সাইবার অপরাধের বিষয়ে সামগ্রিক ভাবে শক্তি প্রয়োগ না করলে ইন্টারনেট হবে বিশ্ব জোড়া এক ভারসাম্য নষ্ট করে দেওয়ার মতো শক্তি. তাই ইউরোপীয় সঙ্ঘের পক্ষ থেকে সাইবার অপরাধ সংক্রান্ত কেন্দ্র সৃষ্টির ঘোষণা শুধু স্বাগতম জানানোই যেতে পারে বলে মনে করেছেন বিশেষজ্ঞরা. কিন্তু এই সমস্যা সমাধানের জন্য প্রয়োজন পড়বে সমস্ত দেশের সক্রিয় সহযোগ. রাশিয়ার পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই নির্দিষ্ট প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, তা রাষ্ট্রসঙ্ঘের একটি কনভেনশনের খসড়াতে প্রস্তাব করা হয়েছে.

২০১৩ সালের শেষে সবচেয়ে ভাল তথ্য প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা ইউরোপীয় কেন্দ্রের কাঠামোতে হ্যাকারদের সঙ্গে লড়াই করার জন্য একত্রিত হবে. এর পরে আর দেরী করা যাবে না, বলে উল্লেখ করেছে ইউরোপের প্রশাসন. ব্রুসেলসের তথ্য অনুযায়ী, প্রতি দিনই হ্যাকারদের আক্রমণের শিকার হচ্ছেন বিশ্বের ইন্টারনেটে প্রায় দশ লক্ষ গ্রাহক. এই ক্ষেত্রে ইউরোপ সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে ও তা যে রকম এই সব আক্রমণের “শিকার” হিসাবে, তেমনই উত্স হিসাবেও. ইউরোপের গ্রাহকদের কম্পিউটার থেকেই বহু ব্যাঙ্কের অ্যাকাউন্ট ও সরকারি দপ্তরের সাইট আক্রান্ত হচ্ছে. এই ধরনের সাইবার অপরাধের প্রসার বিশাল, আর এটা শুধু সেই অর্থে চিরাচরিত আক্রমণই নয়, এই কথা উল্লেখ করে প্রতিদ্বন্দ্বিতা মূলক গুপ্তচর বৃত্তি সংক্রান্ত বিষয়ে বিশেষজ্ঞ আন্দ্রেই মাসালোভিচ বলেছেন:

“গত দুই বছরের ঘটনা অন্য রকম ভাবে ইন্টারনেটের দিকে দেখতে বাধ্য করে. আরব বসন্ত শুরু হওয়া থেকে ও বর্তমানের সিরিয়ার পরিস্থিতি ও ঘটনার ক্ষেত্রে, সকলেই দেখতে পেয়েছে যে, বেশীর ভাগ ঘটনারই উত্স ও পরিচালনা করা হয়েছে ইন্টারনেটের মাধ্যমে. এমনকি এই সব ঘটনার আয়োজকরাই আগে ধারণা করতে পারেন নি, যে, এখন এই ধরনের ব্যাপার কতটা কার্যকরী. তাছাড়া, বড় কর্পোরেশন গুলি টের পেয়েছে যে, ইন্টারনেটে ব্লগ লেখা দিয়ে ভাবমূর্তি যত সহজে নষ্ট করা সম্ভব হয়, তা অপপ্রচারের চেয়েও বেশী শক্তিশালী. তাই সঙ্গে হ্যাকারদের ক্ষেত্র বর্তমানে সমস্ত রকমের চোর ও ঠগে ভরে গিয়েছে”.

হ্যাকারদের থেকে বিপদকে বিশেষজ্ঞরা সব মিলিয়ে তিনটি ভাগে ভাগ করে থাকেন. এটা আলাদা করে লোক অথবা ছোট দল, যারা নানা ধরনের আর্থিক জুয়াচুরি করে থাকে, তাদের সঙ্গে বেশ ফলপ্রসূ ভাবেই লড়াই করা সম্ভব. দ্বিতীয় দল – যেমন মাঝারি মাপের দল, কিছুটা অ্যানোনিমাস ধরনের, যাদের কাজ কর্ম বেশীর ভাগই লোক দেখানোর জন্য. যেমন, সারা বিশ্বের ইন্টারনেট ব্যবস্থাকে ভেঙে দেওয়ার হুমকি, কারণ আমেরিকায় পাইরেসী বিরুদ্ধ আইন নেওয়া হচ্ছে বলে. তৃতীয় দল – হ্যাকার ও ইন্টারনেটে সন্ত্রাসবাদী. বর্তমানে এটা বিশ্বের নিরাপত্তার একটি সবচেয়ে বড় হুমকি, এই কথা মনে করে বিশেষজ্ঞ আলেকজান্ডার ভ্লাসভ বলেছেন:

