আসন্ন ভবিষ্যতে ভারতের খুবই গুরুতর সমস্যা হতে চলেছে দ্রুত গণ বার্ধক্যের হার বৃদ্ধি. এই বিষয়ে সাবধান করে দিয়েছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ভারতীয় দপ্তরের প্রধান নাতা মেনাব্দে.

    ২০২৫ সালে ভারতে ৬০ বছর ও তার চেয়ে বেশী বয়সের লোকের সংখ্যা হবে দেশের মোট জনসংখ্যার ১২- ১৩ শতাংশ, আর ২০৫০ সালে – ১৭ শতাংশ. এটা ভারতীয় অর্থনীতির জন্য বিশাল ভারে পরিণত হতে চলেছে ও প্রাথমিক ভাবে  - সামাজিক পরিষেবা ব্যবস্থার জন্য. এটা খুবই গুরুতর আর্থিক, জনসংখ্যা সংক্রান্তও এমনকি মানবিক- মূল্যবোধ সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জ, আর তাও দীর্ঘস্থায়ী, এই রকমই মনে করেছেন রাশিয়ার স্ট্র্যাটেজিক গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ বরিস ভলখোনস্কি, তিনি বলেছেন:

    “ভারতীয় সমাজে শিকড় গেড়ে বসে থাকা ঐতিহ্যের সঙ্গেই জনগণের বার্ধক্যের হার বৃদ্ধির বিষয়টির সমস্যা আরও গভীর তর হচ্ছে: এটা যেমন বহু সংখ্যক কোন রকমের বাইরের কাজ না করা মহিলাদের সংখ্যা, আর তারই সঙ্গে উত্তরাধিকার সংক্রান্ত নীতি, যখন সম্পত্তি মৃত স্বামীর কাছ থেকে তাঁর বিধবা স্ত্রীর বদলে, সংসারের পরবর্তী পুরুষের হাতে চলে যায়. তাছাড়া, যদি বিগত সময়ে বৃদ্ধদের দেখতেন বয়স্ক সন্তানরা, তবে বর্তমানে ঐতিহ্য অনুযায়ী বৃহত্ পরিবারের সংখ্যা দ্রুত কমেই আসছে – বিশেষত শহর গুলিতে”.

    বার্ধক্যের সমস্যা ভারতের ভূ রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী চিনের সামনেও খুবই তীক্ষ্ণ হয়ে দেখা দিয়েছে. বিশেষজ্ঞরা সাবধান করে দিয়েছেন যে, খুবই আসন্ন ভবিষ্যতে এই দেশ কাজের উপযুক্ত লোকের অভাবের সামনে পড়তে পারে, বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা সম্বন্ধে কিছু না বলা হলেও. আজই নির্ভরশীলতার সূচক – অর্থাত্ ১৫ বছরের কম ও ৬৪ বছরের থেকে বেশী লোকের সংখ্যা যেমন ভারতে তেমনই চিনে খুবই বেশী. ভারতে তা শতকরা ৪৮ ভাগ. চিনের আপাততঃ অবস্থা কিছুটা ভাল – শতকরা ৩৯ ভাগ. কিন্তু চিনে এই বিষয়ে আরও জটিলতার কারণ এক সন্তানের রাজনীতি, যা ১৯৭০ সালের শেষে নেওয়া হয়েছিল. তাই সময়ের সঙ্গে এই সূচক ভারতের পক্ষেই যাবে.

আশা করা হয়েছে যে, ২০৩০ সালে জন্ম হার কমানোর নীতির কারণে চিনে জনসংখ্যা বৃদ্ধি থেমে যাবে ও তার পরে তা কমতে শুরু করবে. এর ফলে জনসংখ্যা সংক্রান্ত চাপ কমবে, কিন্তু তা সামাজিক সমস্যা গুলিকে বৃদ্ধি করতে পারে: একজন প্রাপ্তবয়স্ক দুই জন অবসরপ্রাপ্ত মা বাবাকে খাওয়াতে বাধ্য হবে, নিজের ছেলেমেয়েদের কথা ছেড়ে দিলেও.

