আন্তর্জাতিক চরম অ্যাডভেঞ্চার সংস্থার বক্তব্য অনুযায়ী দুনিয়ার ১ নম্বর অভিযাত্রী ফেওদর কোন্যুখভ ১০ই এপ্রিল জীবনে ২য় বার এভারেস্ট শৃঙ্গে আরোহনের অভিযান শুরু করেছেন. ২০ বছর আগে তিনি একবার পৃথিবীর সর্বোচ্চ পর্ব্বতশৃঙ্গ জয় করেছিলেন, এবার আরও একবার সেটা করা মনস্থ করেছেন. কোন্যুখভ বলেছেন – “আমি আরও একবার ঐ পথ অতিক্রম করতে চাই এবং যদি ঈশ্বর করেন, তাহলে শৃঙ্গের মাথায় ছোট একটা অর্থোডক্স গীর্জার ক্রস বসাতে চাই.”

  তার ৬০ বছর বয়স, কিন্তু বিশ্ববিখ্যাত সাগর, মহাসাগর, পর্বত, মরুভূমি ও মেরু অঞ্চলের বরফকে বশে আনা কোন্যুখভ থামতে চান না. এবারে তিনি রেকর্ড অর্জন করার জন্য অভিযানে রওনা দেননি, দিয়েছেন আধ্যাত্মিক লক্ষ্যসাধন করার উদ্দেশ্যে.

     পৃথিবীর উচ্চতম শৃঙ্গ জয়ের অভিযানে সামিল হয়েছে ২৫ জনের দল. তাদের মধ্যে আছে কয়েকজন গাইড, যারা একাধিক বার এভারেস্টে আরোহন করেছে. ঝুঁকি কমানোর জন্য দলটি তিনভাগে ভাগ হয়ে পর্বতারোহন করবে. ফেওদর কোন্যুখভ থাকবেন শেষ দলে, যেখানে ৬ জন তথাকথিত একক পর্বতারোহী থাকবে. রেডিও রাশিয়াকে দেওয়া সাক্ষাত্কারে অভিযাত্রী দলের নেতা আলেক্সান্দর আব্রামভ বলেছেন, যে ২০ বছর আগে প্রখ্যাত অভিযাত্রী যে এভারেস্টে আরোহন করেছিলেন, তার তুলনায় এবারের আরোহনের অনেক ফারাক. ---

    বিভিন্ন রকমের ফারাক. সেবার আরোহন করা হয়েছিল নেপালের দিক থেকে. আর এবারে আমাদের আরোহনের পথ যাবে তিব্বতের দিক থেকে. এটা এভারেস্টের দুটি বিভিন্ন দিক. যানবাহনের ব্যবস্থাও সম্পূর্ণ অন্যরকম. এবারে আমরা বিমান যোগে লাসায় পৌঁছাচ্ছি, তিব্বতের পবিত্র স্থানগুলি পরিদর্শন করবো ও ধীরে ধীরে বুনিয়াদি(প্রথম)শিবিরের দিকে এগোবো. বুনিয়াদি শিবিরে আমাদের যথেষ্ট যন্ত্রপাতি মজুত করা আছে. আমাদের ইন্টারনেটও আছে, এটাও একটা পার্থক্য. তাছাড়াও বহুসংখ্যক মালবাহী পর্বতারোহী আছে আমাদের সাথে. বলা যেতে পারে, যে এটা পুরোপুরি অন্য অভিযান ও সম্পূর্ণ অন্য পর্বত.

   আরোহনকারীরা অন্ততঃ এক সপ্তাহ তিব্বতের পথ ধরে বুনিয়াদি শিবিরের দিকে অগ্রসর হবে. সেখানে ৫১০০ মিটার উচ্চতায় তারা আবহাওয়া ও পরিবেশের সাথে মানিয়ে নেওয়ার জন্য ২ দিন কাটাবে, আর তারপরে শুরু হবে শৃঙ্গে আরোহন – ব্যাখ্যা করে বলছেন আলেক্সান্দর আব্রামভ. ---

    হিমালয়ে পর্বতারোহনের কৌশলকে করাতের দাঁতের ওপর দিয়ে যাওয়া বলে অভিহিত করা হয়. তার মানে তুমি ওপরে চড়ছো ও নীচে নামছো, তারপরে আরোহন করছো আরও বেশি উচ্চতায় – পরবর্তী শিবিরে, এবং আবার খানিকটা নীচে নামছো. মানুষের শরীরকে উচ্চতায়, অক্সিজেনের ঘাটতির পরিবেশে আস্তে আস্তে মানিয়ে নিতে দিতে হয়. পরিপূর্ণ বিশ্রামও অপরিহার্য. পর্বতে আমাদের ৬টা ওরকম শিবির থাকবে. ধীরে ধীরে আরোহন করতে করতে, সম্ভবতঃ ২ মাস বাদে আমাদের অভিযাত্রী দলের অধিকাংশ সদস্যই এভারেস্টে আরোহন করবে এবং নিরাপদে অবরোহন করবে.

  আরোহন শুরু করার আগে অভিযাত্রীরা এভারেস্টের পাদদেশে পর্বতারোহীদের সমাধিক্ষেত্রে উপস্থিত হবে. সেখানে কোনো কবর নেই, নিহতেরা যাত্রাপথেই পড়ে থাকে, যেখানে বরফধ্বস তাদের দেহ ঢেকে দিয়েছে বা তাদের শক্তি নিঃশেষ হয়ে গেছে. আর বুনিয়াদি শিবিরের কাছেই ছোট একটা ঢিবির ওপর শুধুমাত্র একটা স্মারক স্তম্ভ. ফেওদর কোন্যুখভ সেখানে প্রার্থনাসভার আয়োজন করবেন. আর অভিযানের শেষে এভারেস্ট শৃঙ্গের উপরে একটা ক্রস বসাবেন, যারা এভারেস্ট জয় করেছিল বা পৃথিবীর উচ্চতম শৃঙ্গ জয় করতে চেযেছিল, কিন্তু ব্যর্থ হয়েছে, তাদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে.