১২ই এপ্রিল ১৯৬১ সোভিয়েত দেশের নাগরিক, সামরিক বিমান বহরের পাইলট মেয়র ইউরি গাগারিন ভস্তক – ১ মহাকাশ যানে চড়ে বিশ্বের ইতিহাসে প্রথম পৃথিবীর কাছের কক্ষপথে মহাকাশে ভ্রমণ করেছিলেন.

    মনে হয়েছিল যে, এই উড়ানের বিষয়ে সব কিছুই জানা হয়ে গিয়েছে. কিন্তু সরকারি সংবাদ মাধ্যমে একটি বিষয় খুবই সযত্নে উপেক্ষা করা হয়েছে. এটা – উড়ন্ত চাকীর বিষয়ে. একই সঙ্গে ইউরি গাগারিনের নামে পরবর্তী কথা গুলি তাঁর কথা বলেই উল্লেখ করা হয়ে থাকে: “উড়ন্ত চাকী – এটা বাস্তব, আর যদি আপনি আমাকে বলতে দেন, তবে আমি এই সম্বন্ধে অনেক কিছুই বলতে পারি আপনাদের”.

    এই বাক্য খুবই আশ্চর্যের, যদি মনে করা হয় যে, সেই যুগে মহাকাশচারীদের সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গে আলোচনার বিষয় হিসাবে উড়ন্ত চাকী প্রসঙ্গ ছিল নিষিদ্ধ. তা স্বত্ত্বেও, মহাকাশচারীদের কাছ থেকে তাঁদের নিজেদের এই অজানা উড়ন্ত বস্তুর সঙ্গে দেখা হওয়ার প্রসঙ্গে অনেক তথ্যই জমা হয়েছে. তার মধ্যে এখানে মাত্র কয়েকটা উল্লেখ করবো.

গের্মান টিটভ, দ্বিতীয় ব্যক্তি, যিনি মহাকাশে গিয়েছিলেন, তিনি গল্প করেছেন যে, নিজের মহাকাশ ভ্রমণের সময়ে ১৯৬১ সালে তিনি ৭টি উড়ন্ত অজানা বস্তু দেখতে পেয়েছেন, যেগুলি তাঁর মহাকাশ যানের চারপাশে নেচে বেড়াচ্ছিল.

১৯৬২ সালের ২৬শে ফেব্রুয়ারী মার্কিন অ্যাসট্রোন্যট জন গ্লেন, যিনি মার্কারি – ফ্রেন্ডশীপ- ৭ মহাকাশ যানে চড়ে গিয়েছিলেন, তিনি ফোটো তুলেছিলেন এক চুরুট আকৃতির বস্তুর, তার কাছেই খুব উজ্জ্বল আলোর উত্স ছিল. ফোটো প্রকাশিত হয়েছিল.

১৯৬৪ সালের ১২ই অক্টোবর প্রথম বহু যাত্রী বিশিষ্ট মহাকাশ যানের যাত্রীরা কমারভ, ফিওকতিস্তভ ও ইগরভ উড়ান নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রকে জানিয়ে ছিলেন যে, তাঁদের ঘিরে রয়েছে এক দল চাকী আকৃতির অত্যন্ত দ্রুত গামী বস্তু. ভসখোদ মহাকাশ যানের যাত্রা সেই মুহূর্তেই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল, যদিও তার পরিকল্পনা ছিল পাঁচ দিনের.

১৯৬৮ সালে অ্যাসট্রোন্যট বোরম্যান, লৌয়েল ও আন্ড্রে, যাঁরা অ্যাপেলো – ৮ মহাকাশ যানে চড়ে গিয়েছিলেন, তাঁরা দেখতে পেয়েছিলেন চাকী আকৃতির বস্তু, যেটা তাঁদের যানের সঙ্গে সমান্তরাল ভাবে ঘন্টায় ১১ হাজার কিলোমিটার গতিতে উড়েছিল.  এই অজানা বস্তু উদয় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমেরিকার মহাকাশ যানের সমস্ত যন্ত্রপাতি একসঙ্গে কাজ করা বন্ধ করেছিল, আর হিউস্টন নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের সঙ্গে যোগাযোগ ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল. তারপরে এই গূঢ় উড়ন্ত চাকী থেকে মহাকাশ যানের উপরে এক চোখ ধাঁধান আলো বিচ্ছুরিত হয়েছিল ও যার কারণে এই যান খুবই বেশী করে দুলে উঠেছিল, একই সময়ে মহাকাশচারীরা নিজেদের কানে খুবই তীক্ষ্ণ এক ব্যথা ধরিয়ে দেওয়া আওয়াজ শুনতে পেয়েছিলেন. কয়েক মিনিট পরে এই বস্তু হঠাত্ করেই হারিয়ে গিয়েছিল, আর তা হওয়া পরেই আলো ও শব্দ থেমে গিয়েছিল. কিছু সময় পরে অ্যাপেলো – ৮ এর পাশে নতুন এক চাকী আকারের বস্তু উদয় হয়েছিল, যা প্রথমটির থেকে অনেক বড়. অ্যাসট্রোন্যট লোকরা খুবই শক্তিশালী ব্যথা টের পেয়েছিলেন. ১১ মিনিট বাদে উড়ন্ত চাকী অদৃশ্য হয়ে গিয়েছিল, আর সমস্ত অস্বাভাবিক ব্যাপার সঙ্গে সঙ্গেই থেমে গিয়েছিল. হিউস্টনের সঙ্গে যোগাযোগ পুনর্স্থাপিত হয়েছিল.

১৯৬৯ সালের ২১শে জুলাই, ১৯৭৫ সালের এপ্রিল মাসে, ১৯৭৮ সালে বিমান থেকে, ১৯৮১ সালে, ১৯৮৫ ও ১৯৯০ এবং ১৯৯১ সালে এই রকমের অনেক আজগুবি ঘটনার কথা শোনা গিয়েছে.

 রাশিয়া ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্রের প্রতিনিধিরা এই ধরনের খবর হয় মন্তব্য করেন না, অথবা সাংবাদিকদের স্ব- কপোল কল্পিত বলে থাকেন. কিন্তু নিয়মিত ভাবেই বিশ্ব জুড়ে উড়ন্ত চাকী নিয়ে খবর রটে, তাই লেখক ভাবেন যে, যা রটে তার সত্য কিছু বটে.