উত্তর কোরিয়ায় স্পুতনিক সম্বলিত “ঈনহা-৩” রকেট ক্ষেপণ করা হয়েছিল শুক্রবার সকালে. দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, রকেটটি যাত্রা শুরু করে “তনচান-রি” উড়ান কেন্দ্র থেকে শুক্রবার সকাল ৭টা ৩৯ মিনিটে এবং মাত্র কয়েক মিনিট তা ওড়ে. তারপর তা ভেঙ্গে সমুদ্রে গিয়ে পড়ে, জানিয়েছে “রয়টার” সংবাদ এজেন্সি. জাপানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী নাওকি তানাকা-ও এ তথ্য সমর্থন করেছেন.জাপানী পক্ষের তথ্য অনুযায়ী, রকেটটি ওড়ে মাত্র ১২০ কিলোমিটার, তারপরে তা চার টুকরো হয়ে যায়. অনুমান করা হচ্ছে যে, উড়ানের সময় রকেটের দ্বিতীয় ও তৃতীয় পর্যায় পরস্পর থেকে আলাদা হয় নি. দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক অধিনায়কমন্ডলীর তথ্য অনুযায়ী, উত্তর কোরিয়ার রকেটটি কোরিয়া প্রজাতন্ত্রের পশ্চিম উপকূলে অবস্থিত কুনসান শহর থেকে ১৯০-২১০ কিলোমিটার দূরের অংশে গিয়ে পড়েছে. রকেটটি স্বয়ংক্রিয়ভাবেই ধ্বংস হয়ে থাকতে পারে, যখন যাত্রাপথ থেকে বিচ্যুত হয়. এ সম্বন্ধে “এন.এইচ.কে” টেলি-কোম্পানিকে জানিয়েছেন জাপানের রকেট নির্মাণ ক্ষেত্রের বিশেষজ্ঞ তেতসুও ইয়াসাকা. তিনি সাংবাদিকদের বলেন যে, উত্তর কোরিয়ার রকেটটি যে উড়ানের এক মিনিট পরেই সমুদ্রে গিয়ে পড়েছে, তা এরই প্রমাণ দেয় যে, প্রথম পর্যায়েই কোনো সমস্যা দেখা দিয়েছিল. ফলে বিস্ফোরণ ঘটে, আর রকেটটি নির্দিষ্ট যাত্রাপথ থেকে সরে যেতে থাকে, এ সম্ভাবনাও আছে যে, উত্তর কোরিয়ার বিশেষজ্ঞরা নিজেরাই রকেটটি ধ্বংস করার নির্দেশ দিয়েছিলেন, মনে করেন বিশেষজ্ঞ. মহাকাশে “কোয়ানমিওনসন-৩” (“উজ্জ্বল নক্ষত্র”) স্পুতনিক সম্বলিত  “ঈনহা-৩” (“ছায়াপথ”) রকেট ক্ষেপণের অভিপ্রায়ের কথা উত্তর কোরিয়ার কর্তৃপক্ষ ঘোষণা করেছিল ১৬ই মার্চ. এ স্পুতনিক পাঠানোর উপলক্ষ্য হচ্ছে দেশের প্রথম নেতা কিম ইর সেনের জন্ম শতবার্ষিকী, যা পালিত হবে ১৫ই এপ্রিল. পিয়ং ইয়ংয়ের পরিকল্পনা বিশ্ব জনসমাজের নিন্দে ও উদ্বেগ জাগায়, কারণ রকেটের ক্ষেপণ রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদের সিদ্ধান্তের লঙ্ঘন, যাতে উত্তর কোরিয়াকে নিষেধ করা হয়েছে ব্যালিস্টিক রকেট ক্ষেপণে. আশা করা হচ্ছে যে, উত্তর কোরিয়ার দ্বারা স্পুতনিক সম্বলিত ব্যালিস্টিক রকেট ক্ষেপণের প্রশ্ন শুক্রবার রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদে আলোচিত হবে, এ ক্ষেপণের নিন্দা সহ যথাযথ সিদ্ধান্তও গৃহীত হবে, জানিয়েছে “ইন্টারফাক্স” সংবাদ এজেন্সি.