুতর ব্যাপার. শুধু এই কথা বলাই বাকী থেকে যাচ্ছে যে, দক্ষিণ সুদানের বাইরে থেকে সহযোগিতা করার উপযুক্ত শক্তি রয়েছে, এই সবই সিরিয়ার ঘটনা পরম্পরার মতই আর সারা “আরব বসন্তের” ঘটনারও মতো”.

    অসমর্থিত তথ্য অনুযায়ী পশ্চিমের দেশ গুলি নিজেদের নিকট প্রাচ্যের সহযোগীদের মাধ্যমে সেই মার্চ মাস থেকেই দক্ষিণ সুদানকে সামরিক সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে. এখানে কথা হচ্ছে অস্ত্র সরবরাহ, রকেট, পরিবহনের যন্ত্রপাতি এবং আফগানিস্তান থেকে ভাড়াটে সৈন্য. কূটনৈতিক উত্স থেকে জানিয়েছে যে, জুবা ওয়াশিংটন থেকে সুদানের সঙ্গে সামরিক যুদ্ধ শুরুর জন্য এক রকমের সমর্থন পেয়েছে. সুদানের রাষ্ট্রপতি ওমর বশীরকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অনেক কাল ধরেই আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদের স্পনসর বলে মনে করেছিল. বিগত সময়ে দুই দেশের সম্পর্ক কিছুটা ভাল হয়েছিল, কিন্তু তা বন্ধুত্বের হয় নি. তাই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের দক্ষিণ সুদানের সেনা বাহিনীর কাজকর্মের দিকে চোখ বন্ধ করে থাকতে পারার অনুমতি দিয়েছে, যারা ইতিমধ্যেই খনিজ তেল সমৃদ্ধ হেগ লিগ এলাকা দখল করেছে. আরও এই রকমের একটি খনিজ তেল সমৃদ্ধ এলাকা আবেই দখল করবে বলে জুবা থেকে দেওয়া হুমকি, এবারে সমস্ত সুদানেরই ভারসাম্য নষ্ট করে দিতে পারে.

    এটা হবে ভারত, মালয়েশিয়া ও চিনের খনিজ তেল কোম্পানী গুলির জন্য নতুন হুমকি, এই কথা মনে করে আলেকজান্ডার সালিতস্কি বলেছেন:

    “এই বিরোধ যথেষ্ট গুরুতর, সেটা একেবারেই ভিত্তি মূলক. আন্তর্জাতিক খনিজ তেলের বাজারে ইতিমধ্যেই এশিয়া থেকে কোম্পানী গুলি এসে গিয়েছে. এখন বোঝা গিয়েছে যে, অনেক ক্ষেত্রেই তারা পশ্চিমের কোম্পানী দের তুলনায় কাজ করতে পারে ভাল. সুদানে নতুন করে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে খনিজ তেলের উত্স সমেত এলাকা, তাই পশ্চিমের কোম্পানী গুলির স্বার্থ ক্ষুণ্ণ হচ্ছে এখানে এশিয়ার কোম্পানী গুলিকে জায়গা ছেড়ে দিলে. এখানে চলছে খুবই গুরুতর ভূ- অর্থনৈতিক ও ভূ- রাজনৈতিক স্বার্থের সংঘাত”.

    চিন সুদান থেকে তাদের যুদ্ধের আগে প্রায় ৭০ ভাগ উত্পাদিত খনিজ তেল আমদানী করত. এর থেকেই বোঝা যাচ্ছে তাদের তরফ থেকে কূটনৈতিক সক্রিয়তা, যা এই বিরোধের অবসানের জন্য প্রয়োগ করা হয়েছে. আশানুরূপ ফল পাওয়া যায় নি. সম্ভবতঃ, পশ্চিমের নেপথ্যে দাঁড়িয়ে করা খার্তুম শহরের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক খেলার জন্য এখন চিন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের জোটের কাছ থেকে রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদের মাধ্যমে দক্ষিণ সুদানের উপরে প্রভাব খাটানোর জন্য দাবী করতে পারে. কিন্তু তারা তো মনে হয় না এটা করবে.  তার মধ্যে তার পরেই, যখন কয়েকদিন আগে দক্ষিণ সুদানকে হঠাত্ করেই আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল ও বিশ্ব ব্যাঙ্কে গ্রহণ করা হয়েছে.