রাশিয়া চাঁদে নতুন স্বয়ংক্রিয় কয়েকটি রোবট পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যেগুলি সেখানে কয়েক বছর চালু থাকতে পারবে. ভবিষ্যতে চাঁদে রুশী শিবির স্থাপণ করার সম্ভাবনাও বাতিল করে দেওয়া যায় না. এই সমস্ত কর্মসূচী ২০২৫ সাল পর্যন্ত গবেষণা প্রকল্পের আওতায় গ্রহণ করেছে বিজ্ঞান অ্যাকাডেমি.

    বিজ্ঞানীরা ঠিক করেছেন, যে সবার আগে চাঁদের মেরু অঞ্চলগুলি অধ্যয়ন করা দরকার. ইতিপূর্বে সেখানে বরফ আবিষ্কার করা গেছিল. আর তার মানে হচ্ছে ভবিষ্যতে সেখানে জল, অক্সিজেন ও হাইড্রোজেন উত্পাদন করার গবেষণা করা যেতে পারে. ‘নোভোস্তি কসমোনাফটিকি’ পত্রিকার পর্যবেক্ষক ইগর লিসোভের মতে পৃথিবীর এই একমাত্র উপগ্রহটিকে নিপুনভাবে অধ্যয়ন করা অত্যন্ত জরুরী. ----

   পৃথিবীতে মানবজাতি বদ্ধ ব্যবস্থা হিসেবে বোধহয় স্থায়ী অস্তিত্ব বজায় রাখতে পারবে না. এটা যথেষ্ট জটিল রাজনীতি ও দর্শনের প্রশ্ন. কিন্তু বদ্ধ জায়গার বাইরে না বেরিয়ে, চাঁদ ও মঙ্গল গ্রহকে জীবনযাত্রার উপযোগী করে তুলতে না পারলে মানব সভ্যতা অন্ধগলিতে গিয়ে ধাক্কা খাবে.

      ১৯৫৯ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের আন্তঃমহাজাগতিক ষ্টেশন প্রথম চাঁদের উল্টোদিকের ছবি পায়. তার ১০ বছর পরে আমেরিকানরা চাঁদে অবতরন করে. তারও ১ বছর পরে রিমোট কন্ট্রোলের দ্বারা নিয়ণ্ত্রিত সোভিয়েত চন্দ্রযান চাঁদের পৃষ্ঠদেশ দিয়ে হেঁটে যায়. চাঁদ বিস্মিত করা থেকে বিরত হয়নি. যেমন, ৭০-এর দশকে চাঁদের দক্ষিণ মেরুর দৃশ্যপটের পাওয়া ছবি থেকে জানা যায়, যে সেখানে ১০ কিলোমিটার উচ্চতার পর্বত আছে. চাঁদকে নিয়ে অনেকেই গবেষণা করতে চায়. ভারতীয়রা, চীনারা, আমেরিকানরা. মানবসমাজ একে পাশ কাটিয়ে চলে যেতে পারে না.

   নতুন রুশী চন্দ্র প্রকল্পের সূচনা হওয়ার কথা ২০১৫ সালে. তখন অনুসন্ধান কার্যের জন্য ২টি মহাজাগতিক ‘জোন্ড’ উড়ে যাবে. প্রথমটি, ‘মুন-রিসোর্স’ চাঁদের দক্ষিণ মেরু অধ্যয়ন করবে. সেখানে রুশী অবতরন মডিউলের সাথে সংযুক্ত থাকবে ভারতীয় মিনি-রোভার. দ্বিতীয় জোন্ডটি, ‘মুন-গ্লোব’কে পাঠানো হবে চাঁদের উত্তর মেরু অধ্যয়ন করার জন্য. তারপরে তাদের স্থান দখল করবে নতুন প্রজন্মের চন্দ্রযান. ঐ চন্দ্রযানের আয়তন সোভিয়েত চন্দ্রযানের অনুপাতে অনেক ছোট হবে এবং তাদের কর্মক্ষমতাও অনেক বেশি হবে. পরিকল্পনা করা হয়েছে, যে ঐসব স্বয়ংক্রিয় রোবটগুলি চাঁদের মেরু অঞ্চলে ৫ বছর পর্যন্ত কাজ করতে সক্ষম হবে ও অবতরনের জায়গা থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরত্ব পর্যন্ত কার্যকরী থাকবে.

     ‘চন্দ্রযান-৩’ চাঁদের পৃষ্ঠদেশে ২০২০ সাল থেকে কাজ শুরু করবে. ওটা চাঁদ থেকে পদার্থ সংগ্রহ করবে, এমনকি মাটির নীচে ২ মিটার গভীর থেকে পর্যন্ত. তারপরে চাঁদের মাটির নমুনা ধারক ৫-৬টি ক্যাপসুলকে প্রত্যাবর্তনকারী রকেটে তোলা হবে এবং পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনা হবে.

   চন্দ্রযানগুলি ও অবতরন ষ্টেশন হবে চাঁদের মহাজাগতিক শিবিরে প্রথম আধুনিক যন্ত্রপাতি. পরিপ্রেক্ষিতে ঐ অঞ্চলে রুশী বেসক্যাম্প স্থাপন করা হবে বলে বিজ্ঞান অ্যাকাডেমির গবেষণা কর্মসূচিতে উল্লেখ করা হয়েছে.