দক্ষিণ চিন সাগরে ফিলিপাইনের সামরিক নৌবহরের সবচেয়ে বড় জাহাজ চিনের সমুদ্র তীর পাহারাদার দুটি জাহাজের সঙ্গে বিরোধে যেতে বাধ্য হয়েছিল. এই বিষয়ে বুধবারে ফিলিপাইনের প্রশাসন জানিয়েছে. এই ঘটনাটি ঘটেছে যখন নৌবহরের জাহাজের নাবিকরা চিনের একটি মাছ ধরার ট্রলার দুই দেশের মধ্যে বিতর্কিত অগভীর সমুদ্র এলাকায় নোঙর ফেলতে চেয়েছিল বলে তাদের জেলেদের গ্রেপ্তার করতে গিয়েছিল. সেখানে আটটি চিনের মাছ ধরার ট্রলার রয়েছে.

ম্যানিলার উদ্বেগের কারণ হয়েছিল সেই বাস্তব, যে বিতর্কিত অঞ্চলে থাকা চিনে জেলেদের গ্রেপ্তার করার বিষয়ে বাধা দিয়েছে দুটি পর্যবেক্ষক চিনা নৌবাহিনীর জাহাজ. ফিলিপাইনের সামরিক নৌবহরের তখন বেছে নিতে হয়েছিল – হয় ঘটনা চুপচাপ দেখে যাওয়া, অথবা খোলাখুলি বিরোধে এগিয়ে যাওয়া.

ঘটনা এমন এক জায়গায় ঘটেছে, যেখানে সার্বভৌম অধিকারের প্রশ্নে চিন ও ফিলিপাইন বহু দিন ধরেই একে অপরের সঙ্গে বিরোধিতা করছে. দক্ষিণ চিন সাগরের এই পাথুরে জায়গা, যাকে স্কারবরো রিফ বলেই লোকে জানে ও যেটা প্রধান ফিলিপাইনের দ্বীপ লুসন থেকে ১২৪ সামুদ্রিক মাইল দূরে অবস্থিত এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন সামরিক ঘাঁটি সুবিক – বে থেকে খুব একটা দূরে নয়. বোঝাই যাচ্ছে যে, ম্যানিলা মোটেও বিনা কারণে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা করছে না, যাতে সেখানে মার্কিন নৌবাহিনীর পদাতিক সেনা বাহিনীকে ফিরিয়ে আনা যেতে পারে. তারা চিনকে ভয় দেখানোর জন্য অস্ত্র হতে পারে বলে মনে করে প্রাচ্য অনুসন্ধান ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ দিমিত্রি মসিয়াকভ বলেছেন:

“এই সবই এমন দিকে নিয়ে যাচ্ছে যে, দক্ষিণ- চিন সাগর আবার নতুন করে এক অগ্নিগর্ভ জায়গায় পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে. আর ফিলিপাইনের পিছনে ও ভিয়েতনামের পেছনে খুবই শীঘ্র উপস্থিত হবে, আর বাস্তবে এখনই রয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র. ফিলিপাইন ও ভিয়েতনামের প্রয়োজন পড়েছে খুবই গুরুতর সহযোগী দেশের, যারা চিনের শক্তির বিরোধ করতে সক্ষম”.

ফিলিপাইনের পররাষ্ট্র দপ্তর বুধবারে সাবধান করে দিয়েছে যে, ম্যানিলা নিজেদের সার্বভৌমত্ব এই এলাকায় রক্ষা করে চলবে. একই সময়ে পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রধান আলবের দেল রোজারিও গণ প্রজাতন্ত্রী চিনের ম্যানিলা শহরে রাষ্ট্রদূত মা কেত্সইন কে আমন্ত্রণ করে এই বিপজ্জনক পরিস্থিতি কূটনৈতিক ভাবে সমাধান করতে আহ্বান করেছেন. বিষয়টি এই রকম যে, ফিলিপাইনের নৌবহরের পতাকাবাহী জাহাজ “গিওর্গিও দেল পিলার” ও চিনের মাছ ধরা ট্রলার গুলির মাঝখানে এখনও দুটি চিনা পর্যবেক্ষক সামরিক জাহাজ দাঁড়িয়ে জেলেদের গ্রেপ্তার করতে বাধা দিচ্ছে.

