গত বছরের নভেম্বর মাসে সেন্ট পিটার্সবার্গের ষষ্ঠ আন্তর্জাতিক “সংস্কৃতি আলাপ” সম্মেলনে পর্যটক, প্রত্নতত্ত্ববিদ ও সিনেমা পরিচালক লিওনিদ ক্রুগলভ ঘোষণা করেছিলেন এক উচ্চাকাঙ্ক্ষী প্রকল্পের কথা – বিখ্যাত চার মাস্তুলের বিশাল বজরা সেদভ চড়ে প্রথম রুশ বিশ্ব পরিক্রমা, যা উনবিংশ শতকের শুরুতে ইভান ক্রুজেনশ্টের্ন করেছিলেন, সেই রকমের পরিক্রমা করা হবে. এই অভিযানের শুরুর কথা হয়েছে ২০শে মে. এই সমুদ্র যাত্রা হবে ঠিক এক বছর ধরে ও এই সময়ের মধ্যে এই পাল তোলা জাহাজটি বিশ্বের ৩২টি বন্দরে যাবে.

    লিওনিদ ক্রুগলভ একই সঙ্গে ঘোষণা করেছিলেন সাংবাদিকদের জন্য প্রতিযোগিতার কথা, এর বিজয়ী যারা হবেন, তারাও এই অভিযানে যেতে পারবেন. তিনি অবশ্য বলেছিলেন যে, “এই ব্যাপারে বাছাই হবে খুবই কঠোর ভাবে”. ২০১২ সালের এই “বিশ্ব পরিক্রমা” অভিযানে সাংবাদিকদের মধ্যে একজন বিজয়িনী হলেন রেডিও রাশিয়ার পর্যবেক্ষক কারিনা ইভাশকো. তিনি বলেছেন:

      “যখন “সংস্কৃতি আলাপ” সম্মেলনে লিওনিদ ঘোষণা করেছিলেন এই প্রতিযোগিতার কথা, আমি অবশ্যই খুবই উত্তেজিত হয়ে পড়েছিলাম, কারণ পর্যটনের চেয়ে আর কি ভাল থাকতে পারে, তার ওপরে সারা বিশ্ব পরিক্রমা?! কিন্তু আমার, অবশ্যই অনেক প্রশ্ন ছিল. ব্যাপার হল যে, আমার নিজের “বাঁধা বন্দর” হল “রেডিও রাশিয়ার” সংস্কৃতি বিভাগ, আর এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া ও যাওয়া উচিত্ হবে এই প্রকাশনার পক্ষ থেকেই, প্রয়োজন হয়েছিল কিছু একটা উপায় বের করার. ফলে লিওনিদের সঙ্গে প্রায় সারা সন্ধ্যায় কথা বলতে হয়েছিল – বিশ্ব পরিক্রমা নিয়ে, পর্যটন নিয়ে... সব মিলিয়ে আমি মস্কো ফিরে এসেছিলাম এই রকমের একটা সিদ্ধান্ত মাথায় নিয়ে যে, আমাকে আমার উর্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে যেতে হবে ও এই প্রকল্পে “রেডিও রাশিয়ার” পক্ষ থেকে অংশ নিতেই হবে, কারণ “বিশ্ব পরিক্রমা” তর্কাতীত ভাবেই আমাদের বিষয় – আমরা যে রেডিও, যারা সারা বিশ্ব জুড়ে প্রচার করে থাকে”.

    কর্তৃপক্ষ এই রকমের “উত্তেজনায় উজ্জ্বল দৃষ্টির” মূল্যায়ণ করে এই ধান্ধাকে সমর্থনই করেছিলেন. পরে “রেডিও রাশিয়া”, “২০১২ – বিশ্ব পরিক্রমার” আয়োজকদের সঙ্গে তথ্য প্রচারের সহযোগিতা নিয়ে চুক্তি করেছে.

মনে করিয়ে দেবো যে, “সেদভ” নামের চার মাস্তুলের বজরা জাহাজ ২০শে মে সেন্ট পিটার্সবার্গ থেকে রওয়ানা হবে বিশ্ব পরিক্রমায়. এই অভিযানের খবর নিয়ে এখন আপনারা লক্ষ্য রাখুন আমাদের “রেডিও রাশিয়ার” রেডিও তরঙ্গে ও ইন্টারনেটের পাতায়.