১৬-১৯শে এপ্রিল মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুর শহরে আয়োজিত ডি এস এ – ২০১২ আন্তর্জাতিক এশিয়া সামরিক অস্ত্র ও প্রযুক্তি প্রদর্শনীতে রাশিয়ার কোম্পানী গুলি ৪০০টিরও বেশী আধুনিক উত্পাদিত বস্তু দর্শকদের সামনে উপস্থিত করতে চলেছে. এই প্রদর্শনী করা হয়ে থাকে প্রতি দুই বছরে একবার করে মালয়েশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও জাতীয় পুলিশ দপ্তরের উদ্যোগে.

    এই বছরে নিজেদের জিনিস দেখানোর জন্য ৪০টি দেশ থেকে ৭০০টিরও বেশী কোম্পানী এখানে আসবে. সবচেয়ে বেশী জিনিস দেখাচ্ছে মালয়েশিয়া (৫৪টি কোম্পানীর থেকে), মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র (৪০টি), গ্রেট ব্রিটেন (৩০টি), জার্মানী (৪৫টি), ফ্রান্স (৩০টি). রাশিয়ার হয়ে যাচ্ছেন ১৭টি প্রতিরক্ষা কোম্পানী ও কারখানার তরফ থেকে, তাদের মধ্য রয়েছেন বিশ্ব খ্যাত অস্ত্র ও সামরিক প্রযুক্তি নির্মাণ কোম্পানী গুলি, যেমন “উরালভাগোনজাভোদ” – বিশ্বের একটি বৃহত্তম ট্যাঙ্ক প্রস্তুত কারক সংস্থা. রাশিয়ার প্রতিরক্ষা শিল্প ব্যবস্থার জন্য এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশ গুলির সঙ্গে সহযোগিতা বর্তমানে আগের মতই প্রাথমিক কাজ ও তা বহু বছর ধরেই উন্নত হচ্ছে. আজ এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশ গুলি – সবচেয়ে দ্রুত উন্নতিশীল দেশ, যাদের অনেক অর্থই নিজেদের প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় করা হয়ে থাকে. এই ক্ষেত্রে সবচেয়ে অগ্রণী দেশ চিন, তাদের পরেই এই অঞ্চলের অন্যান্য দেশ গুলি, যারা প্রতিরক্ষা বিনিয়োগের জন্য সক্রিয়ভাবে খরচ করছে, এই কথা উল্লেখ করে জাতীয় প্রতিরক্ষা নামের জার্নালের প্রধান সম্পাদক ইগর করোতচেঙ্কো বলেছেন

    তাই এই অঞ্চলের গুরুত্ব বিচার করে ও রাশিয়ার বহু অস্ত্রের উপরে আগ্রহের কথা চিন্তা করে, রাশিয়ার প্রতিনিধি দল কুয়ালালামপুরে প্রদর্শনীতে নিয়ে চলেছেন দেশের প্রতিরক্ষা শিল্পের সবচেয়ে আধুনিক সব উদাহরণ. অনেক গুলি প্রকল্পের ক্ষেত্রে নিজেদের ইতিমধ্যেই সহকর্মী ও সম্ভাব্য সহকর্মীদের সামনে বেশ কিছু ভাল প্রস্তাব নিয়ে চলেছে রাশিয়া. প্রাথমিক ভাবে এটা সামরিক বিমান সংক্রান্ত. আগেই জানা রয়েছে যে, এস ইউ – ৩০ বিমানের প্রতি রয়েছে খুবই স্থিতিশীল চাহিদা. অন্যান্য চাহিদা সমেত রুশ অস্ত্রের ক্ষেত্রে পদাতিক বাহিনীর জন্য অস্ত্র, বিমান প্রতিরোধ ব্যবস্থা, সামুদ্রিক তীর সংলগ্ন অঞ্চলের সংরক্ষণের জন্য অস্ত্র ব্যবস্থা, সাঁজোয়া গাড়ী ও ট্যাঙ্ক, গোলা বর্ষণের ব্যবস্থা, বিশেষ ধরনের গুলি চালনার অস্ত্র, বিশেষ বাহিনীর জন্য সাজ পোষাক ইত্যাদি.

    বহু লক্ষ্য সাধনে সক্ষম যুদ্ধ বিমান – এস ইউ – ৩০ ও এস ইউ – ৩৫ ছাড়া, রাশিয়া এশিয়ার বাজারে নিজেদের সামরিক যুদ্ধ বিমান মিগ ধরনের মিগ – ২৯এম ও অন্যান্য বিমান বেচার চেষ্টা করছে. তারই সঙ্গে প্রশিক্ষণ ও যুদ্ধপোযোগী বিমান ইয়াক – ১৩০ এবং হেলিকপ্টারও বেচতে নিয়ে চলেছে. অংশতঃ ২০১১ সালে “রসআবারোনএক্সপোর্ট” কোম্পানী প্রথম এক সারি থাইল্যান্ডকে মি – ১৭ভি- ৫ হেলিকপ্টার বেচার প্রস্তাব করেছিল. পদাতিক বাহিনীর উপযুক্ত প্রযুক্তি বিভাগে টি -৯০ এস ট্যাঙ্ক ছাড়া ও ট্যাঙ্ক সহায়তায় সাঁজোয়া গাড়ী ছাড়া বেশ আগ্রহের কারণ হয়েছে “ক্রিসানথেমাম”, “কর্নেট – এ” ও “ক্রাসনোপোল – এম ২” ধরনের ব্যবস্থা. “ক্রাসনোপোল” ব্যবস্থা আলাদা করে কিছু লক্ষ্য খুবই নির্দিষ্ট ভাবে ধ্বংস করতে পারে, যা কামানের গোলাকে লেসার রশ্মি বিশিষ্ট স্বয়ংক্রিয় লক্ষ্যভেদ ব্যবস্থা সংযুক্ত করে তৈরী করা হয়েছে. এই ব্যবস্থা গোলার খরচ কম করতে পারে ১০০ থেকে ১৭০ গুণ, কারণ যে সমস্ত গোলা কোন ভাবেই লক্ষ্য নিয়ন্ত্রণে সম্ভব নয়, তাদের তুলনায় এই ব্যবস্থার গোলা গুলি খুবই কার্যকর.

    রাশিয়া মালয়েশিয়াতে প্রদর্শনী করছে “টর্নেডো” ও “গেপার্ড” নামের যুদ্ধ জাহাজ, স্পীড বোট “মিরাঝ”, “মাঙ্গুস্ত”, “মুরেনা – এ”, ডুবোজাহাজ আনা হয়েছে “আমুর – ১৬৫০” নামের প্রকল্পের, এইগুলি সবই করা হয়েছে এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশ গুলির বিশেষত্বের কথা চিন্তা করে, যাদের সকলেরই খুবই দীর্ঘ সামুদ্রিক সীমান্ত রয়েছে, বিভিন্ন ধরনের সামরিক নৌবাহিনীর প্রযুক্তি তাদের জন্য বিশেষ আগ্রহের কারণ হয়েছে.

    বিশেষজ্ঞদের মূল্যায়ণ অনুযায়ী, খুবই গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানী সম্ভাবনা রয়েছে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা শিল্প সংক্রান্ত কোম্পানী গুলির তরফ থেকে বাংলাদেশে, মায়ানমারে ও ব্রুনেই দেশে, যেখানে জাতীয় সামরিক বাহিনী গুলির খুবই গুরুত্বপূর্ণ আধুনিকীকরণের কথা হচ্ছে.