রাশিয়ায় গণ দূরদর্শন চালু করা হবে. তজ্জনিত নির্দেশনামা স্বাক্ষর করেছেন রাষ্ট্রপতি দমিত্রি মেদভেদেভ. ঐ দুরদর্শনের পুরোপুরি কাজ করা শুরু করার কথা সামনের বছরের ১লা জানুয়ারী থেকে.

     রাশিয়ায় গণ দূরদর্শন হবে অবৈতনিক, সবার পক্ষে দেখার যোগ্য, বিজ্ঞাপন ও সেন্সর ছাড়া. রাষ্ট্রপতির নির্দেশনামায় আলাদা চিরকুটে ব্যাখ্যা করে বলা হয়েছে, যে দূরদর্শন চ্যানেলটির অনুষ্ঠানসূচী হবে তথ্য-বিশ্লেষন মুলক, চরিত্র হবে সমাজ-রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও শিক্ষামুলক.

    দেশের রাষ্ট্রপ্রধান একই সাথে কোম্পানীর জেনারেল ডিরেক্টর ও প্রধান সম্পাদকের পদ অধিকার করবেন. বহু দেশেই এরকম পদ্ধতি চালু আছে. তবে মুখ্য পরিচালন বোর্ড – সামাজিক দূরদর্শন পরিষদ গঠণ করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে রাশিয়ার ‘সামাজিক সভা’কে. ঐ বোর্ডে থাকবে বিভিন্ন রাজনৈতিক শক্তির প্রতিনিধিরা, নিরপেক্ষ বিশেষজ্ঞেরা ও সমাজসেবীরা. একমাত্র যাদের সেখানে যোগদান নিষিদ্ধ, তারা হল সরকারী আমলা. দমিত্রি মেদভেদেভ বলেছেন, যে নতুন আইনে সরকারী কর্মচারীদের খোলাখুলিভাবে বোর্ডে যোগ দেওয়া নিষিদ্ধ করে দেওয়া হয়েছে.

     আমাদের গণ দূরদর্শনের আর্থিক প্রয়োজন মেটানোর ব্যবস্থা তৈরি করতে হবে. বোধহয় প্রথমদিকে সরকারের তরফ থেকে ঋণ দিতে হবে, তবে পরবর্তী পর্যায়ে চ্যানেলটির নিজেকেই তহবিল গঠণ করতে হবে, যাতে সরকারী অনুদান ছাড়াই তারা চালাতে পারে, যা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ.

     গণ দূরদর্শন চ্যানেল খোলার অপরিহার্যতার কথা দমিত্রি মেদভেদেভ প্রথম বলেন ২০১১ সালের ডিসেম্বরে সংসদের উচ্চকক্ষের উদ্দেশ্যে পাঠানো বার্তায়. তখন অনেকেরই ধারনা হয়েছিল, যে এটা সমাজে প্রতিবাদী মনোভাবের প্রতিক্রিয়া. কিন্তু জাতীয় স্ট্র্যাটেজি ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ মিখাইল রেমিজোভ বলছেন, যে বিশেষজ্ঞদের মতে, এটা হবে সংবাদ মাধ্যমের ও জনসমাজের বিকাশের নতুন পর্যায়.

   মুল লক্ষ্য দুটি. প্রথমটির চরিত্র সামাজিক. যাতে বাণিজ্যিক স্বার্থের কথা না ভেবে মূল্যবোধ, রুচি গড়া সম্ভব হয়. দ্বিতীয়তঃ এমন চ্যানেল খোলা, যা শাসক কর্তৃপক্ষ অথবা বড় বড় শিল্প প্রতিষ্ঠানের ওপর আর্থিক দিক থেকে নির্ভরশীল থাকবে না.

     রাজনৈতিক প্রযুক্তি কেন্দ্রের উপাধ্যক্ষ সের্গেই মিখিয়েভের মতে, গণ দূরদর্শনের সারমর্ম হচ্ছে, যাতে সমস্ত রাজনৈতিক শক্তির ঐ চ্যানেলে একইরকম অধিকার থাকে. মুখ্য বিষয় হচ্ছে – কোন মুলনীতির ভিত্তিতে চ্যানেলটি সম্প্রচার করবে, কাদের মতামত ও স্বার্থ সেখানে প্রতিফলিত হবে – তার ওপরই চ্যানেলটির সাফল্য নির্ভর করবে.