বিফল হওয়া নিয়ে আন্তর্জাতিক সমাজ প্রতিক্রিয়া প্রদর্শন করেছে. রাষ্ট্রসঙ্ঘের মহাসচিব বান গী মুন একে নিরাপত্তা পরিষদের সিদ্ধান্ত বিরোধী বলেছেন. ন্যাটো জোটে এই উড়ানের সমালোচনা করা হয়েছে ও উত্তর কোরিয়ার প্রশাসনকে রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদের সিদ্ধান্ত অমান্য করতে নিষেধ করা হয়েছে, যেখানে উত্তর কোরিয়ার উপরে ব্যালিস্টিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে রকেট উড়ান করা নিষেধ করা হয়েছিল. ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সভাপতি মার্টিন শুলজ পিয়ংইয়ংকে আহ্বান করেছেন এই রকেট প্রকল্প প্রত্যাখ্যান করতে. রাশিয়ার পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রতিক্রিয়া ছিল আরও বেশী ধৈর্যশীল. মন্ত্রণালয়ের প্রধান সের্গেই লাভরভ তাঁর চিন ও ভারতের সহকর্মীদের সঙ্গে আলোচনার শেষে ঘোষণা করেছেন যে, এই ধরনের হুমকির প্রতিক্রিয়া করা উচিত্ রাজনৈতিক – কূটনৈতিক মাধ্যম দিয়েই.

    কোরিয়ার উপদ্বীপ অঞ্চলে পরিস্থিতি মস্কো শহরের ত্রিপাক্ষিক বৈঠকের একটি প্রধান বিষয় ছিল. রাশিয়ার অবস্থান সম্বন্ধে মন্তব্য করতে গিয়ে, সের্গেই লাভরভ ঘোষণা করেছেন যে, মস্কো উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে নতুন কোন নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে, কিন্তু মনে করে যে, রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদ পিয়ংইয়ং এর রকেট উড়ান সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা ভঙ্গ নিয়ে আলোচনা করতে বাধ্য, তাই তিনি বলেছেন:

    “এতে কোনই সন্দেহ নেই যে, নিরাপত্তা পরিষদের সিদ্ধান্ত ভঙ্গ করা হলে, তা দাবী করে যে, পরিষদ এই পরিস্থিতি বিচার করে দেখবে, কিন্তু পরিষদের প্রতিক্রিয়া হওয়া দরকার ভারসাম্য রেখেই. আমরা নতুন নিষেধাজ্ঞায় বিশ্বাস করি না, সেই গুলি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের দৃষ্টিকোণ থেকে কোন রকমেরই ফল দেবে না”.

    মস্কো শহরের আলোচনায় একই সঙ্গে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার বিস্তার নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে. তাতে রাশিয়া ও চিন কাজাখস্থান, তাজিকিস্তান, কিরগিজিয়া ও উজবেকিস্তানের সঙ্গে রয়েছে. আর ভারত – পাকিস্তানের ও মঙ্গোলিয়ার সঙ্গে রয়েছে – পর্যবেক্ষক দেশের দলে. মস্কো দিল্লী ও ইসলামাবাদের সাংহাই সহযোগিতা সংস্থায় যোগদানের বিষয় সমর্থন করেছে বলে সের্গেই লাভরভ ঘোষণা করে বলেছেন:

    “রাশিয়া ভারতের সাংহাই সহযোগিতা সংস্থায় যোগদানের বিষয় সমর্থন করেছে, আর তারই সঙ্গে পাকিস্তানেরও, যারা একই ধরনের অনুরোধ নিয়ে উপস্থিত হয়েছে. আমাদের এখানে খোলামেলা নীতি কাজ করে. বর্তমানে পর্যবেক্ষক দেশ গুলি সম্বন্ধে নতুন নিয়ম নেওয়া হয়েছে, যা এখন নির্দিষ্ট ভাষায় পরিণত করা হচ্ছে, যেখানে আইন সংক্রান্ত, আয়োজন সংক্রান্ত ও বিনিয়োগ সংক্রান্ত বিষয় গুলি এই সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার সদস্য দেশ গুলির জন্য কাঠামো বদ্ধ হবে. আশা করছি যে, এই কাজ অনেক সময় নেবে না”.

    মন্ত্রী মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, ভারত পর্যবেক্ষক দেশ হিসাবেও সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার কাজে অংশ নিয়েছে, অংশতঃ জ্বালানী ক্লাব সংক্রান্ত সৃষ্টির সময়ে. মস্কো একই সঙ্গে ভারতের সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার সন্ত্রাস বিরোধী কাঠামোয় যোগ দেওয়াতে স্বাগত জানিয়েছে, পরিবহন সংক্রান্ত প্রকল্পের ক্ষেত্রে, নতুন প্রযুক্তি ক্ষেত্রে, কৃষি ক্ষেত্রে, বিজ্ঞান ও শিক্ষা ক্ষেত্রেও এটা হচ্ছে. একই সঙ্গে রাশিয়া, ভারত ও চিনের পররাষ্ট্র প্রধানরা সাংহাই সহযোগিতা সংস্থায় আফগানিস্তানের পর্যবেক্ষক দেশ হিসাবে যোগ দেওয়াকে সমর্থন করেছেন. তাঁরা বিশেষ করে উল্লেখ করেছেন যে, এই আন্তর্জাতিক কাঠামোকে আফগানিস্তানের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য সবচেয়ে ভাল কাঠামো বলেই তাঁরা মনে করেন.

    সব মিলিয়ে রাশিয়া, ভারত ও চিনের পররাষ্ট্র প্রধানদের বৈঠক তিন দেশের আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সমস্যা নিয়ে আলোচনার গভীরতা বৃদ্ধির ব্যাপারে সমর্থন প্রকাশ করেছে, আর তারই সঙ্গে ত্রিপাক্ষিক ভাবে বাস্তবিক সহযোগিতা চালিয়ে যেতে.