জি ৮ মন্ত্রীরা সিরিয়াতে অগ্নি সম্বরণ নিয়ে সমঝোতাকে স্বাগত জানিয়েছেন. এই বিষয়ে জানিয়েছেন রাশিয়ার পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রধান সের্গেই লাভরভ. সাময়িক যুদ্ধ বিরতি হয়েছে, যদিও তা ভঙ্গুর, ছোটখাট ঘটনা বহুল, এই কথা যোগ করে মন্ত্রী জানিয়েছেন যে, আট দেশের গোষ্ঠী এই পরিস্থিতির স্থিতিশীলতার প্রবণতাকে সমর্থন করতে চায়. মে মাসের জি ৮ নেতৃত্বের শীর্ষ বৈঠকের প্রস্তুতি হিসাবে এই দেশ গুলির পররাষ্ট্র মন্ত্রীরা ওয়াশিংটনে এক দুই দিনের শীর্ষ বৈঠকে মিলিত হয়েছিলেন.

    বৃহস্পতিবার সকাল থেকে সিরিয়াতে সাময়িক যুদ্ধ বিরতি কাজ করছে. এটা নিয়ন্ত্রণের পরিকল্পনার একটি অঙ্গ, যা রাষ্ট্রসঙ্ঘ এবং আরব লীগের বিশেষ প্রতিনিধি কোফি আন্নান প্রস্তাব করেছেন.

    এরই মধ্যে বৃহস্পতিবারে প্রশাসন আটটি যুদ্ধ বিরতি ভঙ্গের ঘটনা প্রশাসন বিরোধীদের পক্ষ থেকে করা হয়েছে বলে নথি বদ্ধ করেছে. অংশতঃ, সেনা নিয়ে একটি বাসে বিস্ফোরণ করা হয়েছে, সামরিক পাহারাদার গাড়ীর উপরে আক্রমণ করা হয়েছে, এক প্রশাসনিক দলের সক্রিয় কর্মীর উপরে গুলি চালানো হয়েছে. বিরোধী পক্ষও সরকারের উপরে নিজেদের অভিযোগ দাখিল করেছে. তা সে যাই হোক না কেন, প্রথম যুদ্ধ বিরতির দিনের পরে জেনেভা শহরে রাষ্ট্রসঙ্ঘের মহাসচিব বান গী মুন এক সাংবাদিক সম্মেলনে ঘোষণা করেছেন:

    “সিরিয়াতে পরিস্থিতি মনে হয়েছে অনেক শান্ত. আমরা খুবই মনোযোগ দিয়ে পরিস্থিতির পরিবর্তনের দিকে দেখছি. আন্তর্জাতিক সমাজের উচিত্ হবে এক হওয়া, যাতে সিরিয়াতে বিশৃঙ্খলা না হয়. সিরিয়ার প্রশাসনের কাছে আহ্বান করছি সম্পূর্ণ ভাবেই শান্তি পরিকল্পনার দায়িত্ব পালন করার, আর তারই সঙ্গে বিরোধী পক্ষকেও বলছি হিংসা থেকে বিরত থাকতে. আমি সিরিয়ার সমস্ত মিত্রদেরই সম্ভাব্য সম্পূর্ণ প্রভাব বিস্তার করতে বলবো, যাতে এই ট্র্যাজিক বিরোধের অবসান হয়”.

    ১০০ জনেরও বেশী বিরোধী, যারা পুলিশের কাছে ফেরারী আসামী হয়েছিল, তারা আত্ম সমর্পণ করেছে এই অগ্নি সম্বরণের সমঝোতা কার্যকরী হওয়ার পরে. এটা, অবশ্যই ইতিবাচক সঙ্কেত. তারই মধ্যে রাশিয়ার বিশেষজ্ঞ সের্গেই দেমিদেঙ্কো মনোযোগ দিয়েছেন সেই বিষয়ে যে, বিরোধী পক্ষ নিজেদের প্রধান লক্ষ্য থেকে সরে আসে নি – প্রশাসনের পতন করা থেকে, এই প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন:

    “বাশার আসাদের পতনের জন্য খুবই নির্দিষ্ট কর্মসূচী নেওয়া হয়েছে. তাই কোফি আন্নানের কোন পরিকল্পনাই কাজ করবে না. তাও চেষ্টা হবে প্রশাসনকে ছেঁটে ফেলার. বিরোধী পক্ষ যা খুশী ঘোষণা করতে পারে, যে তারা অস্ত্র সমর্পণ করবে, গুলি চালানো বন্ধ করবে. কিন্তু তাদের প্ররোচনা নিয়ন্ত্রণ করা কিছুতেই সম্ভব হবে না, আর এই পরিস্থিতিতে সামরিক বাহিনীকে প্ররোচিত করা খুবই সহজ”.

    যাতে সিরিয়াতে এই নড়বড়ে যুদ্ধ বিরতিকে সমর্থন করা যায়, তাই রাষ্ট্রসঙ্ঘের তরফ থেকে সেখানে প্রথম তিরিশ জনের এক দল পর্যবেক্ষক পাঠানোর তোড়জোড় চলছে. রুশ বিজ্ঞান একাডেমীর প্রাচ্য অনুসন্ধান ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ বরিস দোলগভ মনে করেন যে, এটা ইতিবাচক পদক্ষেপ, তিনি বলেছেন:

    “যদি পর্যবেক্ষকরা আসে, তবে সম্ভবতঃ, হিংসার মাত্রা কমতেও পারে ও সশস্ত্র সংঘর্ষও কমে যেতে পারে.  সম্ভবতঃ, আমি পুনরাবৃত্তি করছি. এখানে মুখ্য বিষয় হল – দেশের বাইরের শক্তি, যারা কোফি আন্নানের পরিকল্পনাকে কার্যকরী হতে দিতে চায় না. আর প্রধান হল – সেটারই চেষ্টা করা, যাতে এই বাইরের শক্তি গুলি সিরিয়াতে প্রশাসন বিরোধী সশস্ত্র গোষ্ঠী গুলিকে সমর্থন করা বন্ধ করে”.