বাংলাদেশে অনেকের কাছে রাশিয়া সম্পর্কে নানা তথ্য এখনও অজানা আছে। রেডিও রাশিয়ার বাংলা বিভাগের ওয়েবসাইট রাশিয়ার জীবন সম্পর্কে পরিচিতি লাভের কিছুটা সুযোগ করে দিচ্ছে। এমনটি মনে করছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রুশ ভাষা শিক্ষা বিভাগের শিক্ষিকা ইয়েলেনা বাসু। ঢাকায় রেডিও রাশিয়ার বাংলা বিভাগের ওয়েবসাইট ভিজিটরদের প্রথম দিনের সম্মেলনে তিনি সাইটের পরিব্যাপ্তি আরও বাড়াতে মতামত দেন। তিনি বলেন, ‘অনেক ভাল হত যদি ওয়েবসাইটে রুশ ভাষা শিক্ষার বিষয়টি সংযুক্ত করা হত, রুশি ক্লাসিক্যাল সাহিত্যিক ও কবিদের রচনাও থাকতে পারে। এছাড়া শিক্ষার্থীদের কাছে রুশি কবি যেমন- সেরগেই ইয়েসেনিন, আলেক্সান্দার পুশকিনসহ আরও অনেকে খুবই জনপ্রিয়। যেহেতু আমি রুশ ভাষার শিক্ষিকা তাই আমার কাছে এ ওয়েবসাইটের গুরুত্ব অনেক। আমার ইচ্ছে যে, সাইটে রাশিয়ার ইতিহাস সম্পর্কে আরও অনেক বেশি তথ্য থাকুক। আমি ছাত্রছাত্রীদেরকে সাইটটি নিয়মিত ভিজিট করতে বলব’ ।

রেডিও রাশিয়ার বাংলা বিভাগের প্রথম সম্মেলনে অংশ নিতে বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শ্রোতারা ঢাকায় ছুটে আসেন। এদের একজন হলেন আফজাল হোসেন। তিনি এসেছেন উত্তরবঙ্গের রাজশাহী বিভাগ থেকে। ঢাকায় আসতে তার ৫০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে হয়েছে। তিনি রেডিও রাশিয়ার প্রতিবেদককে বলেন, আমি এ সম্মেলনে অংশ নিতে খুবই আগ্রহী ছিলাম এবং আমার পরিচিতজনদেরকে এ সম্মেলনের ব্যাপারে অবহিত করেছি। আমাদের দেশে রেডিও রাশিয়ার এটিই প্রথম শ্রোতা সম্মেলন। আমাদের দুই দেশ ও নাগরিকদের জন্য একে আমি ঐতিহাসিক  ঘটনা বলে আখ্যায়িত করতে চাই। আমাদের অপর একজন শ্রোতা হলেন দিদারুল ইকবাল। সম্মেলন আয়োজনে তিনি নানাভাবে সাহায্য করেছেন। নিজের দেয়া সাক্ষাত্কারে তিনি বলেন, ‘আমি রেডিও রাশিয়ার কাছে খুবই কৃতজ্ঞ এবং নিজেকে খুব সৌভাগ্যবান মনে করছি। বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৪০ বছরের ইতিহাসে এটিই রেডিও রাশিয়ার প্রথম  সম্মেলন। আমি বাংলা বিভাগের ওয়েবসাইটের নিয়মিত ভিজিটর। শুধুমাত্র এই ওয়েবসাইটেই রাশিয়া ও বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়। রাশিয়ার মনোভাব জানার একমাত্র উপায় হল এ ওয়েবসাইট’।

গত ২৭ মার্চ ঢাকার রুশ বিজ্ঞান ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হওয়া সম্মেলনে নানা বয়সের অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন। অনেকেই পুরো পরিবারসহ সম্মেলনে অংশগ্রহন করেন। অনেকেই বাংলা বিভাগের ওয়েবসাইট সম্পর্কে নিজের মতামত প্রকাশ করতে চেয়েছেন। ভাইয়ের সাথে সম্মেলনে এসেছিলেন হামিদ পারভিন. তিনি বলেন, ‘আমি চাচ্ছিলাম যে, সাইটে মহিলাদের নিয়ে আলাদা কোন বিভাগ করা হোক। মহিলাদের ভাগ্য নির্ধারণ ও তাদের একই সমস্যা কিভাবে অন্য দেশের মহিলারা মোকাবিলা করে তা জানা যেতে পারে। আমরা রেডিও রাশিয়ার বাংলা বিভাগের ওয়েবসাইট নিয়মিত দেখে থাকি এবং এর জন্য মস্কো রেডিওর প্রতি কৃতজ্ঞ’ ।

সম্মেলনে অংশ নেওয়া শ্রোতাদের মধ্যে আরও যারা ওয়েবসাইট সম্পর্কে নিজের মতামত জানিয়েছেন তারা হলেন- সিলেটের শিমুল কুমার, ঢাকার ওবায়দুল মাসুদ, কুষ্টিয়ার রওশান আরা লাবন্য প্রমুখ। এরা সবাই বিভিন্ন পেশায় কর্মরত আছেন কিন্তু অবসর সময় রেডিও রাশিয়ার বাংলা বিভাগের ওয়েবসাইট ভিজিট করেন। ঢাকার ওবায়দুল মাসুদ বলেন, ‘আমার সাথে আমার স্ত্রী ওয়েবসাইট ভিজিট করেন। আমরা সাধারণ ভিজিটর নই, আমাদের যে বিষয়টি খুবই ভাল লাগে তা হল বিশ্বের সর্বশেষ ঘটনা সম্পর্কে দ্রুত সংবাদ পরিবেশন করা। এছাড়া আমরা ফেসবুকের ফ্যান পেজ নিয়মিত ভিজিট করি। একই সাথে আমরা চাচ্ছি যে, রেডিও সম্প্রচার যেন আবারও চালু হয়। আমাদের দেশের অনেক এলাকাতে এখনও ইন্টারনেট নেই। তাই রেডিও সম্প্রচার আবারও চালু হলে রেডিও রাশিয়ার শ্রোতা ও আপনাদের ওয়েবসাইট ভিজিটরদের সংখ্যাও বাড়বে’ ।

সম্মেলনে অংশগ্রহনকারীরা রেডিও রাশিয়ার ওয়েবসাইটে সক্রিয় ব্যবহারকারী নির্বাচন করার প্রতিযোগিতাকে সমর্থন জানিয়েছেন। বাংলা বিভাগের ওয়েবসাইট ও ফেসবুকে প্রকাশিত সংবাদ, প্রতিবেদন, ছবি ও ভিডিও কনটেন্টে সর্বোচ্চ মতামত প্রদানকারীদের বিজয়ী হিসেবে নির্বাচন করা হয়েছে। বাংলা বিভাগের ওয়েবসাইট ভিজিটরদের জন্য আয়োজিত এ প্রথম প্রতিযোগিতায় যারা বিজয়ী হয়েছেন তারা হলেন-  দেওয়ান রফিকুল ইসলাম, মাহফুজুর রহমান ও  আশরাফুল আলম। বাংলা বিভাগের সবার পক্ষ থেকে বিজয়ীদের অভিনন্দন জানাই।