রাশিয়াতে প্রথম মহাকাশ বন্দর খোলা হতে চলেছে মস্কো থেকে পশ্চিমে ২০০ কিলোমিটার দূরে ইউরি গাগারিনের জন্মভূমি স্মোলেনস্ক রাজ্যে. এই মহাকাশ বন্দর, যার নাম দেওয়া হবে ঠিক করা হয়েছে “গাগারিন”, তা নিউ মেক্সিকো রাজ্যের মরুভূমিতে সৃষ্ট “আমেরিকা” নামের মহাকাশ বন্দরের মতই হবে. সেখানে মহাকাশ পর্যটকদের জন্য এক বন্দরের ব্যবস্থা করা হবে, কক্ষ পথের নীচেই উড়তে পারে এই রকমের মহাকাশ পাঠানোর উপযুক্ত বিমানের জন্য উড়ানের জায়গা ও জাদুঘর এবং নানা ধরনের আকর্ষণীয় খেলাধূলার ব্যবস্থা করা হবে, তারই সঙ্গে সেখানে করা হবে নানা ধরনের প্রদর্শনী ও বৈজ্ঞানিক সম্মেলনের ব্যবস্থাও করা হবে.

রাশিয়ার মহাকাশ স্টেশন স্মোলেনস্ক রাজ্যের গাগারিন অঞ্চলে তৈরী করা হলে তা “ইয়াউজা পার্ক” নামের পর্যটন ও আনন্দ করার জন্য তৈরী জায়গার অংশ হবে. এর জন্য ৩৫০ হেক্টর জমি এই ইয়াউজা জলাধারের কাছে বরাদ্দ করা হয়েছে. “রেডিও রাশিয়াকে” এই সম্বন্ধে খবর দিয়েছেন এই প্রকল্পের প্রধান ইউনি- পার্কস কোম্পানীর আলেকজান্ডার তারাসেভিচ, তিনি বলেছেন:

“সেখানে বিশাল জলাধার, দারুণ সুন্দর এলাকা ও তারই সঙ্গে ২০ কিলোমিটার দূরে রয়েছে ক্লুশিনো গ্রাম, যেখানে ইউরি গাগারিন জন্মেছিলেন. সেখানে অনেক জাদুঘর রয়েছে. প্রাথমিক ভাবে পরিকল্পনা করা হয়েছিল আমেরিকায় যেগুলি খুবই প্রচলিত, সেই রকমের মতই এখানে মহাকাশ পার্কে নানা ধরনের রাইড ও খেলা রাখা হবে.

“কিন্তু স্রেফ একটা রকেট দাঁড় করিয়ে রেখে কিছু মহাকাশ যাত্রার ব্যায়াম করার রাইড রাখা কে আমাদের মনে হয়েছে মোটেও আকর্ষণীয় ব্যাপার নয়, আর তাই আমরা ঠিক করেছি এই প্রকল্পের “মহাকাশ” বিষয়ে বেশী জোর দিতে. এই ভাবেই এখানে মহাকাশ বন্দর খোলার চিন্তা উদয় হয়েছিল, যেখান থেকে ধনী  পর্যটকরা বায়ুমণ্ডলের উপরের স্তরে কিছু সময়ের জন্য বেড়িয়ে এসে ভরহীণতা অনুভব করতে পারবেন”.

এছাড়া ভবিষ্যতের মহাকাশ বন্দরের থেকে ৪০ কিলোমিটার দূরে বরোদিনো নামের গ্রাম রয়েছে. আগে এখানে খুবই উল্লেখ যোগ্য ১৮১২ সালের রাশিয়া ও ফ্রান্সের মধ্যে ভাগ্য নির্ধারক যুদ্ধ নিয়ে এক জাদুঘরে প্রতি বছরে বহু ট্যুরিস্ট বাস যাত্রী নিয়ে দেখতে আসত, তাই এই কথা মনে করে আলেকজান্ডার তারাসেভিচ বলেছেন:

“ইউনিপার্কসের প্রথম থেকেই ইচ্ছা হয়েছিল যে, এই ঐতিহ্যকে আবার নতুন করে বাঁচিয়ে তুলতে হবে ও এই এলাকাকে ব্যবহার করতে হবে, যাতে লোকে একই সঙ্গে সব জায়গাতেই যেতে পারেন, তা যেমন মহাকাশের জন্য সংরক্ষিত এলাকায়, তেমনই ঐতিহাসিক ভাবে গৌরবময় জায়গাতেও. গাগারিন নিজেও খুবই ভালবাসতেন বাচ্চাদের নিয়ে বরোদিনো যেতে, আর একাধিকবার সেখানে গিয়েও ছিলেন, মনে করে গাগারিনের মেয়ে এলেনা বলেছেন”.

ইউনিপার্কস কোম্পানী পরিকল্পনা করেছে কক্ষ পথের নীচে পর্যটকদের নিয়ে বেড়াতে যাওয়ার জন্য রিচার্ড ব্রেনসনের মহাকাশ যাত্রার উপযোগী বিমান গুলিকে এখানে আনার. এই খামখেয়ালী ব্রিটিশ কোটি পতির মাথায় প্রথম মহাকাশ বন্দর তৈরী করার কথা আসে. এক আশ্চর্য রকমের সুন্দর যেন মাটি থেকে ফুঁড়ে বেরিয়েছে এমন টিলার মতো দেখতে ভবিষ্যত যুগের বাড়ী তিনি মহাকাশ বন্দর “আমেরিকার” জন্য বানাতে গিয়ে ২০ কোটি ৯০ লক্ষ ডলার খরচ করেছেন. দুই লক্ষ ডলার দামের মহাকাশ ভ্রমণের টিকিট ইতিমধ্যেই কিনেছেন প্রায় পাঁচশো লোক. গত বছরের অক্টোবর মাসে তাদের মধ্যে ১৫০ জন এই মহাকাশ বন্দর উদ্বোধনের দিনে হাজির ছিলেন. প্রথম কক্ষপথের নীচে উড়ান এই বছরের শেষ হওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে, যা করা হবে “স্পেস শীপ টু” নামের বিমানে, যেটাকে দেখতে যেন তিনটি বিমান একসাথে জোড়া দিয়ে বানানো হয়েছে. ব্রেনসনের কথামতো, তিনি ও তাঁর দুই বাচ্চা এই উড়ানের প্রথম যাত্রীদের মধ্যে থাকবেন.

সুইডেনে আরও একটি এই ধরনের মহাকাশ বন্দর তৈরী করা হচ্ছে. এই দেশের প্রথম মহাকাশ পর্যটক বেঙ্গট সডেরকিভস্ট. রিচার্ড ব্রেনসনের কোম্পানী ভার্জিন গ্যালাক্টিকের সঙ্গে এই যৌথ প্রকল্প ইউরোপের মহাকাশ বন্দর এসরাঞ্জ  থেকে ৪৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত, যেখান থেকে কৃত্রিম উপগ্রহ ও রকেট পাঠানো হয়ে থাকে.