ভারতীয় নববর্ষ উদযাপণের কাঠামোতে ২ দিন ধরে ভারতীয় নৃত্যচর্চা কারী অল্প বয়সের রুশীরা তাদের মুন্সীয়ানা প্রদর্শন করলো মস্কোর দক্ষিণ - পশ্চিম এলাকায় ইন্দিরা গান্ধীর নামাঙ্কিত চকে অবস্থিত ইউনিভার্সিতেতস্কি হোটেলে. সেখানে ভারতীয় নৃত্যের তৃতীয় আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হল . বিচারক দলের সভাপতি রাঘব ভাট মঙ্গল, যিনি একাধারে নৃত্যস্রষ্টা, ভারতীয় লোকনৃত্যের বিশেষজ্ঞ ও মস্কোস্থিত ভারতীয় সংস্কৃতিকেন্দ্রে কত্থক নাচের শিক্ষক, ব্যাখ্যা করে বললেন, যে প্রতিযোগিতায় যোগ দেয় ৩৫০ জন প্রতিদ্বন্দী . – আমরা প্রতিযোগিতার আয়োজন করার অভিপ্রায় ইন্টারনেটের মাধ্যমে প্রচার করার সাথে সাথে যোগদানে ইচ্ছুকরা আবেদনপত্র পাঠাতে থাকে. সেগুলি আসছিল ভরোনেঝ, পের্ম, কাজান, মস্কো ও সেন্ট - পিটার্সবার্গ থেকে . রাশিয়ায় বসবাসকারী ভারতীয়রাও প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছে . আর প্রতিযোগিতা আয়োজনের সংগঠনে সহায়তা করেছে 'হিন্দুস্তান সমাজ', ‘দিশা’ নামক রাশিয়ার সাথে ভারতের সাংস্কৃতিক সংযোগ সমাজ, ‘ আম্মা’ নামক রাশিয়ায় কার্যরত মালয়ালম সমাজ ও জহরলাল নেহেরু সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের সাথে সহযোগিতায়.

রাশিয়ায় ভারতীয় নৃত্য প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে ইচ্ছুক নৃত্যশিল্পীদের সংখ্যা বছরের পর বছর বাড়ছে, - বলছেন রাঘব ভাট মঙ্গল . বিভিন্ন বয়সের কিশোর - কিশোরী ও যুবক - যুবতীরা দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসে . আর এটা রাশিয়ায় ভারতীয় সংস্কৃতি, সঙ্গীত, নৃত্যশিল্পের প্রতি অনুরাগের প্রমাণ দেয় . এই বছরে আমরা বিভিন্ন বয়স সীমা ও বিভিন্ন বিভাগে পুরস্কার সম্প্রসারিত করেছি . শুরু করি পাঁচ বছরের শিশুদের দিয়ে, তারপরে প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষার্থীরা, মাধ্যমিক স্কুলের ছাত্রছাত্রীরা এবং যুব সম্প্রদায়, যারা স্কুলের পড়াশোনা শেষ করেছে . যেমন ছিল একক নাচের প্রতিযোগিতা, তেমনই নাচের ট্রুপগুলির প্রতিযোগিতা .

জুরি বোর্ডে রাঘব ভাট মঙ্গল তার রুশী সহকর্মীদের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন . কারণ তার মতে রাশিয়ায় বিভিন্ন শৈলীর ভারতীয় নৃত্যের উচুঁগুনের বিশেষজ্ঞ কম নেই . তাদের অনেকেই ভারতে সেরা সব শিক্ষায়তনে শিক্ষাগ্রহণ করেছে . তাদের মাঝে মধ্যেই ভারতে গালা - কনসার্টে অংশ নেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয় .

তাদেরই একজন ভিতালিনা লোবাচ – রাশিয়ায় ওড়িশি নৃত্যের প্রথম সারির শিল্পী . তিনি নয়াদিল্লীতে অবস্থিত অ্যাকাডেমি অফ ফাইন আর্টসে গুরু মাধবী মুতগালের কাছে নৃত্যশিক্ষা পেয়েছেন . আর এখন মস্কোয় ওড়িশি নৃত্য শেখান . তার ক্লাসে ৪০ জন ছাত্রছাত্রী . জুরি বোর্ডের সদস্যা লোবাচ বলছেন, যে তাদের মধ্যে কয়েকজনকে এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার জন্য বাছাই করা হয়েছিল . প্রতিযোগিতা – বড় পরীক্ষা, - বলছেন ভিতালিনা লোবাচ . এটা যেমন প্রতিযোগী, তেমনই শিক্ষকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ . এবারের প্রতিযোগিতাকে বৈচিত্রময় বলা যেতে পারে . সেখানে লোকনৃত্যও ছিল, আধুনিক নাচও ছিল . আয়োজক ও অর্থদাতারা এত মধুর আবহ সৃস্টি করেছিলেন প্রতিযোগীদের জন্য, যে আমি এই অনুষ্ঠানকে ভারতীয় নৃত্যচর্চা কারীদের উত্সব বলে অভিহিত করবো .

সব বিভাগেই প্রথম পুরস্কার প্রাপকদের নাম ঘোষণা করা হয় . তাদেরই একজন নবম শ্রেণীর ছাত্রী, ১৬ বছর বয়সী নাস্তিয়া ইভস্তিগনিয়েভা . তার ওড়িশি নৃত্য যেমন জুরিদের, তেমনই বহুসংখ্যক দর্শকদের এতটাই মুগ্ধ করেছে, যে তার প্রথম স্থান অধিকার করাটাই ছিল স্বাভাবিক . আর নাস্তিয়া নিজে অবশ্যই অত্যন্ত খুশি .

অবশ্যই এটা দারুন ব্যাপার – বলছে নাস্তিয়া . আমি তিন বছর ধরে ভারতীয় নৃত্যচর্চা করছি . এটা শক্ত, কিন্তু ভারী আগ্রহোদ্দীপক . আমি বিশেষ আগ্রহের সাথে প্রতিযোগিতায় ভারতীয় ছাত্রছাত্রীদের অনুষ্ঠান দেখেছি . তাদের জাতীয় নৃত্য ভারী সাবলীল ও জীবন্ত . এদের মধ্যে কেউ কেউ মস্কোয় থেকে পড়াশোনা করে . আমি তাদের সাথে পরিচয় করে খুশি হয়েছি . আমরা ঠিক করেছি ইন্টারনেটের মাধ্যমে যোগাযোগ রাখার, জলসায়, নতুন নতুন প্রতিযোগিতায় দেখা করার .

পরবর্তী এরকম প্রতিযোগিতা শীঘ্রই, এপ্রিলের শেষে মস্কোস্থিত ভারতীয় সংস্কৃতি কেন্দ্রে আয়োজিত হবে .