প্রায় এক বছর আন্তর্জাতিক শস্যের বাজারে অনুপস্থিত থাকার পরে রাশিয়া তার অবস্থান পুণরুদ্ধায় করতে সমর্থ হয়েছে, এমনকি নতুন ঐতিহাসিক রেকর্ড সৃষ্টি করেছে. ১লা এপ্রিল পর্যন্ত ১,৮৫ কোটি টন গম বিদেশে রপ্তানী করা হয়েছে. আগামী বছরের জন্য পূর্বাভাস আরও বেশি আশাব্যাঞ্জক. তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, বাজারের প্রথম সারির বিক্রেতাদের সাথে প্রতিদ্বন্দিতা করতে হলে পরিমান থেকে উত্কর্ষতার দিকে ঝোঁকা দরকার.

     রাশিয়ার শস্য উত্পাদনকারীরা বছরের মাঝামাঝি রপ্তানীর হিসাব দিয়েছে. ২০১১-২০১২ সালের ৯ মাসে রাশিয়া ১,৮৫ কোটি টন গম বিদেশে রপ্তানী করেছে. দেশের ইতিহাসে এটা রেকর্ড. এর আগের রেকর্ড ছিল ২০০৯-২০১০ কৃষিবছরে – ১,৮২৫ কোটি টন.

    সুতরাং রাশিয়ার কৃষিশিল্প ২০১০ সালের ভয়াবহ খরার পরে সম্পূর্ণভাবে পুণর্জীবিত হয়েছে. সেই সময় শাসক কর্তৃপক্ষ শস্যের রপ্তানীর উপর নিষেধাজ্ঞা জারী করতে বাধ্য হয়েছিল. এই বিষয়ে রুশী শস্যসমাজের উপ-সভাপতি আলেক্সান্দর কোরবুটের মন্তব্য শুনুন.

      বিগত সময়ে দেখানো উঁচু পরিমান এর সাথেই যুক্ত, যে আমরা রেকর্ড পরিমানে উত্পাদন করতে সক্ষম হয়েছি. সত্যিই, রেকর্ড পরিমান শস্য সংগ্রহ করা হয়েছে জুলাই, আগস্ট, সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসে. এ ক্ষেত্রে সাহায্য করেছে দেশের দক্ষিণাঞ্চলে গত বছরে জমা হওয়া বিশাল পরিমান শস্য. তাছাড়া বাজারের অবস্থাও অনুকূল ছিল, উপরন্তু আমরা আবার আন্তর্জাতিক বাজারে ফেরবার জন্যে অন্যদের তুলনায় বেশি নীচু দামে বিক্রি করেছি. এবং এখানে মাথায় রাখা দরকার, যে মরশুমের প্রথমার্ধে প্রথাগতভাবে “আমাদের বাজার”. মানে, গমের সরবরাহ ঐ সময়ে মুলতঃ রাশিয়া থেকে হয়েছে. আর ইউক্রেন মনোযোগ দিয়েছিল ভুট্টা ও যব উত্পাদনের দিকে.

      বিশেষজ্ঞদের হিসাব মতো, আগামী ৩ মাসে রাশিয়া আরও ২০ লাখ টন গম রপ্তানী করতে পারে. আর অন্যান্য শস্য ধরলে রপ্তানীর পরিমান ১,৮-২ কোটি টনে পৌঁছাতে পারে. বিদেশে শস্য রপ্তানী করার উপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করার পরে রাশিয়া শস্যের বাজারে নিজের অবস্থান পুণরুদ্ধার করতে সমর্থ হয়েছে. কিন্তু এখন প্রয়োজন নতুন নতুন অভিমুখ খুঁজে বের করা, বলছেন ‘ইউনিগ্রেন’ নামক খাদ্যদ্রব্য কোম্পানীর প্রধান আলেক্সেই দ্যুমুলেন.  রপ্তানীর সম্ভাবনাময় অভিমুখ হল – চীন, ইন্দোনেশিয়া, জাপান.  ঐ দেশগুলির শস্য আমদানীর পরিমান ৮০-৯০ লাখ টনের মতো. ইউরোপের বাজারে আধিপত্য বিস্তার করার জন্যেও আমরা লড়ছি. তবে সেখানে এখনো মাঝামাঝি ও নীচু হারের প্রোটীনসমৃদ্ধ শস্য সবমিলিয়ে আমদানীর অনুমোদিত উর্দ্ধসীমা হল মাত্র ২৫ লাখ টন. ইউরোপের সবমিলিয়ে চাহিদা ৫০ লাখ টনের মতো.

      বর্তমানে রাশিয়া শস্য রপ্তানী করে প্রধানতঃ তুরস্কে, উত্তর আফ্রিকার দেশগুলিতে ও নিকট প্রাচ্যে. বিশেষতঃ নিকট প্রাচ্য রাশিয়ার সাথে দীর্ঘমেয়াদী পর্যায়ে শস্য আমদানীর বিষয়ে বিশেষ আগ্রহী, এমনকি রাশিয়ায় কৃষিশিল্পে বিনিয়োগ করতেও প্রস্তুত. তাছাড়াও রাশিয়ার শস্যের জন্য ট্রানসিট গুদাম খুলতেও রাজি.