রাশিয়ার নির্মাতারা এই বছরের গরমকালে জনসমক্ষে প্রথম ব্যক্তিগত উদ্যোগে ও অর্থ বিনিয়োগে নির্মিত চন্দ্র পৃষ্ঠে ভ্রমণে সক্ষম যান প্রদর্শণ করতে চলেছেন. এই যান গুগল লুনার এক্স প্রাইজ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী “সেলেনোখোদ” নামের কোম্পানীর সম্পত্তি হবে.

     প্রতিযোগিতা ২০০৭ সালে ঘোষণা করা হয়েছিল. তার প্রধান শর্ত হল – এই প্রকল্পের জন্য অর্থ বিনিয়োগ হতে হবে ব্যক্তিগত মালিকানা থেকেই. জয়ী হতে পারবে সেই কোম্পানী, যাদের তৈরী যান সফল ভাবে চাঁদের পিঠে নিজেদের রোবট ২০১৫ সালের ৩১শে ডিসেম্বরের মধ্যে কোন রকমের সংঘর্ষ বিহীণ ভাবে নামাতে পারবে. নামার পরে চন্দ্রযান কম করে হলেও ৫০০ মিটার অতিক্রম করবে ও পৃথিবীতে ফোটো ও ভিডিও তথ্য পাঠাতে পারবে. এই গুলির তথ্য সমৃদ্ধি এবং  গুণমান নির্দিষ্ট শর্ত উপযুক্ত হতে হবে. অংশতঃ, তার থেকে চাঁদের পিঠে অবতরণ এবং রোবটের এইখানে উপস্থিতির কয়েক ঘন্টার খবর জানতে পারা যাবে.

     এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছেন ১৭টি দেশের ২৯ টি দল. রুশ দেশের তরফ থেকে “সেলনোখোদ” কোম্পানী একমাত্র সরকারি ভাবে স্বীকৃত ও অন্যতম প্রতিনিধি দল. যেমন ভারতের তরফ থেকে “টিম ইন্ডাস” নামের একটি দল রয়েছে এই প্রতিযোগিতায়.  এই কোম্পানীর দলের সদস্যরা সকলেই খুবই উদ্যোগী ও উচ্চাকাঙ্ক্ষী ইঞ্জিনিয়ার, নির্মাতা, প্রোগ্রাম লিখিয়ে ও শিক্ষিত ম্যানেজার. সকলেই বিভিন্ন মহাকাশ সংক্রান্ত প্রকল্পের সঙ্গে জড়িত ও অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন এর মধ্যেই. বিশেষজ্ঞদের গড় বয়স – ২৭. তাদের সঙ্গে “সেলেনোখোদ” গোষ্ঠীতে রয়েছেন রাশিয়ার নিজের মহাকাশ বিজ্ঞান ও গবেষণার ভেটেরান কর্মীরা. তাঁদের আছে মহাকাশ প্রযুক্তি নির্মাণের বিষয়ে বিশাল অভিজ্ঞতা, তার মধ্যে চাঁদ নিয়ে গবেষণারও.

     “সেলেনোখোদ” কোম্পানী বিশেষ করে সৌর জগতের জন্য রোবট নির্মাণ করে থাকে. আপাততঃ এই কোম্পানীর জন্য অন্যতম বায়না করেছে এই প্রতিযোগিতার আয়োজক পরিষদ, কিন্তু পরিকল্পকরা এই প্রতিযোগিতাকে নিয়েছেন উচ্চ প্রয়উক্তির বাজারে নিজেদের সম্বন্ধে প্রচারের একটা সম্ভাব্য উপায় হিসাবে.

     আজকের দিনে রাশিয়ার ব্যক্তিগত উদ্যোগে তৈরী চন্দ্রযানের প্রকল্পের একটি রূপ ইতিমধ্যেই তৈরী হয়ে গিয়েছে. তার পরিকল্পনার সময়ে নির্মাতারা বেশ কয়েকটি ধরনের চলার উপযুক্ত ডিজাইনের কথা ভেবেছিলেন. তার মধ্যে ছিল চাকা ওয়ালা রোবট, ট্র্যাক্টরের মত চাকা ওয়ালা রোবট ইত্যাদি. কিন্তু শেষমেষ ঠিক করেছেন সজোরে স্কি ও হাঁটার উপযুক্ত চলার ব্যবস্থা, যেটি অন্যান্য ধরনের চলার ব্যবস্থার চেয়ে গুণগত ভাবে বেশী উন্নত.

     এই ধরনের চলার ব্যবস্থা ভেবে বার করা হয়েছিল সোভিয়েত মিশন “মঙ্গল – ২” ও “মঙ্গল – ৩” অভিযানে ব্যবহার যোগ্য মঙ্গল পৃষ্ঠে চলার মতো রোবট তৈরী করার জন্য. রোবট চলে সামনে “স্কি” এগিয়ে দিয়ে ও দিক পরিবর্তন করে মাটিতে শরীর নামিয়ে ভর দিয়ে স্কি ঘুরিয়ে বিভিন্ন দিকে. এই ধরনের প্রোটোটাইপ তৈরী করা হবে এই ধরনের মহাকাশ প্রযুক্তি বানানোর সাধারন প্রোগ্রাম ব্যবহার করেই. পরীক্ষা করা হবে ভ্যাকুয়াম চেম্বারে, ভাইব্রেশন স্ট্যান্ডে ও অন্যান্য পরীক্ষার জায়গায়. এর চলার গুণ পরীক্ষার জন্য এই রোবট প্রকল্পের এক নির্মাতার কথামতো,  চাঁদের পিঠের মতো এবড়ো খেবড়ো জায়গা বেশ কয়েক মিটার জুড়ে তৈরী করা হবে, যেখানে থাকবে কৃত্রিম খাদ ও ঢাল.

     পৃথিবীর উপগ্রহে চন্দ্রযান পাঠানোর জন্য নির্মাতারা ঠিক করেছেন রকেট – পরিবাহক “দ্নিপার” অথবা অন্য কোন পরিবাহকে করে. বর্তমানে কথা হচ্ছে এই চন্দ্র যান আলাদা করে পাঠানো ওজন হিসাবে “লুনা – গ্লোব” নামের চাঁদে নামার যন্ত্রের সঙ্গে.

     এই মিশনের প্রথম অংশ উত্সর্গ করা হচ্ছে প্রতিযোগিতার শর্ত পূরণের জন্য. আর তারপরে রাশিয়ার চন্দ্রযান এই অভিযানের বাড়তি কাজও করবে. এটা চাঁদের পিঠের আলাদা অংশের খুবই খুঁটিয়ে ছবি তোলা, সেখান থেকে পৃথিবার ছবি তোলা ও বৈজ্ঞানিক গবেষণা. রাশিয়ার লোকরা আশা করেছেন এই প্রতিযোগিতায় বাড়তি পুরস্কার পাওয়ার জন্যেও, যা দেওয়া হতে পারে যদি চাঁদে রেখে আসা আমেরিকা ও সোভিয়েত দেশের মহাকাশ যান খুঁজে পাওয়া সম্ভব হয়.