“এগুলি গোপন সব দল, যারা শক্তি পরিবহন ব্যবস্থা, জল সরবরাহ ব্যবস্থা ইত্যাদিতে অনুপ্রবেশ করে, সেখানে বিপর্যয় ঘটাতে পারে. আর যদি নেদারল্যান্ডসে, সেখানের বাঁধ ব্যবস্থা বেহাল করে দেওয়া হয়, তবে দেশের অর্ধেকই জলের তলায় ধুয়ে তলিয়ে যাবে”.

 এখন অবধি হ্যাকারদের সঙ্গে লড়াই করা হয়েছে হয় জাতীয় অথবা দ্বিপাক্ষিক ব্যবস্থার মাধ্যমে. বিশেষজ্ঞরা বর্তমানে অনেক উদ্যোগ নিয়ে কথা বলছেন, যা বিশ্বের বিভিন্ন দেশের গুপ্তচর বিভাগে নেওয়া হয়েছে, তার মধ্যে গ্রেট ব্রিটেন ও জার্মানীও রয়েছে. ন্যাটো জোটের তরফ থেকে হ্যাকারদের কাজকর্মের বিরুদ্ধে দুটি প্রকল্প ইতিমধ্যেই নেওয়া হয়েছে. ব্রুসেলস আপাততঃ শুধু নির্দেশ দিয়েই খালাস, তা যদি ভাল হয়, তাহলেও শুধু বাক্য ব্যয়. এখন ইউরোপের কাঠামোর মধ্যে এই ধরনের কেন্দ্র তৈরী নিয়ে আলোচনা করছে ২৭টি সদস্য দেশ. নতুন দপ্তরে প্রায় ৫৫ জন বিশেষজ্ঞ কাজ করতে চলেছেন, যাঁদের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে বছরে পঁয়ত্রিশ লক্ষ ইউরো.

বিশেষজ্ঞরা এই নতুন বিশেষ সংস্থার ক্ষমতা নিয়ে খুবই আশা করছেন, কিন্তু তাঁরাই নির্দেশ করছেন: আজ বিশ্বের পর্যায়ে কাজ করা দরকার. অংশতঃ এই সম্বন্ধে রাশিয়ার পক্ষ থেকে রাষ্ট্রসঙ্ঘের কনভেনশনের করা খসড়া প্রস্তাবে বলা হয়েছে. রাশিয়ার পররাষ্ট্র দপ্তর থেকে ও রাশিয়ার নিরাপত্তা পরিষদে প্রস্তুত করা দলিলে প্রস্তাব করা হয়েছে সাইবার অপরাধের ক্ষেত্রে কোন রকমের ভাগাভাগি না করা নিরাপত্তা নীতি নিয়ে, এই কথা উল্লেখ করে আন্দ্রেই মাসালোভিচ বলেছেন:

“আমার রাশিয়ার পক্ষ থেকে সক্রিয়তাকে পছন্দ হয়েছে, খুবই স্পষ্ট লক্ষ্য ও নির্দেশ করা হয়েছে, বিপদ গুলিরও বোধগম্য ভাবে উল্লেখ করা হয়েছে আর সেই গুলির মোকাবিলা করার জন্যও বোধগম্য পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে. অর্থাত্ আমরা খুবই শীঘ্র সঠিক দিকে এগিয়ে যেতে পারবো”.

এখানে যোগ করব, যে, ব্রুসেলসের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ইন্টারনেটে সক্রিয়ভাবে প্রায় দেড় লক্ষ বিভিন্ন ধরনের কম্পিউটার ভাইরাস ছড়ানো হচ্ছে. আর ইউরোপীয় ব্যবসার ক্ষেত্রে সাইবার অপরাধের জন্য ক্ষতির পরিমান হয়েছে ৩০ হাজার কোটি ইউরো.