ইঙ্গুশেতিয়ার রাজধানীতে জুম্মা মসজিদ কমপ্লেক্সের নির্মাণকার্য শুরু হয়েছে.

 সারাতভে জুম্মা মসজিদে নিয়মিত নমাজ পড়তে আসা এক ব্যক্তি রাশিয়ায় কিকবক্সিংএ জাতীয় চাম্পিয়ন হয়েছে.

 মস্কো রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্গত এশিয়া ও আফ্রিকার দেশগুলির ইনস্টিটিউটের অধীনস্থ ইসলামতত্ত্ব বিভাগে ১৭ তম শিক্ষা বর্ষ চলছে. সে সম্পর্কে বলবেন ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ মিখাইল মেয়র.

       ২০০৯ সালে উত্তর ককেশাসে অবস্থিত ইঙ্গুশেতিয়া প্রজাতন্ত্রের রাজধানী মাগাসে জুম্মা মসজিদ ও ইসলামী কমপ্লেক্স নির্মাণ করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়. নির্মাণকার্যের খাতে অর্থসংস্থান করার জন্য ইঙ্গুশেতিয়ার মুখ্য প্রশাসক ইউনুস-বেক এভকুরোভের নির্দেশে ‘আজান’ নামক দাতব্য তহবিল গঠণ করা হয়. ঐ তহবিলের নেতৃত্বে আছেন রুশ সংসদের উচ্চকক্ষের সদস্য আহমেদ পালানকোয়েভ. তিনি আমাদের সংবাদদাতাকে জানাচ্ছেন –

      কমপ্লেক্সটি নির্মাণ করা হবে ২০ হেক্টর জমি জুড়ে. কমপ্লেক্সের মধ্যে থাকবে জুম্মা মসজিদ, হোস্টেল সহ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, হোটেল এবং মুফতিদের আবাসভবন. তাছাড়াও আমরা চাইছি কংগ্রেস-সেন্টার বানাতে, যেখানে বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠান, সম্মেলন, সেমিনার, অতিথি আপ্যায়নের আয়োজন করা যাবে, - বলছেন আহমেদ পালানকোয়েভ. – আমি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করতে যাই. এখন পর্যন্ত ভিতের নীচে ২ হাজার ২২৫টি পিলার গাঁথা হয়েছে. পরবর্তী ধাপ – ভিতের ঢালাই. আমার মনে হচ্ছে, যে স্থাপত্যের ও কার্যকারিতার দিক থেকে মসজিদটি চমত্কার হবে. মসজিদের গম্বুজটি গড়া হবে আধুনিক মালমসলা দিয়ে, যা তাপমাত্রার ওঠানামা বা অন্য কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত হবে না. গম্বুজের ব্যাস হবে ৫৪ মিটার. আমি যতদূর জানি, আমাদের মসজিদ হতে পারে ইউরোপে সর্ববৃহত.

   মাগাসে নির্মীয়মান ঐ মসজিদে ৮ হাজার মানুষ আঁটবে. স্থাপত্য শৈলী হবে ইঙ্গুশেতিয়ার জাতীয় স্থাপত্যের ধারায়. স্থানীয় ইঙ্গুশ পাথর দিয়ে দেওয়াল গাঁথা হবে. প্রজাতন্ত্রের সেরা সব স্থপতিরা নির্মাণকাজে যোগ দিয়েছেন. মোটের ওপর, এই নির্মানকাজকে গোটা প্রজাতন্ত্রের গণনির্মাণ বলা যায়.

     আহমেদ পালানকোয়েভ বলছেন, - প্রজাতন্ত্রের অধিবাসীরা ও যে সব কোম্পানী এখানে কাজ করে, আমাদের অনেক সাহায্য করছে. এখন আমরা আমাদের ওয়েব-সাইটে অর্থদাতা কোম্পানীগুলির তালিকা ও সমস্ত খরচার হিসাব প্রকাশ করছি, যাতে সবকিছু যেন স্বচ্ছ থাকে. জুম্মা মসজিদ নির্মাণের খাতে যারা আর্থিক সাহায্য দিতে চায়, তাদের জন্য প্রয়োজনীয় সব তথ্য আছে ‘আজান’ তহবিলের ওয়েব-সাইটে. শুরু থেকেই প্রকল্পটি গোটা জাতির বলে ভাবা হয়েছিল, এবং বাস্তবে তাই হয়েছে. পালানকোয়েভ সবশেষে বলছেন, যে জনগণ বুঝতে পারছে, যে মসজিদটি ও গোটা ইসলামী কমপ্লেক্স হয়ে দাঁড়াবে ইঙ্গুশেতিয়ার রাজধানী মাগাসের ভিজিটিং কার্ড.

