রাশিয়ার রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য সংশোধিত নতুন আইন চলতি সপ্তাহ থেকে কার্যকর হবে। দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এ প্রচেষ্টা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। এখন থেকে সামাজিক ও অন্যান্য যৌথ সংগঠনগুলো রাজনৈতিক দল হিসেবে খুব সহজেই নিবন্ধন করতে পারবে। তৈরী হওয়া নতুন আইন অনুমোদনের সময় রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি দিমিত্রি মেদভেদেভ উল্লেখ করেছেন যে, পার্টি তৈরীর ক্ষেত্রে নিজেদের উদ্দেশ্যকে প্রধান না রেখে বরং দেশের নাগরিকদের মঙ্গল নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করতে হবে।

মেদভেদেভ বলেছেন,  ‘যে কোন রাজনৈতিক পদ্ধতিতে প্রতিটি মানুষকে প্রথম যে বিষয়টি চিন্তা করতে হবে তা হল একটি বিশেষ শ্রেনীর দলে কিছু লোকজন আছেন যাদের সুনির্দিষ্ট চাওয়া পাওয়া থাকে। আমি মনে করি আমাদের উচিত হবে যুগোপযোগী পথ অবলম্বন করা, যে পথে পরো বিশ্ব এগিয়ে চলছে। অধিকাংশ দেশে পার্টির নিবন্ধনের জন্য সর্বনিম্ন সদস্য থাকার বিষয়টি বিবেচনা করা হয়ে থাকে। আমি আনন্দিত এই ভেবে যে, ফেডারেল অধিবেশণে আমার প্রস্তাবকে সবাই সমর্থন জানিয়েছে।

এখন থেকে ৬০ এর অধিক সংগঠনগুলো যারা ইতিমধ্যে পার্টির নিবন্ধনের জন্য বিচার মন্ত্রনালয়ে আবেদনপত্র জমা দিয়েছে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে পার্টির মর্যাদা  পাবে। অন্যদিকে রাষ্ট্র বিজ্ঞানীরা একই সাথে অন্য একটি প্রবণতা লক্ষ্য করেছেন। বিশেষকরে পার্টির গঠন প্রক্রিয়ায় হয়ত বা অনেকের ইচ্ছা নেই। সে ক্ষেত্রে ভ্লাদিমীর পুতিনের সমর্থন পাওয়া ‘অল রাশিয়া পিপলস্ ফন্ট’ সংগঠনের কোন বৈধ অস্তিত্ব নেই। যদিও গত সপ্তাহে ‘অল রাশিয়া পিপলস্ ফন্ট’ কর্মীদের সাথে সাক্ষাত্কারে পুতিন জানিয়েছেন, এ সংগঠন হয়ত বা সামাজিক সংগঠনে রূপান্তর করা হবে এবং তিনি এর পরিচালনার দায়িত্ব পালন করবেন। পুতিনের ভাষায়, এটি সমর্থকদের শক্তিশালী একটি সংগঠন। এ ধরনের সংগঠন রাজনৈতিক জীবনে সত্যিকার অর্থে আরও বেশি সমর্থক তৈরী করতে সাহায্য করতে পারে। এমনটি মনে করছেন রাষ্ট্র বিজ্ঞানী লেওনিদ পালইয়াকোভ।

তিনি বলেছেন, ‘অল রাশিয়া পিপলস্ ফন্ট’ এর কার্যকারিতা হল এই সংগঠনটি নির্বাচনী প্রচারনায় অংশ নিয়ে থাকে। একে যদি সামাজিক সংগঠনে রুপ দেয়া হয় তাহলে এখানে হয়ত বা রাজনৈতিক দলের গন্ডির বাইর থেকেও মানুষ আসবে যিনি রাজনৈতিক লক্ষ্য নিয়েও কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবেন। ‘অল রাশিয়া পিপলস্ ফন্ট’ শুধুমাত্র পুতিনের সমর্থন যোগানোর হয়ত বা ক্ষেত্র হবে না বরং তা সুশীল নাগরিকদের একটি শক্তিতে পরিণত হবে।

এ ধরণের নাগরিক কমিটি যার একটি প্রতিনিধিত্ব করছেন সাবেক অর্থমন্ত্রী আলেক্সেই কুদরিন। সম্প্রতি কমিটির অভিষেক অনুষ্ঠানে

তিনি বলেছেন, সংগঠনের সমর্থন সত্যিকার অর্থেই ব্যাপক ভূমিকা পালন করবে। কমিটি ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি প্রকল্প তৈরী করেছে যে বিষয়ে এখন কাজ করা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে- উন্মুক্ত বাজেট, ন্যায্য আদালত, স্বচ্ছ পুলিশ ইত্যাদি। এরই

ধারাবাহিকতায় কমিটি শুধুমাত্র তাত্ত্বিক প্রশ্নাবলি নিয়ে কাজ করবে না বরং তা বাস্তবায়ন করার চেষ্টা চালাবে। এ কাজের জন্য বিভিন্ন পর্যায়ের পার্লামেন্ট দলগুলো ও সরকারের সাথে যৌথ সম্পর্ক সৃষ্টি করা হতে পারে। কুদরিন আরও বলছেন, কমিটির প্রস্তাবনাগুলো আমরা পার্লামেন্ট সদস্য, পার্টি ও সামাজিক সংগঠনের মাধ্যমে পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছি। একই সাথে সরকারি কাঠামোগুলতেও আমরা প্রস্তাবনা পাঠাবো. আমি মনে করি পুতিনের সাথে আমার সাক্ষাত অনুষ্ঠিত হবে, তবে আমাদের কাজের অন্যতম একটি মূলমন্ত্র হচ্ছে রুট পর্যায়ে কাজ করা।

আলেক্সেই কুদরিন উল্লেখ করেছেন, নাগরিক উদ্যোগ কেন বিরোধী দলীয় সংগঠন নয়। যদিও প্রস্তাবিত অনেক প্রকল্পগুলোকে বিরোধী দলীয় বলে মনে করা হতে পারে কারণ হচ্ছে সরকার যে ভুল সিদ্ধান্তগুলো নিয়েছে তার সংশোধনের জন্য ওই প্রস্তাব দেয়া হয়েছে।