নয় বছর আগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও গ্রেট ব্রিটেনের সেনা বাহিনী ইরাকের রাজধানীতে অনুপ্রবেশ করেছিল. প্রথম কাজ যা তারা করেছিল – ভীড়ের সহর্ষ উল্লাসের মধ্যে (যদিও তা বিশাল কোন জন সমাবেশে নয়) সাদ্দাম হুসেইনের মূর্তি ভেঙে মাটিতে ফেলে দিয়েছিল.

    জোটের একটা লক্ষ্য ছিল, সেই দেশে প্রশাসনকে বদলে দেওয়া, যারা রাষ্ট্রসঙ্ঘের অনুমতি ছাড়াই এই দেশে ঢুকেছিল, স্রেফ গণ হত্যার অস্ত্রের খোঁজে এসেছে বলে. প্রসঙ্গতঃ, তা শেষ অবধি খুঁজেও পাওয়া যায় নি. শুধু সাদ্দাম হুসেইনকে খুঁজে পাওয়া গিয়েছিল ও তাঁকে ফাঁসি দিয়ে হত্যা করা হয়েছিল.

    গণতন্ত্র, যা ইরাকে নিয়ে আসা হয়েছিল বেয়নেটের ডগায়, তা প্রতিটি ইরাকী পরিবারে খুবই বেদনা দায়ক ভাবে আঘাত করেছিল, এই বিষয়ে দৃঢ় অভিমত প্রকাশ করে প্রাচ্য অনুসন্ধান ইনস্টিটিউটের সভাপতি ইভগেনি সাতানোভস্কি বলেছেন:

    “সরকারি তথ্য অনুযায়ী যে প্রাণ অকাল বিনষ্ট হয়েছে বলে জানানো হয়েছে, তা লক্ষাধিক. আঞ্চলিক মানবাধিকার রক্ষা কর্মীদের বেসরকারি তথ্য অনুযায়ী – দশ লক্ষেরও বেশী. উদ্বাস্তু ও গৃহহীণ লোকের সংখ্যা প্রায় পঞ্চান্ন লক্ষেরও বেশী. তাঁদের মধ্যে প্রায় বিশ লক্ষ থাকেন সিরিয়াতে, প্রায় দশ লক্ষ রয়েছেন – জর্ডনে. তাঁরা রাষ্ট্রসঙ্ঘের কাছ থেকে উদ্বাস্তু স্বীকৃতী পান নি ও একেবারেই নিঃসহায়”.

    আমেরিকার লোকরা সাদ্দাম হুসেইনের জন্য খারাপ কাজ করেছে, কিন্তু তার থেকেও অনেক বেশী খারাপ কাজ করেছে – ইরাকী জনগনের জন্য, এই কথাই ব্যক্ত করে রাজনৈতিক ও সামরিক বিশ্লেষণ ইনস্টিটিউটের ভাইস ডিরেক্টর আলেকজান্ডার খ্রামচিখিন বলেছেন:

    “ইরাকে এখনও গৃহযুদ্ধ লাগে নি, কিন্তু তা যে কোন সময়েই শুর হতে পারে. দেশ ঐক্যবদ্ধ রয়েছে, অনেকটাই জাড্যের ফলে. কুর্দিস্থান বাস্তবে ইতিমধ্যেই স্বাধীন হয়েছে, শিয়া ও সুন্নী মুসলমানদের মধ্যে রয়েছে চরম উত্তেজনা”.

    ইরাকের প্রশাসনের শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে বদল ঘটানো আরব বসন্তের পূর্ব সঙ্কেত হয়েছিল, যা আজ উত্তর আফ্রিকা ও নিকট প্রাচ্যে ঘটছে. সমস্ত জায়গাতেই তা শুরু করা হয়েছে স্বৈরতন্ত্রী নায়কের পতনের উদ্দেশ্য নিয়ে. তারই মধ্যে ভূ- রাজনৈতিক ভাবে ইরাকের মতই এই সমস্ত একাধিক দশক ধরে প্রশাসনের শীর্ষে থাকা এক নায়কদের পতনের ফলে যা হয়েছে তা খুবই শোকাবহ. স্ট্র্যাটেজিক মূল্যায়ণ ও বিশ্লেষণ ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ সের্গেই দেমিদেঙ্কো এই প্রসঙ্গে বলেছেন:

    “এই ধরনের ব্যক্তি কেন্দ্রিক প্রশাসনের পতনের ফলে না এসেছে স্থিতিশীলতা, না হয়েছে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা কায়েম, এটা সমগ্র উত্তর আফ্রিকা ও নিকট প্রাচ্যেই দেখতে পাওয়া যাচ্ছে. সমস্ত এলাকা জুড়েই শুরু হয়েছে মাত্স্যন্যায় আর অস্থিতিশীলতা”.

    ইয়েমেন চোখের সামনেই ভেঙে পড়ছে, লিবিয়াতে – সরকার এখন হাতে রেখেছে জঙ্গী কম্যান্ডার ও প্রজাতির নেতৃত্ব, তাদের পারস্পরিক বিরোধ আরও বেশী করে মনে করিয়ে দিচ্ছে গৃহযুদ্ধ. মুহম্মর গাদ্দাফিকে খুন করার পরে নিরীহ জনগনের মধ্যে নিহতদের সংখ্যা এর মধ্যেই তাঁর পক্ষ ও বিপক্ষের মধ্যে লড়াইয়ের সময়ের চেয়ে বেশী হয়েছে. এই সবই – পশ্চিমের তরফ থেকে আঞ্চলিক সমস্যা বোমা মেরে সমাধানের চেষ্টার ফল. ইরাক পশ্চিমের জন্য এই ক্ষেত্রে শুধু ছিল “শক্তি পরীক্ষার স্থল”.