তালিবরা শুরু করেছে “বসন্তের আক্রমণ”. রবিবারে তারা কাবুল শহরে একসাথে আক্রমণ করেছিল রাষ্ট্রপতি ভবন, পার্লামেন্ট হাউস, রাষ্ট্রসঙ্ঘের মিশন, আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা সহযোগিতা শক্তির সদর দপ্তর, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস, গ্রেট ব্রিটেন ও জার্মানীর দূতাবাস গুলি. ন্যাটো জোটের সঙ্গে তালিব শক্তির বিরোধের সমস্ত সময়ের মধ্যে এটা একটা সবচেয়ে বড় হঠকারী কাজ.

     ন্যাটো জোটের সৈন্য ও আফগানী সেনাদলের পক্ষ থেকে সবচেয়ে শক্তিশালী প্রহরায় ঢাকা কাবুল শবরের একেবারে কেন্দ্রে এই আক্রমণ করা হয়েছে. রবিবার মধ্য দিনে, কিছু সংবাদ সংস্থা থেকে খবর দেওয়া হয়েছিল যে, রাশিয়ার দূতাবাসেও আক্রমণ করা হয়েছে. কিন্তু তার পক্ষে সমর্থন মেলে নি, রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আন্দ্রেই আভেতিসিয়ান জানিয়েছিলেন যে, দূতাবাসে হামলা করা হয় নি. আর ব্রিটেন, আমেরিকা ও জার্মানীর রাষ্ট্রদূতাবাস বেশ কয়েক ঘন্টা এই বিদ্রোহীদের হামলা সামলাতে বাধ্য হয়েছিল.

     কাবুলের ঘটনা তালিবদের ক্রমবর্ধমান ক্ষমতারই পরিচয়, বলে মনে করে রুশ বিজ্ঞান একাডেমীর আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ পিওতর তোপীচকানভ বলেছেন:

     “নতুন করে সুযোগ তৈরী হচ্ছে আফগানিস্তানের নিরাপত্তার দায়িত্ব জোটের শক্তির হাত থেকে নিয়ে স্থানীয় শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর হাতে তুলে দেওয়ার জন্যেই. তালিবরা টের পেয়েছে যে, বিদেশী সেনা বাহিনীর মূল শক্তির অপসারণের দিনের আর বেশী বাকী নেই. সুতরাং তারা নিজেদের পক্ষ থেকে চাপ বৃদ্ধি করছে. তারা আর বেশী আগ্রহ দেখাচ্ছে না কোন রকমের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের আলোচনা বা কাবুলের প্রশাসনের সঙ্গে শান্তি আলোচনা নিয়ে. সব মিলিয়ে পরবর্তী কালে অপেক্ষা করা যেতে পারে আরও বেশী করে সক্রিয়তা বৃদ্ধি ও বেশী করে মাথা চাড়া দেওয়া”.

     প্রতিরোধের বসন্ত আফগানিস্তানে বিদেশী সৈন্য উপস্থিতির বিরুদ্ধে শুরু করেছে রবিবারে “হাক্কানি জাল”. এরা আফগানিস্তানের তালিবদের এক সবচেয়ে বড় ও সুনিয়ন্ত্রিত দল. “হাক্কানি” নিজেই বিশেষজ্ঞদের মতে ২০১৪ সালে আফগানিস্থান থেকে ন্যাটো জোটের সেনা বাহিনী প্রত্যাহারের পরে রাজনৈতিক প্রক্রিয়াতে প্রথম ও প্রধান ভূমিকা নিতে চলেছে. তালিবানের কম্যান্ডাররা নিজেদের হাতে ক্ষমতা ফিরে পেতে চায়, এই রকম মনে করে রাজনীতিবিদ ইউরি ক্রুপনভ বলেছেন:

     “এই ধরনের বিস্ফোরণে কারও অবাক হওয়ার কিছু নেই. কোন রকমের স্থিতিশীলতা, যা করা হয়েছে বলে ন্যাটোর তরফ থেকে নিয়মিত ভাবে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে, তা আফগানিস্থানে নেই ও হতেও পারে না. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ১০ বছর আগে তালিবদের প্রশাসনের পতন ঘটিয়েছিল, বিশাল সংখ্যক লোককে প্রশাসন থেকে বের করে দেওয়া হয়েছিল. আর তাই তারা, স্বাভাবিক ভাবেই সেখানে আবার ফিরে আসতে চায়”.

     রবিবারে তালিবরা একই সাথে ন্যাটো জোটের বিমান ঘাঁটি আক্রমণ করেছিল, পুলিশের সদর দপ্তর ও আফগানিস্থানের বিভিন্ন প্রদেশে প্রশাসনিক ভবন গুলিতেও আক্রমণ করা হয়েছিল. প্রবল আঘাতের সামনে স্থানীয় নিরাপত্তা রক্ষী বাহিনী অসহায় হয়ে পড়েছিল ও তারা আন্তর্জাতিক শক্তির কাছ থেকে সাহায্য চেয়েছিল. এটা আরও একবার সন্দিহান করে তুলেছে সেই বিষয়ে, যে আফগানিস্থানের সেনা বাহিনী, বিদেশী সেনা প্রত্যাহারের পরে নিজে থেকে তালিবদের মোকাবিলা করতে সক্ষম হবে, ফলে সন্দিগ্ধ লোকদের পূর্বাভাসকেই আবার সত্য মনে হচ্ছে যে – এই দেশে মাত্স্যান্যায় অবশ্যম্ভাবী.