শুক্রবারে মস্কোতে রিক (রাশিয়া, ভারত, চিন) দেশ গুলির পররাষ্ট্র মন্ত্রী সের্গেই লাভরভ, এস. এম. কৃষ্ণ ও ইয়ান শ্জেচির বৈঠক সম্পন্ন হয়েছে. মন্ত্রীরা বিশ্ব রাজনীতির সবচেয়ে তীক্ষ্ণ সমস্যা গুলি নিয়ে আলোচনা করেছেন. কিন্তু প্রধান প্রশ্ন, যা পর্যবেক্ষকরা এই কাঠামোর একেবারেই প্রথম উদয়ের দিন থেকেই করে আসছেন, তা আপাততঃ শেষ অবধি সমাধান করা হয় নি. আর সেটা হল: এই জোটের নিজেদের বিশেষ করে আলোচ্য বিষয় কি, যা ব্রিকস বা সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার আলোচ্য বিষয়ের চেয়ে ব্যতিক্রমী, আর যে কারণে তিনটি এত বিভিন্ন ধরনের দেশকে দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বে এক ধরনের ঐক্যবদ্ধ কেন্দ্রে পরিণত হতে সাহায্য করবে?

    এক দিকে, সেটা রয়েছে, - বলেছেন রাশিয়ার স্ট্র্যাটেজিক গবেষণা কেন্দ্রের বিশেষজ্ঞ বরিস ভলখোনস্কি:

    “এটা তিনটি দেশের পক্ষ থেকেই স্পষ্ট দেখতে পাওয়ার মত এক মেরু বিশিষ্ট বিশ্বের ব্যবস্থাকে না মেনে নেওয়া. এই দৃষ্টিকোণ থেকে প্রায়ই বিভিন্ন বিষয়ে রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদে এই দেশ গুলি এক জোট হয়ে ভোট দিয়ে থাকে. অসংখ্য বিষয়ের ক্ষেত্রে এটা ঠিক: সেই ধরনের প্রশ্ন, যেমন অল্প কিছুদিন আগের লিবিয়া সঙ্কট, বর্তমানের ইরান ঘিরে পরিস্থিতি, আরও বহু অন্যান্য প্রশ্নে রাশিয়া, ভারত ও চিনের রাজনীতি অনেক ক্ষেত্রেই একই রকমের. কিন্তু এই যেমন সিরিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে ভারত, রাশিয়া ও চিনের মত না ভেবে সায় দিয়েছে পশ্চিমের সিদ্ধান্তের খসড়াতেই. সুতরাং, এক মেরু বিশিষ্ট বিশ্বের বিরুদ্ধে একজোট হয়ে অবস্থান ঘোষণা করলেও, প্রত্যেক দেশই নিজেদের নিরপেক্ষ পররাষ্ট্র নীতি পালন করে থাকে.

    অন্য দিক থেকে, বিরোধের ভিত্তিতে জোট – এমনকি তা সেই ধরনের স্পষ্ট খারাপ জিনিসের বিরুদ্ধে, যেমন এক মেরু বিশিষ্ট বিশ্বের নীতির বিরুদ্ধে হলেও – সব সময়েই একতরফা হবে”.

    যে কোন কাঠামোর সফল কাজ করার জন্য প্রয়োজন ইতিবাচক ও গঠন মূলক কাজের তালিকা গ্রহণ. আর এখানে এই রিক গোষ্ঠী আপাততঃ এই ধরনের অন্যান্য গোষ্ঠী যেমন ব্রিকস ইত্যাদির চেয়ে কিছুটা পিছিয়ে রয়েছে, বলে বিশেষজ্ঞ মনে করেন. কয়েক দিন আগের ব্রিকস গোষ্ঠীর দিল্লী শীর্ষ সম্মেলনে, এখনও ছোট হলেও জোট গঠনের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দিকে পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হয়েছে. তাঁরা সমঝোতায় এসেছেন যে, উন্নতিশীল দেশ গুলির একটি সম্মিলিত ব্যাঙ্ক গঠনের. এই পথে আপাততঃ অনেক জটিলতা রয়েছে – সেই রকমের, যেমন অনেকেই ভারতে, আর এমনকি অন্যান্য দেশেও খুবই গুরুতর ভাবে চিন্তিত যে, এই ধরনের ব্যাঙ্ক সৃষ্টি হয়ত বিশ্ব জোড়া ডলার নির্ভরতা থেকে বের হতে সাহায্য করবে, কিন্তু অন্য এক ব্যাপারে নির্ভরশীল করে দিতে পারে – চিনের ইউয়ানের উপরে. কিন্তু একটা গঠন মূলক ভিত্তি, যার উপরে ভর করে ব্রিকস শক্ত জমির উপরে ভর করে কাজ করতে পারে, শুধু রাজনৈতিক ঘোষণার মঞ্চ হয়েই না থাকে, তা তৈরী করা হচ্ছে.

    কিন্তু এমনকি এতটাই অনির্দিষ্ট রকমের পরিচিতি ছাড়া রিক, মনে হয়েছে, খুবই গুরুতর ভাবে সেই দেশকে ভয় পাইয়ে দিয়েছে, যারা বিশ্বের একমাত্র বৃহত্তম রাষ্ট্রের স্বীকৃতি পেতে চেয়েছে, - এই কথা উল্লেখ করে বরিস ভলখোনস্কি বলেছেন:

    “গত বছরের জুলাই মাসে, ভারত সফরের সময়ে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র সচিব হিলারি ক্লিন্টন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র – ভারত – চিন, এই ত্রি দেশীয় আলোচনার ধারণা নিয়ে একটা কাঠামো সৃষ্টির কথা বলেছিলেন. এই ধারণার লক্ষ্য স্পষ্ট: এটা রাশিয়াকে এশিয়ার সমস্যা সমাধান প্রসঙ্গ থেকে বাদ দেওয়া, চিনকে আলোচনা প্রক্রিয়ার মধ্যে আহ্বান করে আনা ও সেই ভাবে তাদের পররাষ্ট্র নীতি সংক্রান্ত উদ্যোগ গুলিকে নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রাখার চেষ্টা এবং শেষে – এক মেরু বিশিষ্ট বিশ্বকেই রক্ষার চেষ্টা করা.

    ভারত এই ধরনের কাঠামোর ধারণাকে সমর্থন করেছিল, চিন এই বিষয়ের প্রতি অনেক দিন ধরে সাবধান হয়ে ছিল, তার ওপরে অন্যান্য ত্রি পাক্ষিক কাঠামো, যা এশিয়াতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগে হয়েছে (যেমন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র – ভারত – জাপান), যা স্পষ্ট ভাবেই চিন বিরোধী চরিত্র রাখে, তাও দেখেছিল. কিন্তু কয়েক দিন আগে ভারতের “হিন্দু” কাগজে যে রকম জানিয়েছে যে, চিনের পররাষ্ট্র দপ্তরের উপপ্রধান লে ইউচেন ঘোষণা করেছেন যে, চিন এই ধরনের আলোচনার জন্য তৈরী”.

    এশিয়াতে শক্তির অনুপাত পাল্টে যাচ্ছে. আগের নেতৃত্ব ধীরে হলেও স্তিমিত হচ্ছে, তাদের জায়গায় আসছে নতুনরা. দেখে মনে হচ্ছে এশিয়াতে প্রভাবের ক্ষেত্র দখলের জন্য “বড় খেলার” নতুন এক পর্যায় শুরু হতে চলেছে.