উত্তর কোরিয়ার রকেট পরিবাহক “ঈনখা- ৩” (“ছায়াপথ – ৩”), কৃত্রিম উপগ্রহ “কোয়ানমিওনসন – ৩” (“উজ্জ্বল নক্ষত্র – ৩”) উড়ান অসফল হয়েছে. উড়ান শুরু হওয়ার কয়েক মিনিট পরেই রকেট কয়েক ভাগে ভাগ হয়ে সমুদ্রে পড়ে গিয়েছে.

    মহাকাশে রকেট পাঠানোর ইচ্ছা মার্চ মাসের মাঝামাঝি ঘোষণা করেছিল উত্তর কোরিয়া. এই উড়ান তারা উত্সর্গ করতে চেয়েছিল, দেশের স্রষ্টা ও প্রথম নেতা কিম ইর সেনের জন্ম শতবর্ষ উপলক্ষে, ১৫ই এপ্রিল. এই পরিকল্পনা আন্তর্জাতিক সমাজের কাছ থেকে খুবই তীক্ষ্ণ সমালোচনার কারণ হয়েছিল. কারণ বিগত পুরো মাসে উত্তর কোরিয়ার লোকদের এই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছিল. নিষেধাজ্ঞার ভয় দেখানো হয়েছিল. তারা বুঝেছিল যে, এই কাজ রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদের সিদ্ধান্তের বিরোধী হয়ে যাচ্ছে, যেখানে উত্তর কোরিয়ার উপরে ব্যালিস্টিক মিসাইল উড়ানের বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা জারী করা রয়েছে.

    এখানে খুবই বোকামি হবে ভাবলে যে, উত্তর কোরিয়াতে নতুন নেতার আবির্ভাবের সঙ্গে সঙ্গেই দেশে রাজনৈতিক মোড় ফিরবে ও তারা পশ্চিমের চাপে “নতি স্বীকার” করবে, এই কথা উল্লেখ করে রুশ বিজ্ঞান একাডেমীর সুদূর প্রাচ্য ইনস্টিটিউটের জাপান গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান ভিক্টর পাভলিয়াতেঙ্কো বলেছেন:

    “উত্তর কোরিয়ার নেতৃত্বের ভিতরেই লড়াই রয়েছে. নানা ধরনের গোষ্ঠী, নানা রকমের মত. বুঝতেই পারছেন যে, নবীন নেতাকে যদিও দেশের সর্বোচ্চ নেতৃত্বের পদে বসানো হয়েছে, কিন্তু তা থেকে তার বুদ্ধি বা অভিজ্ঞতা কোনটাই বেশী হয়ে যায় নি. আর এই ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য প্রধান ভূমিকা নিয়ে থাকে, অবশ্যই, সেই সমস্ত বৃত্তের লোকরা, যাদের তাঁর বাবা তাঁর চারপাশে রেখে গিয়েছেন. এই পথ, যা কিম পরিবারের আত্মীয় স্বজন ও সবচেয়ে প্রভাবশালী রাজনৈতিক ও সামরিক – রাজনীতির উচ্চ মহলের সদস্যদের দিয়ে তৈরী, তারাই তাদের কঠিন মত নিয়ে জিতেছে.”

    এখন উত্তর কোরিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপান রকেটের ভাঙা টুকরো খুঁজছে. সিওল ও টোকিও – এই কারণে যে, তারা প্রমাণ করতে চায় উত্তর কোরিয়ার সামরিক অভিসন্ধির কথা, আর পিয়ংইয়ং –যাতে কেন দুর্ঘটনা ঘটল, তা বোধগম্য হয়. বিশেষজ্ঞরা মনে করেছেন যে, এখানে ব্যাপারটা খুবই সম্ভবতঃ, উত্তর কোরিয়ার ইঞ্জিনিয়ারদের বহু স্তর বিশিষ্ট রকেটের মত জটিল নির্মাণের বিষয়ে যথেষ্ট অভিজ্ঞতা না থাকা.

    এখন, যাতে কিছু একটা করে নিজেদের “মর্যাদা পুনরুদ্ধার” করা, যাতে মুখ লুকাতে না হয়, এই অসফল কৃত্রিম উপগ্রহ পাঠানোর পরে, উত্তর কোরিয়া, আবার একটা পারমানবিক পরীক্ষা করতেই পারে, এই কথা মনে করে এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকার সম্বন্ধে বিশেষজ্ঞ আরতিওম লুকিন বলেছেন:

    “এর পরবর্তী পদক্ষেপ হতে পারে পারমানবিক যন্ত্রের পরীক্ষা. উত্তর কোরিয়া ইতিমধ্যেই দুটি পরীক্ষা করেছে ২০০৬ ও ২০০৯ সালে. পারমানবিক প্রযুক্তি তাদের বেশী উন্নত ও পরীক্ষিত, রকেট প্রযুক্তির চেয়ে. তাই যদি উত্তর কোরিয়া এই ধনের পরীক্ষা পরিকল্পনা করে থাকে, তবে অনেক বেশী সম্ভাবনা রয়েছে যে, মাটির নীচে পারমানবিক বিস্ফোরণ সফল হবে”.

    উত্তর কোরিয়ার রকেটের উড়ান নিয়ে আন্তর্জাতিক সমাজের প্রতিক্রিয়া আগে থেকেই ভাল করে জানা ছিল. ওয়াশিংটন এটাকে “প্ররোচনা মূলক কাজ” বলে নাম দিয়েছে. টোকিও ঠিক করেছে পিয়ংইয়ংকে কূটনৈতিক চ্যানেল দিয়ে সবচেয়ে গুরুতর প্রতিবাদ পাঠানোর. রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদ শুক্রবারে এক জরুরী সভায় মিলিত হবে. কিন্তু উত্তর কোরিয়া এমনিতেই বহু নিষেধাজ্ঞায় বদ্ধ, আর চিনের মতে, এই পরিস্থিতিতে ভাল হয় ধৈর্য প্রদর্শন করা হলে ও সেই সমস্ত পদক্ষেপ না নিলে, যার ফলে কোরিয়া উপদ্বীপ এলাকায় পরিস্থিতি আরও ঘোরালো হয়.