পূর্ব এশিয়ার প্রধান মহাকাশ পর্যবেক্ষণ সংগঠন উত্তর গোলার্ধের সবচেয়ে উঁচুতে এক পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র নির্মাণের প্রকল্প সমর্থন করেছে. এই কেন্দ্রের জন্য জায়গা বাছা হয়েছে চিনের তিব্বত স্বয়ংশাসিত অঞ্চলের প্রদেশ ন্গারি (আলি) নামক জায়গায়, যা অনেকগুলি চিন অধিকৃত ভারতীয় এলাকা আকসাই চিনের এলাকা নিয়ে তৈরী করা ও ভারতের সঙ্গে এই বিষয়ে সীমান্ত বিতর্ক রয়েছে, বলে জানিয়েছে “টাইমস অফ ইন্ডিয়া” সংবাদপত্র.

     আকসাই চিন তিব্বতের পাহাড়ী অঞ্চলের ধারে বরফাবৃত এমন এক এলাকা, যেখানে জীবনের প্রায় দেখা মেলে না ও সেখানে লোকসংখ্যা বাস্তবে খুবই কম. ১৯৬২ সালে স্বল্পস্থায়ী ভারত- চিন সীমান্ত যুদ্ধের পরে এই অঞ্চল চিনের নিয়ন্ত্রণে আসে, এই এলাকা কোন রকমের মানবিক কাজ কর্মে প্রায় লাগেই না, কিন্তু স্ট্র্যাটেজিক কারণে তা গুরুত্বপূর্ণ, যদি এক্ষেত্রে মানসিক – রাজনৈতিক অধিকারের প্রসঙ্গ বাদ দেওয়া হয়, তা হলেও. আকসাই চিন এলাকার অধিকার, ভারতীয় অরুণাচল প্রদেশের অধিকারের মতই চিন ও ভারতের সম্পর্ককে এখনও জটিল করেই রেখেছে.

     এই বাস্তব ঘটনা যে, চিন এখানে স্ট্র্যাটেজিক ভাবে গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প নির্মাণ করতে চায় – তা কোনও নতুন খবর নয়. সেখানে ইতিমধ্যেই ট্যাঙ্ক বাহিনীর ঘাঁটি রয়েছে, যেখানে উঁচু পাহাড়ী জায়গায় যুদ্ধের কৌশল নিয়ে প্রশিক্ষণ করা হয়, আর তারই সঙ্গে রয়েছে পাইলট বিহীণ বিমান ঘাঁটি এবং বিভিন্ন সামরিক অনুসন্ধানের কেন্দ্র, এই কথা উল্লেখ করে রাশিয়ার স্ট্র্যাটেজিক গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ বরিস ভলখোনস্কি বলেছেন:

     “এই পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র তৈরীর খবরে অন্য একটা বিষয় মুখ্য, আর সেটা হল, এটা তৈরীর ব্যাপারে পূর্ব এশিয়া প্রধান মহাকাশ পর্যবেক্ষণ সংগঠনকে সামিল করা হচ্ছে. এই সংগঠনের সদস্য হল চিন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও তাইওয়ানের প্রধান পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রগুলি.  ভারতের সংবাদপত্র যেমন জানিয়েছে যে, এই পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র কোথায় করা হবে, তা নিয়ে চিনের উইগুর- সিনঝিয়ান প্রদেশের ও তিব্বতের অন্যান্য জায়গার কথাও ভাবা হয়েছিল. কিন্তু নির্বাচন করা হয়েছে বিতর্কিত অঞ্চলকেই.

এখানে যুক্তি দেখানো হয়েছে খুবই সহজ এখানে হাওয়া সবচেয়ে পরিস্কার, আর পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র করা হবে সমুদ্রের থেকে পাঁচ কিলোমিটার উচ্চতায়, যা নক্ষত্র খচিত মহাকাশ পর্যবেক্ষণের জন্য খুবই  উপযুক্ত হবে. এই কেন্দ্র তৈরী করতে সময় লাগবে – প্রায় পাঁচ বছর – আর তা একই সঙ্গে বিশ্বের অন্যান্য একই রকমের কেন্দ্র, যা হাওয়াই দ্বীপপূঞ্জে, চিলি রাষ্ট্রে ও কানার দ্বীপ সমূহে রয়েছে, সেই গুলিরই মতো ২৪ ঘন্টা পর্যবেক্ষণের সুযোগ করে দেবে.

এই সবই ঠিক. কিন্তু চিনের পরিকল্পনায় স্পষ্টই রাজনৈতিক ধান্ধা টের পাওয়া গিয়েছে. বাস্তবে এই পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র তৈরী করার বিষয়ে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়াকে টেনে এনে চিন চাইছে এই আকসাই চিন বিতর্ককে একেবারেই ভারত- চিনের দ্বিপাক্ষিক সমস্যার মধ্যে থেকে বার করে এনে তাকে একটা আন্তর্জাতিক চরিত্র দিতে”.

বিগত বছর গুলিতে চিন ও ভারত, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে খুবই গুরুতর সমস্ত সমস্যা থাকা স্বত্ত্বেও সেই গুলিকে প্রাথমিক স্তরে নিয়ে আসতে চাইছে না. কিন্তু একই সঙ্গে নানা রকমের কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক দিক পরিবর্তন করে থাকে, যাতে একে অপরের খুব কাছে সহযোগী খুঁজে পাওয়া যায়. চিনের জন্য এটা – ভারতের দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তান ও ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের আরও অনেক দেশ. ভারত সক্রিয়ভাবে বর্তমানে সম্পর্ক স্থাপন করে চলেছে পূর্ব ও দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার দেশ গুলির সঙ্গে, আর তালিকার সর্বোচ্চ জায়গাগুলি ভারতের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকার সহযোগী দেশ হিসাবে দখলে রেখেছে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া.

আর যদি জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া বিতর্কিত অঞ্চলের প্রকল্পে সহযোগিতা করতে সায় দেয়, অথবা তার খুবই কাছে তা নির্মাণ করতে যায়, তাহলে এটা আকসাই চিন অঞ্চলকে নিজেদের দখলে নিয়ে আসার ভারতীয় প্রত্যাশার মূলে কুঠারাঘাত করতেই পারে বলে মনে করেছেন রুশ বিশেষজ্ঞ.