রাশিয়াতে কয়েক দিনের মধ্যেই এক দারুণ ঘটনা হতে চলেছে, তার নাম “গ্রন্থাগারের রাত”. এই অনুষ্ঠানের আওতায় দেশের বিশাল সংখ্যক লাইব্রেরী সমস্ত ইচ্ছুকদের জন্য দরজা খুলে ধরবে. এখানে যারা আসবেন, তাঁদের জন্য শুধু বই এবং লাইব্রেরী ঘুরে দেখার সুযোগই দেওয়া হবে না, বরং হবে সিনেমা দেখানো, গুণী জনকে দিয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়ানোর ব্যবস্থা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, সাহিত্য সমালোচনা, লেখক, কবিদের সাক্ষাত্কার ও নানা ধরনের বুদ্ধি ও স্মৃতির প্রতিযোগিতা. প্রসঙ্গতঃ, এই অনুষ্ঠানের নাম এই রকম দেওয়া কারণ হল যে, লাইব্রেরী গুলি সারা রাত কাজ করবে. এর অর্থ হল, রাশিয়ার লোকেদের নিজেদের কাজের পরে লাইব্রেরীতে আসার সম্ভাবনা থাকবে.

    কিন্তু লাইব্রেরী ছাড়াও, এই “গ্রন্থাগারের রাত” অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে জাদুঘর গুলি, প্রদর্শনী, প্রকাশনা, সাহিত্য সভা ও বইয়ের দোকান গুলি. এই সব জায়গায় হবে নানা রকমের মিথস্ক্রিয় উপজ অনুষ্ঠান, ঐতিহাসিক সাহিত্য অনুযায়ী নানা রকমের পোষাক পরিহিত শো ও আরও অনেক খুবই চিত্তাকর্ষক অনুষ্ঠান. এই বছরের অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন কালিনিনগ্রাদ থেকে ক্রাসনোইয়ারস্ক অবধি সারা রাশিয়া জুড়ে ৭৫০ এর বেশী সংস্থা.

    খুবই আনন্দের বিষয় হল যে, প্রত্যেক আলাদা জায়গারই এই রাতের জন্য আলাদা অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা রয়েছে. যেমন, মস্কো শহরের নেক্রাসভের নামাঙ্কিত লাইব্রেরীতে “সোভিয়েত দেশে ফেরা” নামের অনুষ্ঠান করা হবে. এখানে দেখানো হবে ভিন্টেজ গাড়ীর প্রদর্শনী. এখানে যাঁরা আসবেন, তাঁদের সকলকে সোভিয়েত সময়ের পানীয় আস্বাদন করতে দেওয়া হবে আর করা হবে বিশেষ সব প্রতিযোগিতা ও মনে রাখার মতো উপহারও দেওয়া হবে. সেন্ট পিটার্সবার্গ শহরের লাইব্রেরী গুলি ঠিক করেছে ইংরাজী গোয়েন্দা গল্প ও সিনেমার সন্ধ্যা আয়োজন করবে, থাকবে পিটার্সবার্গের কল্প কাহিনী আর এমনকি বইয়ের পাতা চিহ্নিত করার জন্য জিনিসের প্রদর্শনী এবং নানা রকমের হেঁয়ালি. তুলা শহরের লাইব্রেরী গুলি (মস্কোর দক্ষিণ দিকে) নিজেদের দরজা খুলে ধরবে এই রকমের একটা স্লোগান নিয়ে, “ব্যাকরণ শুদ্ধ লেখা – বর্তমানে জনপ্রিয়!” নামে.

    ২০১১ সালে “গ্রন্থাগারের রাত” নামের অনুষ্ঠানের কথা ভেবে বার করা হয়েছিল ফেসবুক সামাজিক সাইটে এই একই নামের গোষ্ঠীর তরফ থেকে. এর প্রধান লক্ষ্য ছিল রাশিয়ার জনগনের নজরে আবার করে সাহিত্য উপস্থিত করা, বড় শহরের নাগরিকদের, তাঁদের অত্যন্ত দ্রুত বেগে ধাবমান জীবনে, তাঁদের সুবিধামত সময়ে লাইব্রেরীতে যাওয়ার ব্যবস্থা করে দেওয়া ও সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হওয়ার. দুঃখের কথা হল, বিগত কিছু কাল ধরে অল্পবয়সী লোকদের মধ্যে গ্রন্থাগার আর জনপ্রিয় নেই, যখন বিশাল সংখ্যায় তথ্য ইন্টারনেটেই পাওয়া যাচ্ছে, তখন তারা ভাবে লাইব্রেরীর আর কি দরকার. ঠিক সেই কারণেই এই অনুষ্ঠানের অঙ্গ হিসাবে নানা অন্য অনুষ্ঠান করা হচ্ছে, যা লাইব্রেরীকে অন্য এক দৃষ্টিকোণ থেকে উপস্থাপনা করতে সক্ষম হয়. যাতে সকলে অভ্যস্ত নয়.

    “লাইব্রেরীর রাত” বা “গ্রন্থাগারের রাত” করার ধারণা স্রষ্টাদের মাথায় এসেছে গত পাঁচ বছর ধরে “জাদুঘরের রাত” অনুষ্ঠান সফল ভাবে করার পরে, যখন সারা রাশিয়ার যে কোন বাসিন্দাই সন্ধ্যা বেলায় তাঁর পছন্দের যে কোন জাদুঘরেই যেতে পারেন.