ভারতে ১৯৭০ – ১৯৮০র দশকে চেষ্টা করা হয়েছিল পরিবারে শিশুর সংখ্যা দুটিতে কমিয়ে আনতে. কিন্তু এই চেষ্টা খুবই সামান্য কিছু ব্যতিক্রম বাদ দিলে, কখনোই জোর করে করানোর চেষ্টা হয় নি আর বেশীর ভাগ ক্ষেত্রেই “হম দো, হমারে দো” মার্কা স্লোগান দিয়ে প্রচার করা হয়েছিল. ফলে ভারতে বার্ধক্য ও এরই সঙ্গে তীক্ষ্ণ হওয়া সামাজিক সমস্যা গুলি উত্পন্ন হচ্ছে দেশের জনসংখ্যার দ্রুত বৃদ্ধির সঙ্গেই. আর এটা খুবই – গুরুতর চ্যালেঞ্জ.

চিনে ও ভারতে জনসংখ্যার ঘনত্ব আজ খুবই বেশী. ভারতে তা প্রায় ৩৭০ জন মানুষ গড়ে প্রতি বর্গ কিলোমিটারে আর ২০৪০ সালে তা বেড়ে হতে চলেছে ৪৭০- ৪৮০ জন. এর ফলে দেশে শুরু হয়েছে গণ অভিবাসন, আর তা শুধু ভারতের মধ্যেই নয়, ভারত থেকে অন্যান্য দেশেও, এই বিষয়ে সাবধান করে দিয়ে বরিস ভলখোনস্কি বলেছেন:

“পশ্চিমের উন্নত দেশ গুলির এই ধরনের সমস্যার সামনে এর মধ্যেই পড়েছে. সেখানে নিজেদের জনসংখ্যা খুবই কম বৃদ্ধি পাওয়ার সঙ্গে অনেক ধরনের কাজের জন্যই শ্রমের তাগিদে অভিবাসিত লোকদের কাজে নিতে হয়েছে. আর এর ফলে একেবারেই অন্য ধরনের  - রাজনৈতিক সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে. ইউরোপের আদি অধিবাসীরা অভিবাসিত লোকদের প্লাবনে বর্তমানে দেখতে পাচ্ছেন নিজেদের ইউরোপীয় অস্তিত্বের বিপন্নতা, কাজের জায়গা নিজেদের জন্যই পাওয়া দুষ্কর হয়ে দাঁড়িয়েছে, আর এটা একই সঙ্গে জাতি ও বর্ণ বিদ্বেষের জমিতে সংঘর্ষের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, তারই সঙ্গে খুবই জনপ্রিয় হয়েছে অতি দক্ষিণ পন্থী জাতীয়তাবাদ নেওয়া দল গুলি. নিজেকে সতর্ক করা কাকের মত চিহ্নিত করতে চাই না, কিন্তু বিগত সময়ে জীবন যাত্রার উপযুক্ত জায়গার জন্যই বিপুল পরিমানে অভিবাসিত লোকেরা যুদ্ধ করেছে”.

“শ্রীমতী মেনাব্দে প্রবণতা ঠিকই উল্লেখ করেছেন, কিন্তু এই বিষয়কে শেষ অবধি বিস্তার করেন নি. যে কাজ আমি ভলখোনস্কি আমার পবিত্র কর্তব্য বলে সব সময়ে হাতে নিয়ে বসে আছি. আসলে জনসংখ্যার ক্ষেত্রে অনুপাতের ভারসাম্য হীণতা সামাজিক ভাবে জুটিয়ে দেওয়ার সমস্যার চেয়ে অনেক বেশী তীক্ষ্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে. এটা সারা বিশ্বেরই সমস্যা, যা যদি কোন উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া না হয় তবে বিশ্ব বিপর্যয়ে পরিণত হতে পারে”.