বিশ্বাস করো, তবুও পরীক্ষা করো – ঠিক এই ভাবেই রাশিয়ার পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রধান সের্গেই লাভরভ ন্যাটো জোটের নেতৃত্বের সেই ঘোষণা যে, ইউরোপীয় রকেট প্রতিরোধ ব্যবস্থা রাশিয়ার স্বার্থের বিরুদ্ধে করা হচ্ছে না, তার সম্বন্ধে মন্তব্য করেছেন. এই ঘোষণা করা হয়েছে রাশিয়া ন্যাটো সভার জয়ন্তী বর্ষপূর্তি সভায়, যেটি বৃহস্পতিবারে ব্রাসেলস শহরে অনুষ্ঠিত হয়েছে. উল্লেখ যোগ্য তারিখ ও সহযোগিতা সংক্রান্ত অনেক উচ্চৈস্বরে ঘোষণা করা হলেও, দুই পক্ষই স্বীকার করেছেন যে, এই সম্পর্কের মধ্যে বর্তমানে রয়েছে খুবই গুরুতর মত পার্থক্য. এই গুলিরই সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ে নিরসনের প্রয়োজন রয়েছে.

    রাশিয়া ও ন্যাটো জোটের পারস্পরিক সম্পর্ক আজ এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে রয়েছে, এই কথা বলেছেন জোটের মহাসচিব আন্দ্রেস ফগ রাসমুসেন বৈঠকের ফলশ্রুতি হিসাবে. আগামী মাসে শুধু এই সভা সৃষ্টির দশকই উদযাপিত হবে না, বরং পালন করা হবে রাশিয়া ও উত্তর অতলান্তিক জোটের সম্পর্কের ভিত্তি মূলক চুক্তির পনেরো বছরও. তখন কেউই ভাবতে পারেন নি যে, আমরা যৌথ ভাবে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াই করতে পারবো, আফগানিস্তানের সমস্যার সমাধান করতে পারবো ও বহু অন্যান্য বিষয়ে সহযোগিতা করতে পারবো. তা স্বত্ত্বেও এটা বর্তমানেরই বাস্তব. বিগত বৈঠক আরও এই কারণেই গুরুত্বপূর্ণ ছিল যে, এই খানে মূল্যায়ণ করা হয়েছে কিভাবে ২০১০ সালের রাশিয়া ন্যাটো সভার লিসবন শহরের সমঝোতার বাস্তবায়ন করা হয়েছে তার জন্যই. তখন লক্ষ্য নেওয়া হয়েছিল এই “সহযোগিতার স্ট্র্যাটেজিক আধুনিকীকরণের” কাঠামো তৈরী করার, এই কথা উল্লেখ করে নিজের পক্ষ থেকে সের্গেই লাভরভ বলেছেন যে, তা স্বত্ত্বেও এখনও সেই সমস্ত প্রশ্নের বিষয়েই পারস্পরিক মত পার্থক্য রয়েই গিয়েছে, যা রাশিয়ার নিরাপত্তা নিয়ে করা হয়েছিল. প্রাথমিক ভাবে রকেট প্রতিরোধ ব্যবস্থা নিয়ে. এর আগে মস্কো ঘোষণা করেছিল যে, ন্যাটোর পক্ষ থেকে এই ব্যবস্থার রাশিয়া সংক্রান্ত নিরাপত্তার গ্যারান্টি দিতে না চাওয়া সমস্ত আলোচনাকেই কানাগলিতে নিয়ে ফেলেছে. বৃহস্পতিবারে এই জোটের নেতৃত্ব রাসমুসেনের নেতৃত্বে আবারও সীমাবদ্ধ থেকেছে শুধু ঘোষণা দিয়েই যে, রাশিয়ার ভয় পাওয়ার কিছু নেই, প্রসঙ্গতঃ, রাসমুসেন বলেছেন:

    “আমাদের বিশেষজ্ঞরা একাধিকবার রাশিয়ার সহকর্মীদের কাছে বলেছেন যে, প্রযুক্তিগত দিক থেকে ভয় পাওয়ার মতো কিছু নেই. রাজনৈতিক ভাবে একই সঙ্গে স্পষ্ট যে, ন্যাটো জোট – রাশিয়ার শত্রু নয়, এটা সেই ১৫ বছর আগেই বলা হয়ে গিয়েছে. তারই সঙ্গে এটাও জানা আছে যে, রাশিয়া ন্যাটো জোটের সীমান্তের জন্য কোন রকমের বিপদ নয় ও সেই সমস্ত দেশের নাগরিক, যারা এই জোটে রয়েছেন, তাঁদের জন্যও নয়”.

