সিরিয়ায় অবশেষে সাময়িক যুদ্ধ বিরতি হয়েছে, তবে তা ততটা মজবুত নয়. সিরিয়ার সেনাবাহিনী ও বিরোধীদলের মধ্যে যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে তাই ছিল এ সপ্তাহে সিরিয়া পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের উল্লেখযোগ্য ঘটনা.

গত বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দেশটিতে যুদ্ধবিরতি চলছে। সিরিয়ায় জাতিসংঘ ও আরব লিগের শান্তিদূত কফি আনানের প্রস্তাবিত অন্যতম একটি ধারা ছিল এ যুদ্ধবিরতি যা জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ কর্তৃক গৃহীত হয়.

তবে যুদ্ধবিরতি ভঙ্গের  ঘটনাও লিপিবদ্ধ হয়েছে বলে জানা যায়. লন্ডনভিত্তিক সিরিয়ার পর্যবেক্ষন পরিষদ গত কয়েক দিনে নিরীহ সিরিয় জনগনের মৃত্যুর  জন্য সেনাবাহিনীকে দায়ী করেছে.

অন্যদিকে সিরিয়ার প্রশাসন আলেপ্পো শহরে যাত্রীবাহী বাসে বোমা হামলা করায় বিরোধীদলকে দায়ী করেছে. ওই ঘটনায় ১ জন সেনা নিহত ও আরও ২০ জন আহত হয়. আগামীতে সিরিয়ার পরিস্থিতি কেমন হবে এ বিষয়ে রেডিও রাশিয়াকে দেওয়া সাক্ষাত্কারে প্রাচ্যতত্ত্ব ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ ইলেনী মেলকুমিয়ান বলছেন,  ‘আশাকরা যেতেই পারে, যুদ্ধবিরতি সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হতে পারে এবং কফি আনানের মিশনের কিছু একটি ফলাফল পাওয়া গেল. তবে আমার মনে হচ্ছে, পুরো ক্ষেত্রে হয়ত সফলতা নাও আসতে পারে. সিরিয়ার সরকার এবং বিরোধীদল কেউই এই শর্তাবলী পালন করতে প্রস্তুত নয়. বিরোধীদল নিজেদের সামরিক অভিযান বন্ধ না রেখে সিরিয়ার সরকারকে দুর্বল করার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবে. দ্রুত ফলাফল পাওয়া তাই আশাকরা যাচ্ছে না’.

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র, পশ্চিমা মিত্রজোট ও পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলো সিরিয়ার বিরোধীদলকে অর্থ ও অস্ত্র দিয়ে সাহায্য করছে. এ বিষয়ে রেডিও রাশিয়াকে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞ সেরগেই দোমিদেনকো. তিনি বলছেন,

‘বাশার আসাদের রয়েছে নিজস্ব কিছু মতধারা. তাই কফি আনানের কোন পরিকল্পনাই এ ক্ষেত্রে কার্যকরী হবে না. সব কিছুর পরও আসাদ রাষ্ট্রপতির পদেই থাকবেন. বিরোধীদল যা খুশি তাই বলতে পারে. তারা চাইলে অস্ত্র হাতে নাও নিতে পারে আবার চাইলে সংঘাতের পথ বেছে নিতে পারে'.

এদিকে সিরিয়ায় যুদ্ধ বিরতি কার্যকর রাখতে জাতিসংঘ দেশটিতে প্রথম বেসামরিক পর্যবেক্ষদের একটি দল পাঠানের প্রস্তুতি নিয়েছে. গতকাল শনিবার জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠক শেষে সিরিয়ায় আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের পাঠানো বিষয়ে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়. একই সাথে বৈঠকে অংশগ্রহনকারী দেশের প্রতিনিধিরা এ সংক্রান্ত একটি রেজুলেশন অনুমোদন করেন. সিরিয়ায় জাতিসংঘের পুরো এ মিশনে মোট ২৫০ জন পর্যবেক্ষক পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে.

রুশ বিজ্ঞান একাডেমীর প্রাচ্যতত্ত্ব ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ বরিস দলগোভ এ বিষয়কে ইতিবাচক বলে উল্লেখ করেছেন. তিনি বলেছেন,

‘যদি পর্যবেক্ষকরা সিরিয়া আসেন তাহলে সংঘাত- হানাহানি কমে যাবে. হয়তবা আমি পুনরায় তাই বলব. প্রথম ধারা হচ্ছে- সিরিয়ার বাইরের একটি শক্তিপক্ষ যারা কফি আনানের পরিকল্পনাকে মেনে নিতে চাচ্ছে না. ওই বহিঃশক্তি যেন সিরিয়ার বিরোধীদলীয় অস্ত্রধারীদেরকে সমর্থন যাতে না যোগাতে পারে মূলত তারই চেষ্টা করতে হবে’.

আগামী ১৭ ও ১৮ এপ্রিল সিরিয়ার বিরোধীদলের প্রতিনিধিদের সাথে মস্কোতে আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে. আসাদের সাথে বিরোধীদলের আলোচনা শুরু করার  চেষ্টা করবে রাশিয়া. এ বিষয়টি নিশ্চিত করা ছাড়া সিরিয়ার সংকট সমাধান কোন ভাবেই সম্ভব নয়.