মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সিঙ্গাপুরকে চিনের বিরুদ্ধে সামরিক জোটে টেনেছে. এই ভাবেই ভূ- রাজনৈতিক সমস্যা গবেষণা একাডেমীর সভাপতি লিওনিদ ইভাশভ সিঙ্গাপুরে চারটি মার্কিন যুদ্ধ জাহাজ রাখা নিয়ে চুক্তি সম্বন্ধে মন্তব্য করেছেন. এই জাহাজ গুলি বিশেষ করে তৈরী করা হয়েছে সমুদ্র তীরবর্তী এলাকায় অপারেশন করার উপযুক্ত করে ও সেগুলি এখানে থাকবে বদলী হিসাবে. প্রথম এই ধরনের জাহাজ অঞ্চলে আসবে এই বছরের শেষের আগেই.

পেন্টাগনের সরকারি প্রতিনিধি লেসলি হাল- রাইড সিঙ্গাপুরের সঙ্গে এই সমঝোতাকে “অভূতপূর্ব” নাম দিয়েছেন. আর রাশিয়ার বিশ্লেষক লিওনিদ ইভাশভ এটাকে এশিয়াতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধির নতুন পদক্ষেপ ও চিনের ক্রমবর্ধমান সামরিক- রাজনৈতিক প্রভাবের বিরুদ্ধে ভার বাড়ানো. তিনি এই প্রসঙ্গে বলেছেন:

“সিঙ্গাপুরে উপস্থিতি বৃদ্ধি করা – চিনের বিরুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বিরুদ্ধাচরণের একটি উপকরণ মাত্র. আমেরিকার লোকরা আজ চিনের এলাকার কাছে নিজেদের সামরিক শক্তি জড়ো করছে, আপাততঃ জায়গা দখল করছে – সিঙ্গাপুরে, এর আগে অস্ট্রেলিয়াতে করেছে, সব মিলিয়ে এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকাতে শক্তি বৃদ্ধিই করছে. চিনও নিজের সামরিক শক্তি বৃদ্ধি করছে, বিশেষ করে সেই সমস্ত বিষয়ে, যা মহা সমুদ্র এলাকায় কাজ করতে পারে. ভূ- রাজনৈতিক যুদ্ধ দুটি শক্তি কেন্দ্রের মধ্যে নীতিগত ভাবে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের মুখে এনে ফেলতে পারে. এটা মোটেও এই রকমের নয় যে, চিন ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি একে অপরের সঙ্গে যুদ্ধ করবে. কিন্তু তারা আজই অন্যের এলাকায় লড়াই করছে. এটা লিবিয়ার ঘটনা দেখিয়েছে. গাদ্দাফি প্রশাসনের ধ্বংস প্রাথমিক ভাবে আফ্রিকাতে চিনের উপস্থিতিকে খুবই গুরুতর ভাবে কমিয়ে দিয়েছে”.

জানুয়ারী মাসের শেষে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে এই বিষয়ে চুক্তি করেছে যে, তাদের বাহিনী আগামী ছয় বছরের মধ্যে প্রায় তের গুণ বেড়ে যাবে এই দেশে – আড়াই হাজার সেনা সেখানে মোতায়েন করা হবে. আমেরিকার নৌ পদাতিক সেনা বাহিনীর জন্য উত্তর অস্ট্রেলিয়ার ডারউইনে “টিন্ডাল” বিমান ঘাঁটি দিয়ে দেওয়া হবে, যেখানে রাখা হবে স্ট্র্যাটেজিক বোমারু বিমান, যুদ্ধ বিমান ও উড়ান কালীণ সময়ে জ্বালানী ভরার উপযুক্ত বিমান.

এখানে তৈরী করা হচ্ছে চিনের প্রভাব আটকানোর জন্য একটি আঞ্চলিক আক্রমণের উত্স. কারণ এই সামরিক ঘাঁটি চিনের সর্বাধুনিক ব্যালিস্টিক রকেটের আওতার বাইরে থাকবে. একই সময়ে তা ব্যবস্থা করে দেবে দক্ষিণ চিন সাগরে জাহাজ চলাচলের উপরে নিয়ন্ত্রণ করার. সেখানে চিন ও তার প্রতিবেশী দেশ গুলির মধ্যে আঞ্চলিক সীমানা নিয়ে বিতর্ক বেড়েই চলেছে – ভিয়েতনাম ও ফিলিপাইনের সাথে, মালয়েশিয়া ও ব্রুনেই এর সঙ্গে স্প্র্যাটলি ও প্যারাসেল দ্বীপ পুঞ্জের উপরে অধিকারের প্রশ্নে. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নিজের পক্ষ থেকে মনে করেছে যে, এই এলাকা নিজেদের জন্য স্ট্র্যাটেজিক ভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ তার মধ্যে দিয়ে বাণিজ্য তরণী চলাচল করে ও তার মধ্যে খনিজ তেল সমেত ট্যাঙ্কারও রয়েছে.

ছোট দেশ গুলি নিজেদের পক্ষ থেকে, চেষ্টা করেছে দক্ষিণ চিন সাগরে চিনের সঙ্গে আঞ্চলিক সীমানা নিয়ে বিতর্কে একটা ভারসাম্যে পৌঁছতে. এর জন্য তারা তৈরী আছে নিজেদের এলাকায় মার্কিন সামরিক বাহিনীকে ঢুকতে দিতে. প্রথমে এই কাজ করতে চেয়েছে ফিলিপাইন. কুড়ি বছর আগে তারাই খুব তীক্ষ্ণ ভাবে পেন্টাগনের প্রশান্ত মহাসাগরের বৃহত্তম সামরিক ঘাঁটি সুবিক- বে ছেড়ে চলে যেতে বলেছিল. এখন তারাই আবার সেখানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর ঘাঁটি ফিলিপাইন দেশে স্থায়ী ভাবে করতে দেওয়া যায় কিনা তা নিয়ে ভাবছে. “ওয়াশিংটন পোস্ট” সংবাদপত্র স্বীকার করেছে যে, এটা চিনকে আটকে রাখার জন্য একটা “স্ট্র্যাটেজিক” পদক্ষেপ. এই প্রসঙ্গে কাগজ মনে করিয়ে দিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সঙ্গে ভিয়েতনামের যোগাযোগ সক্রিয় হওয়া নিয়ে. এই কথা সত্য যে, এখনও পেন্টাগন বা মার্কিন কংগ্রেসে ভিয়েতনামে মার্কিন ঘাঁটি তৈরী করার সম্ভাবনা নিয়ে কোন আলোচনা করা হচ্ছে না.

এই সময়ের মধ্যেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র খুবই পেশাদার ভাবে ভারতের চিনের ক্রমবর্ধমান সামরিক ক্ষমতা বৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগকে ব্যবহার করছে ও তাদেরকেও সক্রিয় জোটে টেনে আনার চেষ্টা করছে. এর সমর্থনে একটি প্রমাণ – বঙ্গোপসাগরে “মালাবার – ২০১২” যৌথ নৌবাহিনীর মহড়া. দুই দেশের সামরিক নৌবহর শত্রু পক্ষের যুদ্ধ জাহাজের দলের উপরে আগাত হানার প্রশিক্ষণ করছে ও সমুদ্র তীরের লক্ষ্যতেও অগ্নি বর্ষণ করছে, সামুদ্রিক শত্রু অনুসন্ধান করা সঙ্গে মহড়া হচ্ছে ডুবোজাহাজ ও বিমান বাহী যুদ্ধ জাহাজের উপরেও আক্রমণ করার প্রশিক্ষণ. সম্ভাব্য শত্রু হিসাবে চিনের উপরে ইঙ্গিত এখানে স্পষ্ট করেই দেখতে পাওয়া যাচ্ছে.