     রাশিয়ার উম্মিতের খবর শুনুন এবার.

দাগেস্তান প্রজাতন্ত্রের প্রাচীন শহর দেরবেন্তের ১২৫ জন বাসিন্দা বিনা পয়সায় হজযাত্রা করতে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছে. পৃষ্ঠপোষক সুলেইমান কেরিমভ ৩ হাজার এরকম প্যাকেজ দিয়েছেন. প্রজাতন্ত্রের মসজিদগুলিতে লটারীর আয়োজন করা হয়েছিল. সব শহরে ও অন্যান্য জনবসতিকেন্দ্রে প্রতি ১ হাজার ইচ্ছুকের মধ্যে থেকে একজনের অনুপাতে প্যাকেজগুলি বিলি করা হয়েছে. লটারী পরিচালনা প্রক্রিয়া ছিল পুরোপুরি স্বচ্ছ. জনগনের চোখের সামনে টিকিটগুলি ঘাঁটাঘাঁটি করে, একটা টিকিট তুলে নিতে বলা হয়. সুলেইমান কেরিমভের দাতব্য তহবিলের দান করা অর্থে বিনামূল্যে হজযাত্রা করতে পারবে শুধু অভাবীরা, এবং তারা, যারা ইতিপূর্বে কখনো হজযাত্রা করেনি.

      তাতারস্তান প্রজাতন্ত্রের একটি শহর আলমেতিয়েভস্কে এই প্রথম অধিকবয়স্ক মুসলমানদের কোরান পাঠের প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হল – শহরের ১০টি মসজিদে নমাজ পড়তে যাওয়া ধর্মবিশ্বাসীদের. প্রতিযোগীদের তজবিরের নিয়ম অনুযায়ী কোরানের সুরা মুখস্ত বলতে হয়েছে. বিচারকের ভূমিকায় ছিলেন শহরের মসজিদগুলির ইমামরা. বিজয়ীদের সার্টিফিকেট ও পবিত্র কোরানের কপি উপহার দেওয়া হয়েছে, অন্যরাও পেয়েছে স্বান্তনা পুরস্কার.

      চেচনিয়ায়, আর্গুন শহরে খুব শীঘ্রই প্রজাতন্ত্রের মুখ্য প্রশাসকের মাতৃদেবী আইমানি কাদিরভার নামাঙ্কিত অদ্ভূত সুন্দর একটি মসজিদের নির্মানকাজ সম্পন্ন হবে. ওখানে ৫ হাজার মানুষ ঠাঁই পেতে পারবে. গম্বুজের উপর সর্বশক্তিমান আল্লাহর নাম খোদাই করা হবে. মসজিদটির স্থাপত্য শৈলী অত্যন্ত সূক্ষ আর ভেতরটা ভারী সুন্দর. এই প্রসঙ্গে জানাই, যে বর্তমানে চেচনিয়ায় প্রায় ১ হাজার মসজিদে নমাজ পড়া হয়.

       ভোলগা নদীর তীরবর্তী সারাতভ শহরে রাশিয়ার জাতীয় কিকবক্সিং চ্যাম্পিয়নশীপ হয়ে গেল. সারা দেশের সেরা ৫০০ কিকবক্সার প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়. সারাতভ জেলার তরফ থেকে যোগ দেয় তিনবার বিশ্বকাপ জয়ী, রাশিয়ার জাতীয় কিকবক্সিং দলের অধিনায়ক, মুসলিম ধর্মবিশ্বাসী দাতসি দাতসিয়েভ. সেই শেষমেশ বিজয়ী হয়েছে. ফাইন্যালের পরে তাকে ও তার প্রশিক্ষক রাসুল দালগাতভকে অভিনন্দন জানান সারাতভ জেলার মুফতি মুকাদ্দাস-হজরত বিবারসভ. এই জয়ের সুবাদে দাতসিয়েভ আগামী ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়নশিপে যোগদানের অধিকার পেয়েছে.

      

    মস্কো রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্গত এশিয়া ও আফ্রিকার দেশগুলির ইনস্টিটিউটে আমীর নাইফ বেন আল-আজিজের তত্ত্বাবধানে ইসলামতত্ত্বের বিভাগ কাজ করছে. বিগত সময়ে বিনামূল্যে হাজার হাজার মস্কোবাসী সেখানে শিক্ষা লাভ করেছে, যাদের অনেকেই মুসলমান নয়. তাদের মধ্যে আছে উচ্চশিক্ষার্থীরা, অবসরপ্রাপ্ত লোকজন, ধর্মতত্ত্ববিদেরা – বিভিন্ন বয়সের ও পেশার মানুষ. ফ্যাকালটি শুরু থেকেই ইচ্ছুক সকলের জন্যই উন্মুক্ত ছিল.

    আরবী ভাষা, কোরান তত্ত্ববিদ্যা, হাদিস তত্ত্ববিদ্যা, শরিয়তের মুলতত্ত্ব, মুসলিম রাষ্ট্রসমূহের ইতিহাস এবং আরো অনেক বিষয় সেখানে শিক্ষা দেয় ইনস্টিটিউটের সেরা অধ্যাপকেরা.

     ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ মিখাইল মেয়র বলছেন – আমি মনে করি, যে শিক্ষার্থীদের ক্রমবর্ধমান সংখ্যা প্রমাণ করে, যে আমরা ঠিক পথেই চলেছি. স্বীকার করছি প্রথম কয়েক বছর ছিল সন্ধানের সময় – কোন স্তরে পড়ানো হবে, কি পড়ানো হবে ইত্যাদি. আজ আমি দেখি, যে ক্লাসে আসে এমন অনেকে, যারা ৯০-এর দশকেও আসতো. তারা তাদের অর্জিত জ্ঞান ঝালিয়ে নিচ্ছে, সে জন্য সময় ব্যয় করতে তাদের দ্বিধা নেই, উপরন্তু তারা নতুন নতুন বিদ্যাও অর্জন করে. কারণ প্রত্যেক বছর আমাদের এখানে নতুন নতুন কোর্স হয়. যুব সম্প্রদায়ের স্রোত ক্রমশই বাড়ছে. অনেক ছেলেপুলেই ধর্মীয় শিক্ষা পেয়েছে, হয় মাদ্রাসায় অথবা কোর্স করেছে. কিন্তু আমাদের ফ্যাকালটি তাদের আকর্ষন করে. বোধহয় এই কারণেই, যে আমরা দিই অ্যাকাডেমিক ইসলামতত্ত্বের দৃষ্টিভঙ্গী, যেটা ইসলামী দুনিয়ায়, ইসলামী বিজ্ঞানে চলতি প্রক্রিয়াগুলিকে বুঝতে সাহায্য করে.

      অধ্যাপক মিখাইল মেয়র ফ্যাকালটিতে ইসলাম রাষ্ট্রসমূহের ইতিহাসের কোর্স করান – ইসলামের উত্পত্তির সময় থেকে আজ পর্যন্ত.

     মিখাইল মেয়র বলছেন – এই বছরে আমি ততখানি বিভিন্ন ইসলামী দেশের ইতিহাস পড়াচ্ছি না, যতখানি ইসলামী সভ্যতা সম্পর্কে. এটা এমন একটা বিষয়, যা নিয়ে সাম্প্রতিক কাল পর্যন্ত তেমন শিক্ষা দেওয়া হয়নি. এবং কোর্সটি শিক্ষার্থীদের জন্য আগ্রোহদ্দীপক. এই কোর্সটি পড়ানো কঠিন, কারণ লোকে জানতে চায় বিষদে. পবিত্র খালিফদের দেখতে কেমন লাগতো, কবে ও কিভাবে প্রথম কোরান লিখিত রূপ পায়. লেকচার চলে খুব জীবন্তভাবে, কারণ বিষয়গুলি হচ্ছে অতীতের সেই জীবন, সেই সব সমস্যা নিয়ে, যা মুসলমানদের ভাবাতো. অবশ্যই মাঝে মধ্যে শোনা লেকচার আধুনিক সময়ের নিরিখে মাপা হয়, তাই চলে উত্তপ্ত বিতর্ক. ইসলাম সভ্যতার কোর্সটা আমি প্রথমে রাশিয়ার মুফতি পরিষদের অনুরোধে সংকলন করি. কিন্তু প্রথমবার কোর্সটা পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে আমাদের ফ্যাকালটিতেই, এবং মস্কোয় এর জনপ্রিয়তার এটাও একটা কারণ – সবশেষে বললেন এশিয়া ও আফ্রিকার দেশগুলির ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ মিখাইল মেয়র.