রাশিয়া মহাকাশ গবেষণায় উন্নতির জন্য নতুন অধ্যায় শুরু করতে চলেছে. উচ্চাশা নিয়ে তৈরী করা প্রকল্প গুলির জন্য শুধু নতুন প্রজন্মের মহাকাশ যানই নয়, বরং দরকার পড়বে আধুনিকীকরণ করা মহাকাশ বন্দরেরও. পরিকল্পনা রয়েছে ২০২০ সালের মধ্যে রাশিয়া থেকেই শতকরা নব্বই ভাগ মহাকাশ উড়ান করা হবে.

    দেশের প্রধান মহাকাশ উড়ান ক্ষেত্র বহু বছর ধরেই ছিল “বৈকনুর” মহাকাশ উড়ান কেন্দ্র, যা সোভিয়েত আমলে তৈরী করা হয়েছিল. ১৯৯১ সালে কাজাখস্থান, যে দেশের এলাকার মধ্যে এই কেন্দ্র, তা স্বাধীন রাষ্ট্র হয়েছিল. প্রতি বছরে রাশিয়া এই ঐতিহাসিক মহাকাশ কেন্দ্রের জন্য ষোল কোটি পঞ্চাশ মিলিয়ন ডলারের সমান অর্থ ব্যয় করে থাকে, এই কথা উল্লেখ করে পাইলট ও মহাকাশচারী, সোভিয়েত দেশের দুই বার বীর পদক প্রাপ্ত এবং রাশিয়ার রাষ্ট্রপতির পরামর্শ দাতা আলেকজান্ডার আলেকসান্দ্রভ বলেছেন:

    “আমাদের জন্য এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ কাজ – নিজেদের মহাকাশ উড়ান কেন্দ্র পাওয়া ও সেখানে মুখ্য হল, যাতে “বৈকনুর” মহাকাশ কেন্দ্র ভাড়া করা থেকে রেহাই পাওয়া যায়. সেখানে প্রযুক্তি বয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য যাত্রাপথও খুব কাছে নয়, আর পরিকাঠামো সংরক্ষণও খুব সস্তা নয়. সেখানে নিয়মিত ভাবে বহু সংখ্যক লোকের থাকা দরকার, যারা বিভিন্ন উড়ানের মধ্যে কাজ করেন, প্রযুক্তির জন্য পরিচর্চা করেন ও বাড়ী ঘরের পরিষেবা করেন”.

    নতুন রুশ মহাকাশ বন্দর “ভস্তোচনি” তৈরী করা হচ্ছে আমুর এলাকায়. এই প্রকল্পে দুটি উড়ানের মঞ্চ তৈরী করা হচ্ছে, একটি মহাকাশচারী প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা কেন্দ্র তৈরী করা হচ্ছে, অক্সিজেন ও হাইড্রোজেন উত্পাদন কারখানা করা হচ্ছে. সব মিলিয়ে – প্রায় দেড় হাজার উচ্চ প্রযুক্তি সহ কেন্দ্র তৈরী হচ্ছে. প্রথম উড়ান মঞ্চের প্রস্তুতির কাজ শেষ ও প্রথম পাইলট বিহীণ রকেট উড়ানের সময় নির্দিষ্ট হয়েছে ২০১৫ সাল. প্রাথমিক হিসাব মতো, ২০২০ সালে “ভস্তোচনি” থেকে প্রায় অর্ধেক রুশ মহাকাশ যান পাঠানো হবে.

    সেই সময়ের মধ্যে “সইউজ” ধরনের মহাকাশ যানের বদলে ফিরে আসার উপযুক্ত পাইলট সমেত মহাকাশ যান “রুশ” তৈরী হয়ে যাবে, যা শুধু পৃথিবীর কাছের কক্ষপথের জন্যই নয়, বরং চাঁদের কক্ষপথে যাওয়ার উপযুক্ত মহাকাশ যানও হবে. এরই ধারণা – প্রকল্প রুশ নির্মাতা কর্পোরেশন “এনার্জি” (রকেট মহাকাশ প্রযুক্তি শিল্প বিষয়ক একটি নেতৃস্থানীয় কোম্পানী) “ম্যাক্স – ২০১১” বিমান মহাকাশ প্রদর্শনীতে দেখিয়ে ছিল. নতুন প্রজন্মের মহাকাশ যানে মহাকাশচারীদের সংখ্যা হবে ছয় জন, বর্তমানের “সইউজ” মহাকাশ যানের মতো তিন জন নয়. আর তাঁরা মহাকাশে সঙ্গে করে নিয়ে যেতে পারবেন ৫০০ কিলোগ্রাম অবধি মাল, এই কথা উল্লেখ করে মহাকাশ গবেষণার খবর (“নোভস্তি কসমোনাভতিকি”) জার্নালের পর্যবেক্ষক ইগর লিসভ বলেছেন:

    “যখন নতুন ধরনের রকেট, তখন কথা উঠবেই নতুন উড়ান মঞ্চ নিয়ে. “বৈকনুর” মহাকাশ উড়ান কেন্দ্রে তা তৈরী করার অর্থ হল অন্য দেশে অর্থাত্ কাজাখস্থানে তৈরী করা খুব একটা সঠিক হবে না. তাই প্রশ্ন উঠেছিল রাশিয়ার ভিতরেই জায়গা নিয়ে. প্রসঙ্গতঃ এই ধরনের জায়গা, যেখান থেকে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের কক্ষ পথেই যান পাঠানো যেতে পারে”.

    “ভস্তোচনি” কেন্দ্রে উড়ান মঞ্চ ঘিরে পঁয়ত্রিশ হাজার লোকের শহর গড়ে উঠছে. এখানে স্থপতিরা হিসাব করে দেখেছেন যে, বহু পর্যটক শুধু রাশিয়া থেকেই নয়, এমনকি সারা দুনিয়া থেকেই এখানে আসতে পারেন. তাই “ভস্তোচনি” পরিকল্পনা করা হয়েছে এক অতুলনীয় মহাকাশ বন্দর হিসাবেই. দ্বিতীয় প্রধান ও এখনই যেটা কাজ করছে, সেই “প্লিসেত্স্ক” মহাকাশ বন্দরের ভাগে শতকরা চল্লিশ ভাগ উড়ান থাকে. “বৈকনুর” সম্বন্ধে যা বলা যেতে পারে, তা হল, সেখান থেকে রাশিয়া পরিকল্পনা করেছে শতকরা দশ শতাংশ উড়ান করার. সম্ভবতঃ, তা একটি শেয়ার হোল্ডিং কোম্পানী হিসাবে রাখা হবে, যার শেয়ার বিশ্বের মহাকাশ গবেষণায় অগ্রণী দেশ গুলি নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেবে.