ঠিক দুই বছর আগে – ১০ই এপ্রিল ২০১০ সাল সকালে – পোল্যান্ডের রাষ্ট্রপতির বিমান দুর্ঘটনা ঘটেছিল. টি ইউ – ১৫৪ বিমান রাশিয়ার পশ্চিম দিকের স্মোলেনস্ক শহরের কাছে ভেঙে পড়েছিল. ওয়ারশ থেকে রাশিয়াতে পোল্যান্ডের প্রতিনিধি দল আসছিল এক শোক সভায় যোগদান করতে, যা কাতীন ট্র্যাজেডির বর্ষ পূর্তি হিসাবে করা হয়েছিল.

    ৯৬ জনই মারা গিয়েছিলেন, যারা এই বিমানে উড়ে আসছিলেন তাঁদের সকলেই, - ৮৮ জন যাত্রী, যাঁদের মধ্যে ছিলেন পোল্যান্ডের রাষ্ট্রপতি লেখ কাচিনস্কি ও তাঁর স্ত্রী, আরও ৮ জন বিমান কর্মী. এই বিমানের বিপর্যয়ের কারণ হয়েছিল পাইলটদের কাজ, যা তাদের কেবিনে অন্য লোকের উপস্থিতির ফলে হয়েছিল এবং উড়ানের বিষয়ে নিরাপত্তা সংক্রান্ত ব্যবস্থা না নেওয়ার ফলে. এই রকমই শেষ অবধি সিদ্ধান্ত নিয়েছে আন্তর্রাষ্ট্রীয় বিমান পরিবহন পরিষদের প্রযুক্তি সংক্রান্ত কমিশন, যারা এই ট্র্যাজেডি নিয়ে অনুসন্ধানের কাজ করেছেন. ২০১১ সালের ১২ই জানুয়ারী এই তদন্তের রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়েছিল.

    এই দুর্ঘটনার তদন্ত করা হয়েছিল রাশিয়া ও পোল্যান্ডের প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এবং বিমানের উড়ান সংক্রান্ত নিয়মাবলী নিয়ে চিকাগো কনভেনশনের নির্দেশ কঠোর ভাবে মেনেই, যা বিশ্বের ১৯০ টি রাষ্ট্র, যাদের মধ্যে রাশিয়া ও পোল্যান্ডও রয়েছে, তারা সকলেই স্বাক্ষর করেছে. একেবারে শুরু থেকেই আন্তর্রাষ্ট্রীয় বিমান পরিবহন পরিষদ একেবারেই অভূতপূর্ব পদক্ষেপ নিয়েছিল: সমস্ত তদন্তের কাজে পোল্যান্ডের এক বিশাল বিশেষজ্ঞ প্রতিনিধি দল কাজ করেছে, যাদের সঙ্গে সঙ্গেই দুর্ঘটনা স্থলে যেতে দেওয়া হয়েছে. তারা সমস্ত বিষয়ের সঙ্গেই পরিচিত হতে পেরেছেন এবং এমনকি সেই সমস্ত দলিলও দেখেছেন, যা স্বল্প সংখ্যক লোকের জানার জন্যেই রাখা হয়. পোল্যান্ডের পক্ষকে বিমানের ব্ল্যাক বক্স দুটির সমস্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে দেওয়া হয়েছে. প্রসঙ্গতঃ পোল্যান্ডের বিশেষজ্ঞরা বিমানে উপস্থিত ব্যক্তিদের কন্ঠস্বর চিহ্নিত করেছেন, তাঁদের আগে থেকে চিনতেন বলে. এই বিপর্যয়ের তদন্তে আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরাও কাজ করেছেন.

    আন্তর্রাষ্ট্রীয় বিমান পরিবহন সংস্থা উল্লেখ করেছে যে, শুধু একটি ক্ষেত্রেই এই দুর্ঘটনা এড়ানো যেত: বাড়তি বিমান বন্দরে নামার সিদ্ধান্ত নিলে. এখানে উল্লেখ করা হয়েছে যে, উড়ানের সময়ে এই টি ইউ - ১৫৪ বিমানের চালকরা একাধিকবার খবর পেয়েছিলেন আবহাওয়ার পূর্বাভাস নিয়ে ও তা পাঠানো হয়েছিল স্মোলেনস্ক বিমান বন্দর, সেখানে তার কিছু আগে নামা পোল্যান্ড থেকে আসা ইয়াক – ৪০ বিমানের চালকদের কাছ থেকে আর বেলোরাশিয়ার বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণ দপ্তর থেকে. এই সব স্বত্ত্বেও, এই টি ইউ – ১৫৪ বিমানের চালকরা আলাদা বিমান বন্দরে নামার সিদ্ধান্ত নেন নি.

    বিশেষজ্ঞদের এবং বিমান সংক্রান্ত মনস্তাত্বিকদের মতে, যাদের মধ্যে পোল্যান্ডের লোকরাও রয়েছেন, চালকদের এই ধরনের ঝুঁকি পূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার পিছনে একটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কারণ ছিল, তাঁদের কেবিনে উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মচারীর উপস্থিতি. অংশতঃ, পোল্যান্ডের বিমান বাহিনীর প্রধান ও প্রোটোকল দপ্তরের প্রধানের উপস্থিতি. এই বিমানের কম্যান্ডারও আগে থেকেই অনুমান করেছিলেন যে, তিনি বিমান স্মোলেনস্ক বিমান বন্দরে নামাতে না পারলে প্রধান যাত্রী – রাষ্ট্রপতির প্রতিক্রিয়া হবে নেতিবাচক. এই সবই মানসিক চাপ সৃষ্টি করেছিল চালকদের মধ্যে ও তার ফলে যে কোন পরিস্থিতিতেই স্মোলেনস্ক বিমান বন্দরে নামার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল.

    প্রযুক্তি তদন্ত পরিষদ সিদ্ধান্ত করেছে: বিমান এই যাত্রার আগে ওয়ারশ থেকে একদম ঠিক অবস্থাতেই উড়েছিল. উড়ান চলা কালীণ এঞ্জিনের গণ্ডগোল, বিমানে আগুন লাগা, কোন বিস্ফোরণ হওয়া, এই সব কিছু ঘটে নি. মাটিতে আছড়ে পড়েই বিমান ধ্বংস হয়েছে. কিন্তু এই বিমানের চালকদের ওড়ার অভিজ্ঞতা একেবারেই বেশী ছিল না. এর প্রধান চালক, তার বাকী সহকর্মীদেরই মতই একা ওড়ার খুব কম অভিজ্ঞতাই পেয়েছিলেন. আন্তর্রাষ্ট্রীয় বিমান পরিবহন পরিষদের ও আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের সিদ্ধান্ত একটিই অর্থ বহন করে: স্মোলেনস্ক বিমান বন্দরের কোন অক্ষমতাই, এই বিমান দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে না. অস্বাভাবিক পরিস্থিতি শুরু হয়েছিল আকাশেই, মাটিতে নয়.

    এই বিমান ভেঙে পড়ার অব্যবহিত পরেই এই জায়গায় পোল্যান্ড ও রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রীরা ডোন্যাল্ড টুস্ক ও ভ্লাদিমির পুতিন এসেছিলেন. রাশিয়ার প্রশাসনের প্রধান এই ট্র্যাজেডি শুধু পোল্যান্ডেরই নয়, রাশিয়ার জন্যও বটে বলে উল্লেখ করেছিলেন. আর রাষ্ট্রপতি দিমিত্রি মেদভেদেভ একটি শক পেয়েছিলেন, যখন এই দুর্ঘটনার খবর জানতে পেরেছিলেন. রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি লেখ কাচিনস্কি ও তাঁর স্ত্রী মারিয়ার শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পোল্যান্ডে গিয়েছিলেন – এটা পোল্যান্ডের সমাজে লক্ষ্য করা হয়েছিল, কারণ তখন ইউরোপ ও আমেরিকার খুব কম রাষ্ট্র প্রধানই এই ক্র্যাকভ শহরের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পেরেছিলেন: সেই সময়ে বিশ্বের আকাশ জুড়ে উড়ান খুব একটা নিরাপদ ছিল না আইসল্যান্ডের আগ্নেয় গিরির থেকে ধূম উদ্গীরণের কারণে.