সিরিয়া সঙ্কটের নিয়ন্ত্রণের সময় সীমা, ইরানের পারমানবিক পরিকল্পনা ও কোরিয়া উপদ্বীপ অঞ্চলে উত্তেজনা উদ্রেক কারী পরিস্থিতি – ওয়াশিংটনে জি ৮ গোষ্ঠীর দেশ গুলির পররাষ্ট্র মন্ত্রীরা আন্তর্জাতিক রাজনীতির মুখ্য সমস্যা গুলি নিয়ে নিজেদের অবস্থান সময়োপোযোগী কি না তা আলোচনা করে দেখেছেন. এই বৈঠক ছিল “জি ৮” শীর্ষ সম্মেলনের প্রস্তুতির জন্য সবচেয়ে বড় অধ্যায়. আগামী ১৮- ১৯ মে আমেরিকার ক্যাম্প ডেভিডে তা হতে চলেছে.

মন্ত্রী পর্যায়ের সাক্ষাত্কারে প্রধান বিষয় হয়েছিল নিকট প্রাচ্যের পরিস্থিতি ও উত্তর আফ্রিকার অবস্থা, আর তারই সঙ্গে ইরানের পারমানবিক পরিকল্পনা ও উত্তর কোরিয়া. সিরিয়ার প্রশ্ন আগে থেকেই এই বৈঠকের বিষয় বস্তু ছিল না. কিন্তু বিগত মাস গুলিতে এটি আলোচিত হয় নি এমন একটিও আন্তর্জাতিক বৈঠক হয় নি. এই বারেও তার বিষয়ে আলোচনা না করে পারা যায় নি. কারণ ১২ই এপ্রিল, যখন “জি ৮” দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রীরা ওয়াশিংটনে ছিলেন, তখন সিরিয়াতে গোলা গুলি বর্ষণ স্তব্ধ হওয়ার কথা ছিল. ওর আগে দামাস্কাস সরকার ভাবে রাষ্ট্রসঙ্ঘ ও আরব লীগের বিশেষ প্রতিনিধি কোফি আন্নানের কাছে ঘোষণা করেছিল নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই সামরিক অপারেশন বন্ধ করে দেওয়ার কথা.

কিন্তু কোফি আন্নানের মিশন সফল হতে গেলে ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হলে, এই দেশে শান্তি প্রয়াসের পরিকল্পনার সমস্ত পদক্ষেপ গুলিকেই বাস্তবায়িত করতে হবে বলে উল্লেখ করে রুশ প্রজাতন্ত্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রধান সের্গেই লাভরভ বলেছেন:

“আমরা সিরিয়াতে যত দ্রুত সম্ভব আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক দল পাঠানোর পক্ষে. এটাও আন্নানের পরিকল্পনার অংশ – অগ্নি সম্বরণ করা হোক কার্যকরী আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণের সামনে. আমি রাষ্ট্রসঙ্ঘের মহাসচিব বান গী মুনের সঙ্গে কথা বলেছি, তাঁকে অনুরোধ করেছি দায়িত্বের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া দ্রুত করার, যা রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদ গত ৫ই এপ্রিল সমর্থন করেছিল, পর্যবেক্ষক দের সংখ্যা ও কাঠামো নিয়ে প্রস্তাব আনার, যা তিনি প্রয়োজনীয় বলে মনে করবেন. নিরাপত্তা পরিষদ এই প্রস্তাব বিচার করে সিদ্ধান্ত নিতেও পারত, যাতে সিরিয়াতে পর্যবেক্ষকদের দল প্রসারের জন্য কার্যকরী সিদ্ধান্ত গ্রহণ সম্ভব হয়. আমরা প্ররোচনা হতে পারে এমন সম্ভাবনা বাদ দিচ্ছি না, তাই নিরপেক্ষ পর্যবেক্ষকদের সেখানে থাকা খুবই জরুরী”.

অন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ তারিখ আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক রাজনীতির জন্য ১৪ই এপ্রিল হতে পারে. এই দিনে ইস্তাম্বুলে “ছয় পক্ষের” আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতাকারী দলের সঙ্গে (নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্য দেশ ও জার্মানী) ইরানের তাদের পারমানবিক পরিকল্পনা নিয়ে কথা হবে. কি বার্তা নিয়ে এই সাক্ষাত্কারে প্রতিনিধি দল যাবে, তা নিয়েও ওয়াশিংটনে আলোচনা করেছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রীরা. এই প্রসঙ্গে সের্গেই লাভরভ বলেছেন:

“এখানে একটা বোধ তৈরী হয়েছে যে, শেষ লক্ষ্য হল – ইরানের পারমানবিক পরিকল্পনার শুধু শান্তি পূর্ণ চরিত্রই যে রয়েছে, তা নিয়ে সমস্ত প্রশ্নের অবসান হওয়া. এটা সকলের জন্যই সম্মিলিত উদ্দেশ্য. এখানে প্রয়োজন পড়বে কূটনৈতিক কাজে শিল্প গুণ প্রকাশের, যাতে এই লক্ষ্যে পৌঁছনোর পদক্ষেপ গুলি নিয়ে সমঝোতায় পৌঁছনো যায়. সকলেই বুঝতে পারছে যে, ওই ধরনের গতি শুধু এক বারের জন্যই হবে না, হতে পারে শুধু ধাপে ধাপেই”.

উত্তর কোরিয়ার পারমানবিক ক্ষমতা ও পরিকল্পনা নিয়ে “জি ৮” গোষ্ঠীর সদস্য দেশের প্রতিনিধিরা আরও বেশী করে উদ্বিগ্ন. প্রসঙ্গতঃ এই ধরনের সন্দেহের অবসান করার জন্য উত্তর কোরিয়া একেবারেই চেষ্টা করছে না. সেই কারণেই পিয়ংইয়ং এর রকেট প্রযুক্তি বিষয়ে উন্নতি আরও বেশী করে সন্দেহের কারণ হয়েছে. পিয়ংইয়ং সাবধান করে দিয়ে জানিয়েছে যে, তারা দেশের প্রথম নেতা কিম ইর সেনের শততম জন্মদিন উপলক্ষে মহাকাশে একটি শান্তিপূর্ণ উপগ্রহ পাঠাবে. এই ঘটনা ঘটতে চলেছে ১২ থেকে ১৬ই এপ্রিলের মধ্যে. কিন্তু এই প্রকল্পের শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্য বহু প্রতিবেশী দেশই, বিশেষত দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপান বিশ্বাস করে না.