    মস্কো সহযোগিতা করতে রাজী, এই কথা উল্লেখ করেছেন সের্গেই লাভরভ, কিন্তু বর্তমানের পরিস্থিতিতে শুধু ভাল ইচ্ছাই নিরাপত্তার জন্য গ্যারান্টি হতে পারে না, তাই বিশেষ করে রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রধান বলেছেন:

    “এই কথাগুলি খুবই গুরুত্বপূর্ণ, আর আমরা তা শুনতেও পেয়েছি. কিন্তু সামরিক ক্ষেত্রে কোন রকমের আশ্বাসই গুরুত্বপূর্ণ নয়, গুরুত্বপূর্ণ হল ক্ষমতা. আর এই প্রকল্পের শেষ অধ্যায়ে কিছু পরিকাঠামো তৈরী হচ্ছে, যা আমাদের পারমানবিক প্রতিহত করার শক্তির জন্য ঝুঁকির সৃষ্টি করবে. আমাদের চাই স্পষ্ট গ্যারান্টি, আমাদের দিকে তাক না করার বিষয়ে, কোন রাজনৈতিক আশ্বাস নয়”.

    রাশিয়া ও ন্যাটো জোটের মধ্যে সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে, সের্গেই লাভরভ আলাদা করে উল্লেখ করেছেন আফগানিস্তানের প্রশ্ন নিয়ে সমাধানের প্রসঙ্গে. এটা প্রাথমিক ভাবে ন্যাটো জোটের শক্তির জন্য অসামরিক সামগ্রীর রাশিয়ার মধ্য দিয়ে পরিবহনের ক্ষেত্র. এর মধ্যে ৪০ হাজারের বেশী কন্টেনার পরিবহন করা হয়েছে, রাশিয়ার উলিয়ানভস্ক শহরের ঘাঁটি ব্যবহার করে অসামরিক দ্রব্য পরিবহন ও ট্রানজিটের বিষয়ে আলোচনাতেও উল্লেখ যোগ্য উন্নতি হয়েছে. কাবুলের সদ্য বিগত সময়ের ঘটনা গুলি সম্বন্ধে আলোচনা করতে গিয়ে দেখা গিয়েছে এই প্রশ্ন বৈঠকের কাঠামোর মধ্যে একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয় হয়েছে. সের্গেই লাভরভ বিবৃতি দিয়েছেন যে, সেই দেশের পরিস্থিতি খুবই জটিল ও আরও একবার ন্যাটো জোটকে আহ্বান করেছেন যৌথ নিরাপত্তা চুক্তি সংস্থার সঙ্গে এই ক্ষেত্রে সহযোগিতা করতে, যাদের সন্ত্রাসবাদ ও মাদক পাচারের বিষয়ে বড় কাজ করার সম্ভাবনা রয়েছে.

    সের্গেই লাভরভ শুধু জোটের সাধারন সম্পাদকের সঙ্গেই দ্বিপাক্ষিক আলোচনা করেন নি, বরং তুরস্ক ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সহকর্মীদের সঙ্গেও বৈঠক করেছেন. তাতে আলোচনা করা হয়েছে সিরিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে. এছাড়া হিলারি ক্লিন্টনের সঙ্গে আলোচনার সময়ে দুই পক্ষই খুব বিশদ ভাবে ইরানের পারমানবিক পরিকল্পনা নিয়ে সমস্যা সম্বন্ধে আলোচনা করেছেন ও তা “ছয় দেশের মধ্যস্থতাকারী” প্রতিনিধি দলের কাঠামোর মধ্যেই সমাধানের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখেছেন.