কিম চেন ঈন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে রকেট প্রতিরোধ ব্যবস্থা তৈরীতে সাহায্য করছেন, যার লক্ষ্য চিন ও রাশিয়াকে আটকে রাখা. অন্তত, এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ে উত্তর কোরিয়ার তরফ থেকে মহাকাশে উপগ্রহ পাঠানোর পরিকল্পনা ও পারমানবিক পরিকল্পনা, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তরফ থেকে খুবই সক্রিয়ভাবে ব্যবহার করা হয়েছে এশিয়াতে রকেট বিরোধী ব্যবস্থা পত্তনের ভিত্তি হিসাবে. জাপান ইতিমধ্যেই নিজেদের এলাকায় এই ব্যবস্থার কিছু অংশ স্থাপন করে ফেলেছে আর তৈরী হয়েছে এবারে তা কাজের ক্ষেত্রে পরীক্ষা করে দেখতে. আপাততঃ – উত্তর কোরিয়ার ব্যালিস্টিক রকেটের বিরুদ্ধে, যা তারা ব্যবহার করতে চেয়েছে মহাকাশে কৃত্রিম উপগ্রহ প্রেরণের জন্য.

    এই জন্য ইতিমধ্যেই খুলে ধরা হয়েছে ও যুদ্ধকালীণ প্রস্তুতি করা হয়েছে সাতটি “প্যাট্রিয়ট” রকেটের ব্যবস্থা. তার মধ্যে চারটি রয়েছে দক্ষিণের দ্বীপ – ওকিনাওয়া, মিয়াকো ও ইসিগাকি দ্বীপে. আরও তিনটি রয়েছে টোকিও শহরে. একই সঙ্গে কৃত্রিম উপগ্রহের উড়ান ও কক্ষপথে পরিক্রমা লক্ষ্য করার জন্য তিনটি জাপানী ও একটি মার্কিন যুদ্ধ জাহাজ পূর্ব চিন সমুদ্রে হাজির হয়েছে. এর সব গুলিই সর্বাধুনিক “ইঝিস” ব্যবস্থা দিয়ে সজ্জিত, যা এই রকেট বিরোধী ব্যবস্থার অংশ.

    মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ব জোড়া রকেট প্রতিরোধ ব্যবস্থার এশিয়ার অংশ মনে করিয়ে দেয় এক প্রকাণ্ড কাঁকড়ার দাঁড়ার কথা. আমেরিকার সামরিক বাহিনীর লোকরা পরিকল্পনা করেছে বাহরিন, কুয়েইত, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমীরশাহীতে এই ধরনের রকেট ও রাডার লাগানোর জন্য. পূর্ব দিকের এই ব্যবস্থার অগ্রবর্তী ঘাঁটি হবে জাপান. সরকারি ভাবে এই ধরনের রকেট বিরোধী ব্যবস্থা তৈরী করা ব্যাখ্যা করা হয়েছে তেহরানের দিক থেকে রকেট হামলা আটকানোর জন্য. তারই মধ্যে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে যে, এটা শুধু একটা ছুতো – আসলে ইরানের না আছে আন্তর্মহাদেশীয় ব্যালিস্টিক রকেট, না আছে পারমানবিক বোমা. আমেরিকার রকেট বিরোধী অস্ত্র গুলির জন্য সত্যিকারের লক্ষ্য হতে পারে শুধু চিন ও রাশিয়ার রকেট.

    কয়েকদিন আগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর বিশ্ব স্ট্র্যাটেজিক কাজকর্মের বিষয়ে সহকারী ম্যাডলেন ক্রিডন জোর দিয়ে বলেছেন যে, এশিয়াতে "কাঁকড়ার দাঁড়া" তৈরী করা – এটার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়ে গিয়েছে. এশিয়ার রকেট প্রতিরোধ ব্যবস্থার অগ্রবর্তী অংশ গুলি বসানোর কথা হয়েছে জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও অস্ট্রেলিয়াতে.

    মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে নিজেদের এশিয়ার রকেট বিরোধী ব্যবস্থা নিয়ে ঘোষণা করার জন্য যে সময় বাছাই করা হয়েছে, তার থেকে ভাল আর কিছু হতে পারে না – পিয়ংইয়ং এর তরফ থেকে কৃত্রিম উপগ্রহ সমেত ব্যালিস্টিক মিসাইল উড়ানের একেবারে ঠিক আগে. এটা খুবই ভাল ছুতো হয়েছে ওয়াশিংটনের জন্য, যাতে নিজেদের কাঁকড়ার দাঁড়ায় ভাল করে শান দিয়ে নেওয়া যায়, জাপান থেকে শুরু করেই, অর্থাত্ চিনের একেবারেই কাছে.

    বেজিং ইতিমধ্যেই একাধিকবার ঘোষণা করেছে যে, এই অঞ্চলে সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধি করা নিয়ে ওয়াশিংটনের পরিকল্পনা এশিয়াতে স্থিতিশীলতা রক্ষা নিয়ে সামগ্রিক লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের বিরোধী. এই প্রসঙ্গে চিনের কাছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যুক্তি গ্রহণ যোগ্য নয়, যে, রকেট বিরোধী ব্যবস্থা তাদের প্রয়োজন শুধু জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়াকে উত্তর কোরিয়ার আক্রমণ থেকে রক্ষা করার জন্যই. আপাততঃ বেজিংয়ের প্রতিক্রিয়া যথেষ্ট ধৈর্য নিয়েই করা হয়েছে, এই কথা উল্লেখ করে সামরিক বিশ্লেষক ইগর করোতচেঙ্কো বলেছেন:

    “চিন কোন আচমকা গতিপথ বদল করবে না. তা স্বত্ত্বেও, তাদের সামরিক – রাজনৈতিক নেতৃত্ব, সন্দেহ নেই যে, এর থেকে প্রয়োজনীয় শিক্ষা নেবে. বাস্তব ক্ষেত্রে এর উত্তর হবে চিনের স্ট্র্যাটেজিক পারমানবিক শক্তির চলমান অংশ গুলির উপরে জোর দেওয়া. বোঝাই যাচ্ছে যে, এর পরে তারা নিজেদের স্ট্র্যাটেজিক পারমানবিক শক্তির বিষয়ে বেশী নমনীয়তার কথা ভাববে, যা তৈরী হবে চলমান রকেট ব্যবস্থার উপরে ভিত্তি করে. এটাই হবে সেই অসমান উত্তর, যাতে বেজিংকে বাধ্য করা হচ্ছে, নিজেদের দেশের সীমান্তের কাছে আমেরিকা ও জাপানের রকেট বিরোধী ব্যবস্থার উত্পত্তি দিয়ে”.

0    বিশেষজ্ঞরা বাদ দেন নি যে, বেজিং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উপরে চিরাচরিত চাপ দেওয়ার বিষয় গুলিকে যুদ্ধকালীণ প্রস্তুতির মধ্যে নিয়ে আসবে. চিন বিশ্বে সবচেয়ে বড় আমেরিকার ঋণপত্র ও ডলার ভাণ্ডারের মালিক, আর তাই তারা পারে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের বন্দোবস্ত করে দিতে. তাছাড়া, চিন নিজেদের সহযোগীদের হাত দিয়েও ব্যবস্থা নিতে পারে – যেমন ভেনেজুয়েলা, ইরান অথবা পাকিস্তানকে দিয়ে, যা ওয়াশিংটনের জন্য বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় বহু ভূ-রাজনৈতিক সমস্যার সৃষ্টি করিয়ে দিতে পারে.