এই ঘটনা ঠিক তার পরেই ঘটেছে যখন ফিলিপাইন দক্ষিণ চিন সাগরকে পশ্চিম ফিলিপাইন সমুদ্র বলে নাম দিয়েছে. একই সময়ে ম্যানিলা বেজিংকে কঠোর ভাবে সাবধান করে দিয়েছে যে, তারা তৈরী আছে নিজেদের এলাকা “অস্ত্র হাতে রক্ষা” করতে. এই চরম ঘোষণা করা হয়েছে যখন চিনা ট্রলার নিজেদের উপস্থিতি দিয়ে এই বিতর্কিত এলাকাকে নিজেদের বলে প্রমাণ করার চেষ্টা করেছে. এই গুলির উপরে নিজেদের অধিকার একই সঙ্গে ভিয়েতনাম, ব্রুনেই, তাইওয়ান ও মালয়েশিয়া বিস্তার করতে চেয়েছে.

ভিয়েতনাম ফিলিপাইনের মতই খুবই বিরক্ত বিতর্কিত এলাকায় চিনের সামুদ্রিক সক্রিয়তা বৃদ্ধির কারণে. অংশতঃ, তাদের কিছুদিন আগের স্প্র্যাটলি দ্বীপের কাছে নৃতাত্ত্বিক কাজকর্ম করা নিয়ে, যা ভিয়েতনাম মনে করে নিজেদের সার্বভৌম এলাকা বলেই. এখানে গবেষণা ও অনুসন্ধানের কাজ করতে চিনা সামরিক জাহাজ এসে ভিয়েতনামের মাছধরা ও নৃতাত্ত্বিক অনুসন্ধানের কাজে নিরত জাহাজ গুলির জন্য অসুবিধার সৃষ্টি করেছে. সীমান্ত ও এলাকা নিয়ে বিরোধ, অল্প হলেই সরাসরি সশস্ত্র যুদ্ধে পরিণত হতে চলেছিল. এই বিষয়ে সামুদ্রিক এলাকায় এই সক্রিয়তা বৃদ্ধির সঙ্গে চিন হঠাত্ করেই নিজেদের সঙ্গে ভিয়েতনামের সীমান্তে সাঁজোয়া গাড়ী, ট্যাঙ্ক ইত্যাদি এনে উপস্থিত করেছিল. বেজিং থেকে যে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছিল যে, এটা করা হচ্ছে নিয়মিত সামরিক মহড়ার অংশ হিসাবে, তা ভিয়েতনামের রাজধানী হ্যানয়ের পক্ষ থেকে এই ব্যাখ্যা গ্রহণ করা হয় নি.

পরে শীর্ষ পর্যায়ে দুই পক্ষই উত্তেজনার প্রশমন করেছিল, কিন্তু সমস্যা রয়েই গিয়েছে. কারণ চিন এর পরেই রাষ্ট্রসঙ্ঘ থেকে নিজেদের সামুদ্রিক সীমান্ত সংক্রান্ত বিশদ মানচিত্র ফিরিয়ে নিয়ে গিয়েছে. এই দলিল অনুযায়ী গণ প্রজাতন্ত্রী চিন দক্ষিণ চিন সাগরের শতকরা ৮০ ভাগ এলাকাকে নিজেদের বলে দাবী করেছে. প্রসঙ্গতঃ নিজেদের সীমান্ত তারা ভিয়েতনামের তীর থেকে মাত্র ১২ সামুদ্রিক মাইল দূরেই নির্দিষ্ট করেছে.