হিংসা বর্জন করা এবং বিদেশ থেকে কোনো সামরিক হস্তক্ষেপ নয় – সিরিয়ায় চলতি ঘটনাবলী প্রসঙ্গে এটাই মস্কোর অবস্থান. মস্কোয় সিরিয়ার বিরোধী রাজনীতিকদের সাথে আলোচনাকালে রাশিয়ার সংসদের উচ্চকক্ষে আন্তর্জাতিক বিষয়ক কমিটির প্রধান মিখাইল মার্গেলভ এই উক্তি করেছেন. অন্যদিক থেকে সিরিয়ার বিরোধীরা তাদের সংকটের ক্ষেত্রে রাশিয়ার ভূমিকার উচ্চ মূল্যায়ন করেছেন ও সিরিয়ার ভবিষ্যত নির্ণয়ের প্রশ্নে মস্কোকে ভাবী সংলাপে গ্যারান্টিধারক হওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে.

    সিরিয়ার প্রতিনিধিদের সাথে মস্কোয় নিয়মিত শলা-পরামর্শ চলে. গত সপ্তাহে মস্কোয় এসেছিলেন সিরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী. এই সপ্তাহে এসেছে বাশার আসাদের বিরোধীরা. এই সব আলোচনাকালে রাশিয়া অনড়ভাবে হিংসার পথ ত্যাগ করে জাতীয় সংলাপ শুরু করার কথা বলে. সেইসাথেই রাশিয়া আলাদা কোনো পক্ষকেই উস্কানি দেয় না বলে মিখাইল মার্গেলভ মন্তব্য করছেন.---

   আমরা বহুবার বলেছি, যে রাশিয়ার সাংসদেরা সিরিয়ার ভূখন্ডে আয়োজিত যে কোনো ব্যাপারে পর্যবেক্ষকের ভূমিকা নিতে পারে, যা সে দেশে শান্তি স্থাপণে ও জাতীয় সংলাপের আয়োজনে সাহায্য করতে পারবে. আমাদের জন্য সিরিয়ায় একমাত্র বন্ধু হল – সিরিয়ার জনগণ. আমাদের মতে, শুধুমাত্র তারাই নিজেদের সমস্যাবলী সমাধানের অধিকার রাখে.

   সিরিয়ার যে প্রতিনিধিদলটি এখন মস্কোয়, তারা হচ্ছে গণতন্ত্রের লক্ষ্যে জাতীয় সমন্বয় কমিটির সদস্য. গতকাল তারা পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরোভ ও সংসদের নিম্নকক্ষে আন্তর্জাতিক বিষয়ক কমিটির প্রধান আলেক্সেই পুশকোভের সাথে সাক্ষাত করেছে. সিরিয়ার সংকট মোচনে মস্কোর ভূমিকার উচ্চ মূল্যায়ন করেছেন সুবিদিত মানবাধিকার সংগ্রামী হাইসাম মান্না. ---

   আমরা মনে করি, যে রাশিয়ার সরকার সিরিয়ার শাসকদের হিংসার পথ ত্যাগ করার জন্য বোঝানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে. আমরা বহুক্ষেত্রেই রুশ সরকার ও আমাদের জাতীয় সমন্বয় কমিটির মধ্যে অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গী লক্ষ্য করছি. প্রথমতঃ না আমরা, না মস্কো বিদেশী সামরিক অনুপ্রবেশ মেনে নেব না. দ্বিতীয়তঃ আমাদের দেশে গণতান্ত্রিক সংস্কার অবিলম্বে সাধন করার অপরিহার্যতা আমরা স্বীকার করি.

    বিরোধীরা সেই সময়েই মস্কোয় এসেছে, যখন সারা বিশ্ব সমনোযোগে জাতিসংঘের প্রাক্তন সাধারন সম্পাদক কোফি আন্ননের মিশনের দিকে নজর রাখছে. সিরিয়ার সরকার তার পরিকল্পনার প্রথম ২টি ধারা পালন করার কাজ শুরু করেছে – অগ্নি সংবরন করা ও দেশে বিদেশী পর্যবেক্ষকদের, যাদের মধ্যে প্রথম সারিতে থাকবে রাশিয়ার প্রতিনিধিরা, তাদের যাওয়ার অনুমতি দেওয়া. সবমিলিয়ে ২৫০ জন পর্যবেক্ষকের সিরিয়ায় যাওয়ার কথা. তবে কোনো কোনো এলাকায় এখনো সংঘর্ষ চলছে.

   বিশেষজ্ঞদের দৃঢ়মত এই, যে কোফি আন্ননের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কর্তব্য শুধুমাত্র একা বাশার আসাদের নয়. সিরিয়ার বিদ্রোহীদের যে সব দেশ ও সংস্থা অস্ত্র সরবরাহ করে চলেছে, জাতিসংঘের দরকার তাদের বুঝিয়ে ঐ কাজ থেকে বিরত করা. প্রাচ্যতত্ত্ব ইনস্টিটিউটের অধীন আরবী গবেষণা কেন্দ্রের বিশেষজ্ঞ বরিস দলগোভের মতে, শুধু সেই ক্ষেত্রেই শান্তি পরিকল্পনা সফল হতে পারে. ---

    আসল কথা হল – ততটা সিরিয়ায় সশস্ত্র জঙ্গী গোষ্ঠীদের দমন নয়, যতটা সিরিয়ায় বহির্শক্তি কতৃক আর্থিক সাহায্যদান থামানো. জঙ্গীরা ঢুকছে তুরস্ক থেকে, লেবানন থেকে, তাদের মদত দিচ্ছে পারস্য উপসাগরীয় এলাকার শাসনরত শেখরা, আমেরিকা সহ পশ্চিমী দেশগুলি. এটাই অস্থিতিশীলতার প্রধান কারণ.

    নজর রাখা – এটাই পর্যবেক্ষকদের একমাত্র কর্তব্য নয়. পরবর্তী পদক্ষেপ – সে দেশে জাতীয় স্তরে সংলাপের আয়োজন করা. এখনো পর্যন্ত বিরোধীদের সারিতে ঐক্য নেই. এমন লোকজনেরও অভাব নেই, যাদের একমাত্র কাম্য হচ্ছে- বর্তমান শাসন ব্যবস্থাকে উল্টে দেওয়া. সংঘর্ষের রাতারাতি নিষ্পত্তি হবে – এরকম আশা করা ঠিক নয়. এখন যে প্রক্রিয়া চলছে, সেটা দীর্ঘ ও দুরূহ পথের শুরু মাত্র.