রাশিয়ার রাজধানী মস্কো শহরে “নেভি টেক – ২০১২” নামের বাত্সরিক দিক নির্ণয় প্রযুক্তি সংক্রান্ত প্রদর্শনী এই নিয়ে ষষ্ঠ বার অনুষ্ঠিত হচ্ছে. এই বছরে এটা হচ্ছে রাশিয়ার উপগ্রহ ভিত্তিক দিক নির্ণয় ব্যবস্থা গ্লোনাসস এর সম্পূর্ণ ভাবে কার্যকরী হওয়ার মতো প্রতীকী ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে. বিশেষজ্ঞরা বলেছেন যে, এই শিল্প এর পরে উন্নত হবে দুটি দিক নির্দেশ ব্যবস্থা আমেরিকার জি পি এস ও রাশিয়ার গ্লোনাসস ব্যবস্থার সমাকলনের মধ্য দিয়ে, আর তারই সঙ্গে দুটি সম্ভাবনায় ব্যবস্থা নতুন করে যোগ হতে চলেছে – একটি ইউরোপীয় গ্যালিলেও ও অন্যটি চিনের কম্পাস.

    রাশিয়ার রাজধানীতে এই বারের সম্মেলনে হাজির হয়েছেন প্রায় দেড় হাজারের বেশী দিক নির্দেশ ব্যবস্থার সঙ্গে জড়িত প্রতিনিধি, বিভিন্ন দেশ থেকে, আর তাঁরা এখানে নিয়ে এসেছেন বিশ্বের ১৬টি দেশ থেকে সাড়ে চারশো কোম্পানীর বিভিন্ন এই সংক্রান্ত উত্পাদিত জিনিস. প্রধান প্রশ্ন – উপগ্রহ মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত দিক নির্দেশ ব্যবস্থার উন্নয়নের সম্ভাবনা ও তার ভিত্তিতে নতুন সব পরিষেবা. বিশ্বের বাজার খুবই দ্রুত গতিতে পরিবর্তিত হচ্ছে: রাশিয়া আমেরিকার জি পি এস ব্যবস্থার একচেটিয়া আধিপত্য ভঙ্গ করতে পেরেছে, যা প্রতিযোগিতা বাড়িয়ে দিতে বাধ্য ও অনেক বেশী বাড়িয়ে দিতে পারে এর ভিত্তিতে পরিষেবার ব্যবস্থা. আর রাশিয়ার জন্য এই গ্লোনাসস ব্যবস্থা তৈরী করা, যার গঠন শেষ করা সম্ভব হয়েছে গত বছরে, তা খুবই গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়েছে, - এই কথা ঘোষণা করেছেন রাশিয়ার উপ প্রধানমন্ত্রী ভ্লাদিস্লাভ সুরকভ, তিনি এই প্রসঙ্গে বলেছেন:

“আজকের – ইতিমধ্যেই ষষ্ঠ – সম্মেলনে, যা কৃত্রিম উপগ্রহ মারফত দিক নির্দেশ ব্যবস্থা নিয়ে করা হচ্ছে, এমন একটা সময়ে, যখন আমরা গর্বের সঙ্গেই ঘোষণা করতে পারি যে, আমাদের পৃথিবীর কক্ষপথে পাঠানো উপগ্রহ সমষ্টি গ্লোনাসস ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ ভাবেই মেলে ধরতে সক্ষম হয়েছে. আমরা বিশ্বের দুটি দেশের একটি হতে পেরেছি, যাদের পক্ষে সম্ভব বিশ্ব অনুপাতে সেই ধরনের পরিষেবা দেওয়া. আমি আপনাদের সকলকেই সহযোগিতার জন্য আহ্বান করছি, এই সম্বন্ধে যে কোন পছন্দসই দিকে একসাথে কাজ করার জন্য ও রাশিয়ার প্রশাসনের পক্ষ থেকে ও একান্ত ব্যক্তি গত ভাবেও আশ্বাস দিচ্ছি যে, আমরা সব কিছুই করবো, যাতে যাঁরা আমাদের বিশ্ব জোড়া দিক নির্দেশ ব্যবস্থা নিয়ে আগ্রহী হবেন, তাঁদের কাছে আমাদের সঙ্গে কাজ করা হবে আনন্দের সঙ্গে ও আরাম দায়ক পরিস্থিতিতেই”.

