নরওয়ে রাষ্ট্রের রাজধানী অসলো শহরে শুরু হতে চলেছে আন্দ্রেস ব্রেইভিকের বিচার. গত বছরের গরম কালে একসাথে দুটি সন্ত্রাসবাদী কাজের জন্য তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে. সেই সময়ে তার হাতে মারা পড়েছেন ৭৭ জন ও আরও ১৫০ জনেরও বেশী আহত হয়েছেন.

আরও একবার করে মানসিক পরিস্থিতি পরীক্ষার পর জানা গিয়েছে যে, ৩৩ বছরের এই নরওয়ের বাসিন্দার চিকিত্সা শাস্ত্র মতে কোনও রকমের মানসিক বিকার বা রোগ নেই.  অর্থাত্ তার বিচার হবে স্বাভাবিক লোকের মতই. প্রাথমিক ভাবে ডাক্তারি বিদ্যায় বিশেষজ্ঞরা এই রকমের একটা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন যে, ব্রেইভিকের প্যারানয়া ধরনের শীজোফ্রেনিয়া আছে ও তাকে জোর করে চিকিত্সা করানোর পরামর্শ দিয়েছিলেন. তখন ব্রেইভিক বলেছিল যে, “আমার জন্য পাগলা গারদ মরার চেয়েও খারাপ”, আর স্বীকার করেছিল যে, সে ইচ্ছা করেই তার বিচার সংক্রান্ত ডাক্তারি পরীক্ষার সময়ে তার ব্যবহারের উপরে লক্ষ্য রাখা হয়েছে দেখে, মাঝে মাঝেই হিংস্র হয়ে ওঠার ভান করেছিল, যাতে এই ডাক্তারদের পরিষদ ভুল বোঝেন. ফলে নতুন করে আয়োজন করা ডাক্তারদের পরিষদ এবারে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন: অভিযুক্ত নিজের কাজের জবাবদিহি করার ক্ষমতা রাখে. এই সিদ্ধান্তে বেশীটাই রয়েছে চিকিত্সা শাস্ত্রের চেয়ে রাজনীতি, এই রকম বিশ্বাস নিয়ে রুশ মনস্তত্ত্ববিদ ও অপরাধ বিশেষজ্ঞ মিখাইল ভিনোগ্রাদভ বলেছেন:

“বাস্তবে প্রশিক্ষিত কোন পরিষদকে ঠকানো সম্ভব নয়. ব্রেইভিকের সম্বন্ধে বর্তমানে যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে, তা রাজনৈতিক উদ্দেশ্য অনুযায়ী লাভজনক বলে নেওয়া হচ্ছে. আমার মতে, ব্রেইভিক অসুস্থ. কিন্তু অসুস্থ বলা - এটা একটা ব্যাপার, কিন্তু সদ্বিবেচক অথবা তা নয়, অর্থাত্ রোগের মাত্রা কতটা ছিল তখন যে, সে নিজের কাজের সম্বন্ধে সঠিক ভাবে কি করছে বুঝে করেছিল কিনা, সেটা বলা অন্য ব্যাপার. এখানে প্রয়োজন পড়ে বিশেষ রকমের মনস্তত্ত্ব ও মনোরোগ বিষয়ক পরীক্ষা করার প্রয়োজন রয়েছে, যা আমার যতটা জানা আছে, ব্রেইভিকের সঙ্গে করা হয় নি. তার ওপরে সাধারন বিচার সংক্রান্ত মনস্তাত্ত্বিক পরীক্ষা করা হয়েছে. এগুলো সবই আলাদা রকমের পরীক্ষার উপায়”.

নরওয়ে দেশের তদন্তকারী পুলিশ অফিসাররা বিশ্বাস করেন যে, এই রকমের নিখুঁত ভাবে পরিকল্পনা করে আক্রমণ করতে পারে শুধু কোন সুস্থ ভাবে চিন্তা করতে পারে এমন লোকই. ব্রেইভিক এই একসাথে দুটো সন্ত্রাসবাদী হানা আয়োজন করেছিল নরওয়ে দেশে ২০১১ সালের ২২শে জুলাই. প্রথমে সে অসলো শহরের কেন্দ্রে সরকারি ভবন গুলির সামনে বিস্ফোরণ ঘটিয়েছিল, তার ফলে ৮ জন মানুষ নিহত হয়েছিলেন. তারপরে রাজধানীর কাছের দ্বীপ উতোইয়াতে এক যুব ক্যাম্পে গিয়ে সেখানের অল্প বয়সী ছেলেমেয়েদের উপরে গুলি চালনা করেছিল. সেখানে নিহত হয়েছিল ৬৯ জন.

পুলিশের কাছে সে কোন রকমের বাধা না দিয়েই ধরা দিয়েছিল. হত্যার ঘটনা স্বীকার করেছে, কিন্তু নিজেকে সে দোষী মনে করে না. ব্রেইভিক নিজের কাজের ব্যাখ্যা  এইভাবে করছে যে, সেটা নরওয়ে ও অন্যান্য ইউরোপের দেশে মুসলমান অভিবাসিত লোকদের প্লাবনের বিরুদ্ধে করা কাজ আর নিজের কাজকে সে ব্যাখ্যা করছে আত্মরক্ষা বলে. কয়েকদিন আগে এই অভিযুক্ত সাংবাদিকদের কাছে বলেছে যে, সে কোন ভাবেই এই সমস্ত হত্যার জন্য নিজে দুঃখবোধ করছে না বরং কষ্ট পাচ্ছে যে, কেন আরও বেশী করে সে লোক মারে নি.

ব্রেইভিককে বিচার করা হবে সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপের আইন অনুযায়ী. নরওয়ে দেশের বিচার ব্যবস্থায় এই আইনের প্রয়োগ এই প্রথমবার করা হবে. এই আইনে সবচেয়ে বেশী শাস্তি হতে পারে ২১ বছরের কারাদণ্ড. দেশে ইতিমধ্যেই এই বিষয়ে প্রতিবাদের জোয়ার উঠেছে ও দাবী করা হয়েছে এই দোষীকে তার জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত কারাগারে রাখা হোক, কোন একটা অন্য উপায় বার করে. এমনকি তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার পক্ষেও লোক রয়েছে. প্রসঙ্গতঃ, কোন রকমেরই সামাজিক মতামত ব্রেইভিকের ভাগ্য নির্ধারণের বিষয়ে প্রভাব ফেলতে পারবে না বলে মনে করে উকিল মিখাইল সালকিন বলেছেন:

“ফৌজদারী আইনে কোন উল্টো রকমের শক্তি প্রয়োগের ব্যবস্থা নেই. যদি কোনও নতুন আইন নেওয়া হয় যাতে, অভিযুক্তের পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে, তবে তা কখনোই ব্যবহার করা হয় না. কোন রকমের প্রতিবাদ বা ফৌজদারী আইনের বদল করা হলেও, ব্রেইভিকের বিচার করা হবে, তার করা অপরাধের সময়ে যে আইন দেশে জারী করা ছিল, তার উপর নির্ভর করেই”.

এরই মধ্যে সন্ত্রাসবাদীর উকিলরা ঠিক করেছে তাকে আদালত থেকেই বিচার শেষে মুক্ত করার. তার পক্ষের উকিল গৈর লিপ্পেস্টাড ঘোষণা করেছেন যে, তিনি বোঝেন যে, এই ধরনের আবেদন কখনোই মেনে নেওয়া হবে না, তা স্বত্ত্বেও তিনি আদালতের গোচরে নিজের ক্লায়েন্টের ইচ্ছা ও যুক্তি উপস্থিত করতে বাধ্য.