গ্লোনাসস ব্যবস্থা সাফল্যের সঙ্গে শুধু রাশিয়ার কোম্পানীরাই বর্তমানে জন জীবনের অঙ্গ করছেন না, বরং তারা স্বাধীন রাষ্ট্র সমূহে, ভারত, ফ্রান্সে ও করছেন, এখন লাতিন আমেরিকার বাজারে উপস্থিত করার জন্যও কথা চলছে. এখন গুরুত্বপূর্ণ হল, যাতে উন্নতি থেমে না যায় ও এই ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ চলতেই থাকে, এই কথা উল্লেখ করে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় মহাকাশ সংস্থার প্রদান ভ্লাদিমির পাপোভকিন বলেছেন:

“রাশিয়ার জন্য গ্লোনাসস হল একটি প্রাথমিক মহাকাশ ব্যবস্থা, তা যেমন দেশের নিরাপত্তার বিষয়েও সরাসরি প্রভাব ফেলেছে, তেমনই এটা সেই ধরনের উদ্ভাবনী প্রযুক্তিগত উত্পাদন, যা আজ শুধু রাশিয়াই নয়, বরং আন্তর্জাতিক বাজারেও প্রয়োজনীয় বলে প্রমাণিত. দ্বিতীয় নীতিগত বিষয় হল – গ্লোনাসস থেকে পাওয়া সঙ্কেত সারা বিশ্বের জন্যই সমান ভাবে পাওয়ার উপযুক্ত ও তা দেওয়া হচ্ছে বিনামূল্যে. তৃতীয় নীতিগত বিষয় – এই ব্যবস্থা, এর কক্ষপথে উপস্থিত উপগ্রহ মণ্ডল, এর কার্যকরী অবস্থায় থাকার জন্য পরিষেবা, সব কিছুই করা হচ্ছে সরকারি খরচায়, সরকারের দায়িত্বে”.

এখন সরকার এই ধরনের দিক নির্দেশ ব্যবস্থার প্রধান ক্রেতা. প্রশাসন উদ্যোগ নিয়েছে এই ব্যবস্থা দিয়ে বিমান, সামুদ্রিক ও নদী পথে যাওয়ার জাহাজ, যাত্রী বাহী ও মালবাহী পরিবহন ব্যবস্থা উন্নত করার. রাশিয়ার গ্লোনাসস ব্যবস্থা এর মধ্যেই তৈরী আছে প্রতিযোগী উপগ্রহ মারফত যোগাযোগ ব্যবস্থা গুলির সঙ্গে কাজ করার জন্য. এখানে কথা হচ্ছে সম্ভাবনাময় ইউরোপের গ্যালিলেও ও চিনের কম্পাস নামের ব্যবস্থার. যাতে এই সমস্ত সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা সম্ভব হয়, তাই মস্কো শহরে এসেছেন অন্যান্য দেশ থেকে সব সহকর্মীরা, যাঁরা আজ নিজেদের উপগ্রহ দিক নির্দেশ ব্যবস্থা তৈরী করছেন. আর একই সঙ্গে এসেছেন অতি ক্ষুদ্র বৈদ্যুতিন প্রযুক্তি নির্মাতা বৃহত্ সমস্ত উত্পাদক কোম্পানীর প্রতিনিধিরা, যাঁদের উপরে নির্ভর করছে এই ব্যবস্থা গুলির পরিষেবা মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া ও প্রতিদিনের ব্যবহারে নিয়ে আসা.